দেখতে একেবারেই সাধারণ। হাতের মুঠোয় ধরলে মনে হবে আর পাঁচটা পুরনো ১০০ টাকার নোটের মতোই। কিন্তু দাম শুনলে চমকে উঠবেন যে কেউ। মাত্র তিনটি ১০০ টাকার নোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ টাকায়। অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। এই ঘটনার পর থেকেই ফের চর্চায় উঠে এসেছে পুরনো ভারতীয় টাকার নোটের বাজারমূল্য এবং নোট কালেক্টিংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা।
আজকের দিনে টাকার নোট শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা হয়ে উঠেছে দুর্লভ সংগ্রহযোগ্য সম্পদ (Rare Collectible Asset)। ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও ভারতীয় নোট ও কয়েনের জন্য তৈরি হয়েছে বিশাল কালেক্টর মার্কেট।
কেন এত দাম পেল এই তিনটি নোট?
এই নোটগুলোর আসল মূল্য লুকিয়ে রয়েছে তাদের সিরিয়াল নম্বরের মধ্যে। সম্প্রতি যে তিনটি ১০০ টাকার নোট এত বিপুল দামে বিক্রি হয়েছে, সেগুলির প্রত্যেকটির সিরিয়াল নম্বর ছিল অত্যন্ত বিরল ও আকর্ষণীয়।
নুমিসম্যাটিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব নোটে থাকে—
- প্যালিনড্রোমিক নম্বর (যেমন: 123321, 455454)
- সম্পূর্ণ রিপিটেটিভ নম্বর (যেমন: 111111, 222222)
- ধারাবাহিক নম্বর (যেমন: 123456, 654321)
- বিশেষ বিশ্বাসসংক্রান্ত নম্বর (যেমন: 786786)
- খুব কম ডিজিট বা একই ডিজিটের আধিক্য
সেই নোটগুলোর চাহিদা বাজারে আকাশছোঁয়া।
এই ধরনের সিরিয়াল নম্বর সাধারণত খুব কম সংখ্যক নোটে দেখা যায়। আর সেই বিরলতাই নোটগুলোর মূল্য কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ, এমনকি কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছে দিতে পারে।
কোথায় বিক্রি হচ্ছে এমন দামী নোট?
একসময় নোট বা কয়েন সংগ্রহ ছিল নিছক শখের বিষয়। কিন্তু এখন তা একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন মার্কেট। বর্তমানে এই ধরনের নোট বিক্রি হচ্ছে—
- অনলাইন নুমিসম্যাটিক ওয়েবসাইটে
- বিশেষ কালেক্টর ফোরাম ও নেটওয়ার্কে
- ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে (বিজ্ঞাপন বা নিলামের মাধ্যমে)
- সোশ্যাল মিডিয়ার কালেক্টর গ্রুপে
- আন্তর্জাতিক নিলাম হাউস ও সংগ্রাহকদের মাধ্যমে
বিশেষ করে বিদেশি কালেক্টরদের মধ্যে এখন ভারতীয় মুদ্রার প্রতি আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে স্বাধীন ভারতের প্রাথমিক সময়ের নোট ও কয়েন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক দামে বিক্রি হচ্ছে।
নোট কালেক্টিং কি সত্যিই বিনিয়োগের মাধ্যম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকনোট কালেক্টিং এখন আর শুধু শখ নয়, অনেকের কাছে এটি বিকল্প বিনিয়োগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। যেসব নোট—
- ভালো অবস্থায় আছে
- বিরল সিরিয়াল নম্বরযুক্ত
- সীমিত সংখ্যায় ছাপা
- নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক সময়ের
সেগুলোর দাম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে এটাও সত্যি যে, প্রতিটি পুরনো নোটই মূল্যবান নয়। বাজারমূল্য নির্ভর করে নোটের অবস্থা, বিরলতা, চাহিদা এবং ক্রেতার আগ্রহের ওপর।
আপনার কাছেও কি এমন দামী নোট থাকতে পারে?
এই ঘটনার পর অনেকেই বাড়ির আলমারি, পুরনো ব্যাগ বা লকার খুলে খুঁজে দেখছেন তাঁদের কাছে থাকা পুরনো নোটগুলো। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
- নোটের সিরিয়াল নম্বর ভালো করে দেখুন
- ভাঁজ, ছেঁড়া বা দাগ থাকলে দাম কমে যেতে পারে
- একই সিরিজের একাধিক নোট থাকলে মূল্য আরও বাড়তে পারে
একটি সাধারণ ১০০ টাকার নোটও যে আপনাকে লক্ষাধিক টাকা এনে দিতে পারে, তা এখন আর অসম্ভব নয়।
আইনি দিক থেকে কি নোট বিক্রি করা বৈধ?
এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন অনুযায়ী—
- যদি নোটটি বৈধ ভারতীয় মুদ্রা হয়
- কোনো জালিয়াতি বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়
- নোটের ডিজাইন বা গঠন পরিবর্তন করা না হয়
তাহলে নোট কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি, এই ধরনের লেনদেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
শেষ কথা
মাত্র তিনটি ১০০ টাকার নোটে ১২ লক্ষ টাকা পাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, সাধারণ জিনিসও কখনও কখনও অসাধারণ মূল্য বহন করতে পারে। তবে এই বাজারে প্রবেশ করার আগে সতর্কতা, যথাযথ যাচাই এবং আইনি বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।



