Sunday, November 30, 2025
Google search engine
Homeরাজ্যপাটকাকদ্বীপে আইনজীবীর চেম্বার থেকে উদ্ধার ল- কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ, চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে...

কাকদ্বীপে আইনজীবীর চেম্বার থেকে উদ্ধার ল- কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ, চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে !

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সাক্ষী রইল ভোররাতের নিস্তব্ধতা। স্থানীয় একটি আইনজীবীর চেম্বার থেকে উদ্ধার হল এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতা ল-কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সোনিয়া হালদার (২১)। ঘটনাটি ঘটেছে কাকদ্বীপ থানার অন্তর্গত প্রতাপাদিত্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়ার বাড়ি কাকদ্বীপের গান্ধীনগর অঞ্চলে। তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং ভবিষ্যতে একজন সফল আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই কারণেই প্রতিদিনের মতোই তিনি কাকদ্বীপ কোর্টের এক আইনজীবীর, শেখ মানোয়ার আলম-এর চেম্বারে প্র্যাকটিসের জন্য যেতেন।

কিন্তু গতকাল রাতে সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি থেকে স্বাভাবিক ভাবেই বেরিয়েছিলেন সোনিয়া। তারপর রাত গভীর হলে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা।

ভোররাত প্রায় চারটে নাগাদ খবর আসে— আইনজীবীর চেম্বারের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে সোনিয়ার দেহ।


📍 ঘটনাস্থলে উত্তেজনা, পুলিশের অভিযান

খবর পেয়ে প্রথমেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে আসে প্রতিবেশীরাও। দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়ে যান সকলে।

পরে কাকদ্বীপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে রজু করা হয়েছে, তবে পুলিশের বক্তব্য— মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়, তদন্ত চলছে।

এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, – “চেম্বারের ভিতর থেকে একটি প্রেমপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতার মোবাইল, ব্যাগ, এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।”


💌 ব্যাগ থেকে উদ্ধার প্রেমপত্র — নতুন মোড় তদন্তে

সোনিয়ার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি প্রেমপত্র নিয়েই এখন জোর জল্পনা। ওই চিঠিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, ওই আইনজীবীর সঙ্গেই সোনিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই সম্পর্ক থেকেই মানসিক চাপ বা প্রতারণার কারণে আত্মহত্যা করেছে তাঁদের মেয়ে।

সোনিয়ার বাবা বলেন, – “আমার মেয়ে আইনজীবীর কাছে প্র্যাকটিস শিখতে যেত। আমি ওকে অনেকবার সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু ও বিশ্বাস করত স্যারকে। এখন দেখুন, কী হল! এই মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, ওকে ফাঁসানো হয়েছে।”


🗣️ পরিবারের অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

পরিবারের পক্ষ থেকে শেখ মানোয়ার আলম-এর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা দাবি করেছেন, – “সোনিয়ার সঙ্গে ওই আইনজীবীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কিছুদিন ধরে দূরত্ব তৈরি হয়। সেই হতাশা থেকেই সোনিয়া আত্মহত্যা করেছে।”

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই আইনজীবী ঘটনার পর থেকেই চাপা উত্তেজনার মুখে পড়েছেন। তাঁর অফিস ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


🧑‍⚖️ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া

ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রতাপাদিত্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। স্থানীয়রা বলেন, – “ওই মেয়েটি নিয়মিত এখানে আসত, শান্ত স্বভাবের। হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটবে ভাবিনি। পুলিশ ঠিকভাবে তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।”

আরও এক বাসিন্দার মন্তব্য, – “আইনজীবীর চেম্বারে এমন ঘটনা অভূতপূর্ব। যদি কোনও অন্যায় হয়, তবে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”


🔍 পুলিশের তদন্তের দিক

কাকদ্বীপ থানার পুলিশ জানিয়েছে,

  • চেম্বারের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল।
  • প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হলেও, ঘটনাস্থলে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।
  • ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, – “মৃতার মোবাইল ফোনে কিছু চ্যাট ও কল রেকর্ড রয়েছে যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আইনজীবীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”


⚖️ আইনি প্রেক্ষাপট: অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা

পুলিশ U/S 174 CrPC (অস্বাভাবিক মৃত্যু) ধারায় মামলা রজু করেছে। সেই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, – “যদি প্রমাণিত হয় যে ওই আইনজীবীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তরুণী আত্মহত্যা করেছেন, তবে IPC 306 ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা হতে পারে।”


👩‍🎓 সোনিয়ার জীবনের শেষ অধ্যায় — প্রশ্ন অনেক

মাত্র ২১ বছর বয়সেই স্বপ্ন থেমে গেল সোনিয়ার। পরিবারের দাবি,- সোনিয়া ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। ল কলেজের প্রথম বর্ষে পড়তেন এবং সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করার ইচ্ছে ছিল প্রবল।

বন্ধুরা বলছে, – “ও হাসিখুশি মেয়ে ছিল। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওর মৃত্যু মানতে পারছি না।”


🕯️ শেষ কথা — উত্তর খুঁজছে পরিবার ও সমাজ

এই মৃত্যুর পেছনে আসল কারণ কী, তা এখন সময়ই বলবে। কিন্তু এক তরুণীর অকাল মৃত্যু সমাজে নতুন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।
একজন শিক্ষানবিশ ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় যদি সত্যিই ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ক্ষমতার প্রভাব বা মানসিক নিপীড়ন জড়িত থাকে, তবে সেটি কেবল এক পরিবারের ক্ষতি নয় — সমাজেরও এক গভীর ক্ষত।

পরিবারের এক আত্মীয় বলেন, – “আমরা শুধু ন্যায় চাই। যারা দোষী, তাদের শাস্তি হোক। আর কোনও মেয়েকে যেন এমন পরিণতি দেখতে না হয়।”

বর্তমানে কাকদ্বীপ থানার পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর আরও পরিষ্কার হবে মৃত্যুর প্রকৃতি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments