দেশের সাম্প্রতিক দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে এমন তথ্য যা সাধারণ মানুষ তো দূর, তদন্তকারীদেরও স্তম্ভিত করে দিচ্ছে। এবার কোনো সাধারণ অপরাধী নয়—জঙ্গি ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছেন পেশায় চিকিৎসকেরা। আর তাদের এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে ছিল ভারত থেকে বাংলাদেশ ও তুরস্ক পর্যন্ত!
🔴 কীভাবে ডাক্তাররা জড়ালেন জঙ্গি নেটওয়ার্কে ?
তদন্তে উঠে এসেছে কাশ্মীরের এক মৌলবী ইরফান–এর নাম, যাকে গোটা চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি শ্রীনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্যারামেডিক্যাল স্টাফ ছিলেন। সেই সময় থেকেই তরুণদের মধ্যে জইশ-ই-মোহাম্মদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন।
- জইশের ভিডিও দেখাতেন
- ভিডিও কলের মাধ্যমে আফগান হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যুক্ত করাতেন
- চিকিৎসা পড়ুয়াদের মনে “গাজওয়া-এ-হিন্দ”–এর ধারণা ঢুকিয়ে ‘স্লিপার সেল’ তৈরির চেষ্টা করতেন
দিল্লি বিস্ফোরণে গ্রেপ্তার মুজাম্মিল ও উমর, দুই চিকিৎসকই ছিল তার ছাত্র—এবং ‘বিশেষ পছন্দের’।
🔴 দেশজুড়ে হামলার ছক—তুরস্ক সফরেই মিলেছিল নির্দেশ ?
তদন্তকারীরা পেয়েছেন আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—
মুজাম্মিল ও আদিল এই বছরের শুরুতে তুরস্কে গিয়েছিল, যেখানে তাদের সঙ্গে দেখা করেন বিদেশি হ্যান্ডলাররা। এতে স্পষ্ট যে, চক্রটি আন্তর্জাতিক মদত নিয়ে কাজ এগোচ্ছিল।
বাংলাদেশের সংযোগও তদন্তে উঠে এসেছে, যদিও ঢাকার তরফে তা অস্বীকার করা হয়েছে।

🔴 মহিলা চিকিৎসকদের চ্যাটে ৪০০ লাইন জঙ্গি যোগাযোগ !
ধৃত দুই নারী চিকিৎসকের মোবাইল থেকে উদ্ধার হয়েছে দীর্ঘ চ্যাট ইতিহাস। তাতে দেখা গেছে—
- ফান্ড ট্রান্সফারের তথ্য
- নিরাপদ জায়গা নিয়ে আলোচনা
- সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা
- ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিদেশ থেকে টাকা পাওয়ার রেকর্ড
এতে পরিষ্কার, শিক্ষিত পেশাজীবীদের ব্যবহার করে ‘হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক’ তৈরি করা হচ্ছিল।
🔴 লক্ষ্য ছিল প্রজাতন্ত্র দিবসে বড় বিস্ফোরণ :
জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে আরও ভয়ংকর তথ্য—
- লক্ষ্য ছিল প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান
- লালকেল্লায় রেইকি করে গিয়েছিল অভিযুক্তরা
- দিওয়ালিতেও নাকি বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল
কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা কার্যকর করা যায়নি।
🔴 তদন্তে প্রকাশ—দেশজুড়ে ছড়ানো ছিল নেটওয়ার্ক :
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বলেছেন, “এই নেটওয়ার্কের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে হবে।”
তদন্তকারীরাও ইতিমধ্যেই বহু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে পেয়েছেন।



