ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হলো নতুন আলোচনা। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের একবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করলেন। শুধু প্রশংসাই নয়, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন—আগামী বছর তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। এই একটি মন্তব্যই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে ঘিরে নতুন জল্পনা শুরু করেছে।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন—“প্রধানমন্ত্রী মোদী একজন গ্রেট ম্যান, দুর্দান্ত মানুষ এবং আমার খুব ভালো বন্ধু।” আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মুখে মোদীর এ ধরনের ভূয়সী প্রশংসা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে এবং তারা মনে করছেন, ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে।
⭐ মোদীর সিদ্ধান্তে খুশি ট্রাম্প
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ট্রাম্প বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। ট্রাম্প বলেন—“মোদী রাশিয়া থেকে তেল কেনা অনেকটাই বন্ধ করেছেন। এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।” তাঁর মতে, এটি শুধু মার্কিন নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, জ্বালানি নীতি এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণে ভারত-আমেরিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
⭐ ভারত সফরের মঞ্চ কি প্রস্তুত ?
ট্রাম্প জানান—“মোদী চান আমি ভারতে যাই। আমিও সেটা নিয়ে ভাবছি। হয়তো আগামী বছরই যাব।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই লালবাতি বাড়ির ভিতরে ও বিদেশ মন্ত্রকে আলোচনার ঝড় উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, সফরটি যদি সত্যিই হয়, তাহলে তা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে কোয়াড সামিটে যোগ দিতে ট্রাম্পের ভারতে আসার কথা ছিল। কিন্তু আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্কনীতির জেরে সেই সফর স্থগিত হয়ে যায়। এবার তিনি যে পুনরায় সফর বিবেচনা করছেন, তা দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতিই নির্দেশ করছে।

⭐ ট্রাম্প-মোদী বন্ধুত্ব আবারও আলোচনায়
বিশ্বের রাজনৈতিক মহলে মোদী ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রসায়ন বহুদিন ধরেই আলোচিত। ২০২০ সালে আহমেদাবাদে “নমস্তে ট্রাম্প” ইভেন্ট তাদের বন্ধুত্বকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
এবার “গ্রেট ম্যান মোদী” বলে সম্বোধন করে ট্রাম্প যেন আবারও সেই বন্ধুত্বের ইঙ্গিত দিলেন।
⭐ বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক—যেখানে ফোকাস বেশি
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সাম্প্রতিক শুল্কনীতির কারণে তা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল।
ট্রাম্প এদিন স্পষ্ট জানান:
“Trade talks are ongoing. We want a fair and balanced deal with India.”
এটি স্পষ্ট করে যে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি আরও জোরদার পথে এগোতে পারে।
কৌশলগত দিক থেকেও ভারত ও আমেরিকা বর্তমানে পরস্পরের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। বিশেষত ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী মনোভাবের মোকাবিলায় দুই দেশই সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

⭐ ভারত সফর হলে কী কী হতে পারে ?
সূত্র অনুসারে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফরে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে আলোচনা হতে পারে—
- দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি
- প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
- সাইবার সুরক্ষা
- গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠন
- জ্বালানি সরবরাহ ও প্রযুক্তি বিনিয়োগ
- জলবায়ু পরিবর্তন নীতি
এছাড়া, কোয়াড অ্যালায়েন্সকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
⭐ পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতিবাচক সংকেত বলে মনে করছে। তাদের মতে, সফরটি হলে তা হবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।
বিশেষত যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনর্গঠনের পর্যায়ে রয়েছে, তখন ভারত ও আমেরিকার যৌথ সহযোগিতা আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
⭐ উপসংহার
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক প্রশংসা নয়; বরং এটি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর ভারত সফর হলে তা নিঃসন্দেহে হবে দক্ষিণ ব্লক ও হোয়াইট হাউস উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন শুধু অপেক্ষা—আগামী বছর এই সফর বাস্তবে রূপ নেয় কিনা।



