Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তি১৭ বছরের ছাত্র বানাল AI রোবট ‘সোফি’! এবার কলেজে পড়াবে মানবাকৃতির শিক্ষক...

১৭ বছরের ছাত্র বানাল AI রোবট ‘সোফি’! এবার কলেজে পড়াবে মানবাকৃতির শিক্ষক রোবট !

Humanoid Robot India : ভারতের প্রযুক্তি দুনিয়া আবারও তাক লাগিয়ে দিল এক কিশোর। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র নিজের হাতেই তৈরি করে ফেলেছে মানবাকৃতির এআই রোবট—যার নাম ‘সোফি’। আরও অবাক করা বিষয় হল, এই রোবট এখন শিক্ষিকার ভূমিকায় কলেজে গিয়ে ক্লাসও নিচ্ছে! ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন পড়েছে। প্রযুক্তিপ্রেমীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও চমকে গিয়েছেন এমন উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখে।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের শিবচরণ ইন্টার কলেজে। এখানকার এক ছাত্র, আদিত্য কুমার, নিজের আগ্রহের বশেই তৈরি করেছে এই এআই শিক্ষক রোবট। রোবটটির চেহারা সম্পূর্ণ মানবাকৃতির—মাথা, হাত, মুখের অভিব্যক্তি, এমনকি পরনে গোলাপি শাড়ি-ব্লাউজও নজর কাড়ছে। প্রথম দেখায় রোবটটিকে প্রকৃত শিক্ষিকা মনে হতেই পারে।

সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোবট ‘সোফি’ নিজেই কথা বলতে শুরু করে। সে বলে—
“আমি এআই টিচার রোবট সোফি। আমাকে তৈরি করেছে আদিত্য কুমার। আমি শিবচরণ ইন্টার কলেজে ক্লাস নিই। তোমরা কি আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাও?”

এরপর আদিত্য প্রশ্ন করে, দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে? সঙ্গে সঙ্গে সোফি সঠিক উত্তর দেয়— “ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।”
আরেকটি প্রশ্নে—দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী—জবাবে বলে, “পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু।”

রোবটের এই নির্ভুল উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা দেখে উপস্থিত শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক সবাই অবাক হয়ে যান। কলেজের ক্লাসরুমে এই রোবটকে ঘিরে চলে এক অনানুষ্ঠানিক ডেমো সেশন। সেখানে সোফির কথাবার্তা, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, এবং শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ—সবই স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

🔧 কীভাবে তৈরি হল এই এআই রোবট ?

আদিত্য জানায়, সে রোবট তৈরির জন্য উন্নতমানের এলএলএম (Large Language Model) চিপসেট ব্যবহার করেছে—যা সাধারণত বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে ব্যবহৃত হয়। নিজের সীমিত বাজেট, উপকরণ এবং প্রচুর সময় ব্যয় করেই সে এই রোবটকে দাঁড় করিয়েছে।

এ মুহূর্তে রোবটটি প্রধানত ভয়েস ইন্টারঅ্যাকশন করতে পারে—অর্থাৎ কথা বলা ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। কিন্তু আদিত্যর পরিকল্পনা আরও বড়। সে জানায়, খুব শিগগিরই সোফিকে দিয়ে হাতে কলমেও লেখানোর ব্যবস্থা করছে। তার জন্য প্রয়োজনীয় সেন্সর ও মোটর সংযুক্ত করার কাজ চলছে।

👨‍🏫 শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

কলেজের শিক্ষকরা আদিত্যর প্রতিভায় মুগ্ধ। সবাই বলছেন—দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের পক্ষে এমন উন্নত প্রযুক্তির রোবট তৈরি করা সত্যিই বিস্ময়কর। শিক্ষক মহলে এখন আলোচনায়—এআই কি ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে?

অনেকে মনে করছেন, রোবট হয়তো পুরোপুরি মানুষের জায়গা নেবে না, তবে পড়ানোর নানা ধাপে সহায়ক হিসেবে AI শিক্ষক ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখবে। তথ্য সরবরাহ, দ্রুত প্রশ্নোত্তর, গণিত বা সায়েন্সের জটিল অংশ ব্যাখ্যা—এসব ক্ষেত্রে এআই টিচার সময়ের সঙ্গে আরও কার্যকর হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

📌 সম্ভাবনা ও উদ্বেগ—দুইয়েরই সমাহার

টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, আদিত্যর এই সৃষ্টি ভারতের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রযুক্তিপ্রীতি ও উদ্ভাবনী মানসিকতার একটি সুন্দর উদাহরণ। অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন—এখনও দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রোবট শিক্ষক পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জের। আর্থিক ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা—সবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—আদিত্যর এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতের শিক্ষা কাঠামো কেমন হতে পারে তার একটি ঝলক দেখাচ্ছে। এমনকি এই রোবট আরও উন্নত হলে দেশজুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে এর বিশাল প্রভাব পড়তে পারে।

শেষ কথা

মাত্র ১৭ বছরের এক ছাত্রের হাতে জন্ম নিয়ে রোবট ‘সোফি’ আজ দেশের কোটি মানুষের নজর কাড়ছে। মানবাকৃতির এই এআই শিক্ষিকার গল্প প্রমাণ করে—সঠিক আগ্রহ, প্রযুক্তি ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবও সম্ভব। এখন সবাই অপেক্ষায়—আদিত্যর সোফি ভবিষ্যতে আর কী নতুন চমক দেখাতে পারে!

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments