Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটতারাপীঠ মন্দিরে টাকার খেলা বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি, স্বস্তিতে পুণ্যার্থীরা !

তারাপীঠ মন্দিরে টাকার খেলা বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি, স্বস্তিতে পুণ্যার্থীরা !

Strict action by the administration at Tarapith Temple : তারাপীঠ মন্দিরে প্রতিদিন হাজারো ভক্তের ঢল নামে। মা তারার দর্শনের জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল—মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ বা বিশেষ পুজো করার জন্য অনেকসময় মোটা টাকা দাবি করা হতো। ফলে সাধারণ পুণ্যার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল, কারণ টাকা না দিলে তাঁদের পক্ষে বিশেষ পুজো বা দ্রুত দর্শন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। অব্যবস্থাপনা, ধাক্কাধাক্কি, বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি অভিযোগ উঠছিল গোপন টাকার খেলা নিয়েও।

এই পরিস্থিতি বদলাতে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নতুন নির্দেশিকা ও নিয়মকানুন জারি করে মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।


সাধারণ মানুষের হয়রানির ছবি

অভিযোগ অনুযায়ী, সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পুণ্যার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। তীব্র ভিড়ের চাপে অনেক সময় ধাক্কাধাক্কি, বচসা এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটত। অন্যদিকে, টাকার বিনিময়ে কিছু মানুষকে সহজেই গর্ভগৃহে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো বলে দাবি করেন অনেকেই।
মন্দির চত্বরে প্রতিদিনই সৃষ্টি হত বিশৃঙ্খলা, আর সেই পথ থেকে বের হতে চাইছিলেন সাধারণ মানুষ।


নতুন ব্যবস্থা — প্রশাসনের কড়া নজরদারি

পূর্বতন জেলাশাসক বিধান রায় এই বিশৃঙ্খলা রুখতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম চালু করেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল—

  1. দিনের প্রথম এক ঘণ্টা শুধুই সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য বরাদ্দ।
  2. বিশেষ লাইনে ঢুকতে নির্দিষ্ট কুপন বাধ্যতামূলক।
  3. গর্ভগৃহে প্রবেশের পথে বিপরীত দিক দিয়ে আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।
  4. স্থানীয় বাসিন্দারা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশ-ছাড় পেতেন।

কিছুদিন এই নিয়ম মানা হলেও ধীরে ধীরে ফের আগের মতোই টাকার বিনিময়ে পুজো দেওয়ার প্রথা শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আবারও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।


আবারও কঠোর প্রশাসন – নতুন করে নির্দেশ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রামপুরহাটের মহকুমা শাসক রাঠোর অশ্বিনী বাবুসিংহ মন্দিরের সেবাইতদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।
বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—

  • আগের সমস্ত নিয়মই হুবহু মানতে হবে
  • কোনওভাবেই ‘টাকার খেলা’ চলবে না
  • গর্ভগৃহে অঞ্জলি বা শৃঙ্গার পুজো আপাতত বন্ধই থাকবে
  • পুণ্যার্থীরা মা তারার চরণে বাইরে থেকেই অর্পণ করবেন
  • প্রতি মাসে মন্দির কমিটির সঙ্গে রিভিউ মিটিং বাধ্যতামূলক
  • নিয়ম ভাঙা হলে প্রশাসন সরাসরি ব্যবস্থা নেবে

প্রশাসনের এই দৃঢ় অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফেরাতে সাহায্য করছে।


পুণ্যার্থীদের স্বস্তি: “ইচ্ছামতো নিয়ম ভাঙার দিন শেষ হোক”

পুণ্যার্থীদের বড় অংশ দাবি করে এসেছে—মন্দিরে বারবার নিয়ম তৈরি হলেও সেগুলো বাস্তবে মানা হয় না।
মোবাইলে গর্ভগৃহের ছবি তোলা নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক সেবাইত সেই নিয়ম অমান্য করেছেন বলেও অভিযোগ। ফলে মানুষের বিশ্বাস ক্রমে নষ্ট হচ্ছিল।

নতুন করে প্রশাসনের কঠোরতা দেখে অনেকেই আশাবাদী। তাঁদের মতে—

“মায়ের মন্দিরে যেন টাকা দেখেই বিচার না হয়। সবার সমান সুযোগ থাকুক, সেটাই চাই।”


ক্রমবর্ধমান ভিড় ও তারাপীঠের গুরুত্ব

তারাপীঠ এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের তীর্থভক্তদের একটি প্রধান গন্তব্য।
পুণ্যার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক কড়াকড়ি ছাড়া উপায় নেই।
প্রতিদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে সঠিক নিয়ম প্রয়োগ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।


সামনে কী?

যদিও প্রশাসন এখন অত্যন্ত কড়া, তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও প্রচলিত কিছু অনিয়ম পুরোপুরি রোধ করা কতটা সম্ভব — সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—
তারাপীঠ মন্দিরের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকুক, কোনওভাবেই যেন আবারও টাকার খেলা ফিরে না আসে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments