Nostradamus, 2026 Predictions : ২০২৬ সাল নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে এক অদ্ভুত আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে। নতুন বছর শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি, আর এরই মধ্যে নানান মহলে আলোচনা—২০২৬ কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনাবর্ষ হতে পারে? বিভিন্ন ভবিষ্যৎবাণী, বিশেষ করে নস্ত্রাদামুসের লেখা ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে মানুষের মধ্যে শোরগোল আরও বেড়েছে। কেউ মনে করছেন ঘটনাগুলি নিছক কল্পকাহিনি, আবার কেউ ভয় পাচ্ছেন যে অতীতে বহু ঘটনার মতো এ বারও নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হতে পারে।
নতুন বছরের আগে আতঙ্ক—২০২৬ কি অশুভ হবে?
নতুন বছর ঘনিয়ে এলে সাধারণ মানুষ যেমন আশার আলো খোঁজেন, তেমনই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কৌতূহলও বাড়ে। সেই কৌতূহল থেকেই মানুষ নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে তাকায়, যিনি ১৬শ শতকে লিখে গিয়েছিলেন অসংখ্য ভবিষ্যৎ ঘটনা কবিতার আকারে। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর লেখা বহু ভবিষ্যদ্বাণী ইতিহাসে হুবহু মিলেছে বলেই দাবি করেন গবেষকরা—যেমন লন্ডনের মহা অগ্নিকাণ্ড, ফরাসি বিপ্লব, নেপোলিয়ন ও হিটলারের উত্থান, বিশ্বযুদ্ধ, হিরোসিমা–নাগাসাকির ঘটনা, ৯/১১ হামলা ইত্যাদি।
এই কারণেই অনেকে মনে করছেন, তাঁর অদ্ভুত ও আধ্যাত্মিক ভবিষ্যদ্বাণীগুলির মধ্যে যে সব ভবিষ্যৎ সংকটের উল্লেখ রয়েছে, তার কিছু হয়তো ২০২৬-ই সামনে আনবে।

বিশ্বজুড়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা
অনেক নস্ত্রাদামুস বিশারদ মনে করেন, তাঁর কিছু কবিতায় পূর্ব দিকের এক ভয়াবহ সংঘর্ষের আভাস পাওয়া যায়। তাঁদের ব্যাখ্যায় পূর্ব বিশ্বে কোনও সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়ে পরবর্তীতে তা পশ্চিমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আজকের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই কথাগুলি শুনে অধিকাংশ মানুষই মনে করছেন—এটি হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত।
ইউরোপ–এশিয়া জুড়ে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, শক্তিধর দেশগুলির ক্ষমতার লড়াই, জোটবদল ও পরমাণু অস্ত্রের স্টক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার মিল পাওয়ায় মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সাত মাস দীর্ঘ এক যুদ্ধ—নস্ত্রাদামুসের ইঙ্গিত?
অন্য আরেকটি ভবিষ্যৎবাণীতে নাকি উল্লেখ রয়েছে দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা এক বিধ্বংসী যুদ্ধের। গবেষকরা মনে করেন এটি বড় মাপের সংঘর্ষের দিকে ইঙ্গিত করে, যা বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অনেকে বলছেন, এই ভবিষ্যৎবাণীই মানুষের মনে “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ” ভয়ের জন্ম দিয়েছে।

২০২৬ সালে মহাকাশে রহস্যজনক ঘটনা?
নস্ত্রাদামুসের ব্যাখ্যা করা আরেকটি ভবিষ্যৎবাণীতে বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসের দিকে এক বিশাল আকৃতির মহাকাশীয় বস্তুর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কথা। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন এটি কোনও মহাকাশযান, অ্যাস্টেরয়েড বা অজানা কোনও জ্যোতির্বস্তু হতে পারে। যদিও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই দাবি পুরোপুরি প্রমাণিত নয়, তবুও মানুষ আতঙ্কে ভুগছে—২০২৬-এ কি পৃথিবী বড় কোনও মহাজাগতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে?
ভারত, চিন ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার উত্থান
নস্ত্রাদামুসের ব্যাখ্যাকারীরা দাবি করেন, তাঁর ভবিষ্যৎবাণীতে তিনটি শক্তিধর রাষ্ট্রের দ্রুত উত্থানের উল্লেখ রয়েছে। এই তিনটি রাষ্ট্র হলো—
- ভারত
- চিন
- দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ
বর্তমান বাস্তবতা দেখলে এই ব্যাখ্যা মিলেও যায়।
চিন ইতিমধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে শীর্ষে। ভারত দ্রুত উন্নতির পথে—প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও বিশ্ব রাজনীতিতে দেশের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে।
অনেকেই মনে করছেন, ২০২৬ থেকে বিশ্বশক্তির কেন্দ্র পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে সরতে শুরু করবে। বিশ্বব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের বছরই হতে পারে ২০২৬।

ভবিষ্যদ্বাণী—বিশ্বাস না অবিশ্বাস?
নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীগুলি নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। কেউ মনে করেন তাঁর লেখা কবিতাগুলিতে এতটাই অস্পষ্টতা থাকে যে যে কোনও ঘটনা সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা যায়। আবার অনেকে দৃঢ়ভাবে দাবি করেন—বহু ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলেছে।
ভবিষ্যৎ কী আনবে, তা আজও অজানা। তবে এতটুকু নিশ্চিত—২০২৬ সালকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ, ভয় এবং কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে। সত্যিই কি কিছু ভয়াবহ ঘটতে চলেছে, নাকি এগুলি নিছক মানুষের ভয়? সেই উত্তর সময়ই দেবে।



