ভারতে আধার কার্ড প্রতিটি নাগরিকের পরিচয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নথি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আধার সংক্রান্ত পরিষেবা নেওয়ার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নিকটবর্তী আধার সেন্টারের দ্বারস্থ হন। এই বাড়তে থাকা চাহিদার ফলে এখন আধার সেন্টার চালু করে স্থায়ী ও সম্মানজনক আয়ের এক বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো—সরকারের তরফে আধার সেন্টার খোলার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, এবং উপযুক্ত যোগ্যতা থাকলে আপনিও খুব সহজেই এই পরিষেবা চালু করতে পারেন।
⭐ আধার সেন্টার খোলার সুযোগ কেন এত জনপ্রিয়?
আধার সেবা কেন্দ্র খুললে আপনি শুধু নিজের ব্যবসাই শুরু করেন না, এর মাধ্যমে আপনার এলাকায় থাকা সাধারণ মানুষও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবা সহজেই পেতে পারে। আধার আপডেট, নতুন আধার তৈরি, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন—এ ধরনের নানা কাজের নিয়মিত চাহিদা থাকার কারণে এই পরিষেবা থেকে মাসে ৩০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হয় খুব কম বিনিয়োগ, একটি ছোট অফিস রুম এবং নির্দিষ্ট কিছু ডিভাইস।
⭐ আধার সেন্টার খোলার জন্য যোগ্যতা
UIDAI-এর নির্দেশ অনুযায়ী আধার সেন্টার পরিচালনা করতে কিছু মৌলিক যোগ্যতা থাকা জরুরি—
- ন্যূনতম দশম শ্রেণি পাস
- কম্পিউটার চালানো, ইমেল ব্যবহারের বেসিক জ্ঞান
- ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষতা
- UIDAI অনুমোদিত Aadhaar Supervisor/Operator Exam-এ উত্তীর্ণ হতে হবে
- অফিসে রাখতে হবে—কম্পিউটার, প্রিন্টার, ওয়েবক্যাম, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, আইরিস স্ক্যানার ইত্যাদি
এই যন্ত্রগুলোর দাম বেশি নয় এবং একবার কিনলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়, তাই ব্যবসা শুরুর খরচ তুলনামূলকভাবে কম।

⭐ Aadhaar Supervisor/Operator Exam কীভাবে দেবেন?
আধার সেন্টার খোলার প্রথম এবং বাধ্যতামূলক ধাপ হলো UIDAI-এর নির্ধারিত পরীক্ষায় পাস করা। এই পরীক্ষা NSEIT সংস্থা পরিচালনা করে।
পরীক্ষা দেওয়ার ধাপগুলো—
- NSEIT-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
- “Create New User” অপশনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করুন
- নিজের নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিন
- লগইন করে পরীক্ষার স্লট বুক করুন
- নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফি পরিশোধ করুন
- UIDAI-এর গাইডলাইন এবং প্র্যাকটিস সেট পড়ে প্রস্তুতি নিন
- পরীক্ষায় পাস করলে আপনি পাবেন সার্টিফিকেশন, যা লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়
⭐ CSC রেজিস্ট্রেশন কেন দরকার?
আধার সেন্টার চালাতে হলে আপনার CSC (Common Service Centre) রেজিস্ট্রেশন থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রক্রিয়াটি—
- CSC পোর্টালে গিয়ে নতুন ইউজার হিসেবে রেজিস্টার করতে হবে
- আপনার ছবি, ডকুমেন্ট ও ডিজিটাল সিগনেচার আপলোড করতে হবে
- সব তথ্য যাচাইয়ের পর আপনার ইমেল ও মোবাইলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চলে আসবে
এই আইডি দিয়ে CSC পোর্টালে লগইন করে Aadhaar Services সক্রিয় করা যায়।
⭐ Aadhaar Franchise বা Aadhaar Seva Kendra চালু করার ধাপ
- NSEIT পরীক্ষায় পাস করুন
- CSC পোর্টালে রেজিস্টার করুন
- Aadhaar টেস্টিং পোর্টালে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন
- UIDAI কর্তৃক অনুমোদন পেলে আপনার Aadhaar Seva Kendra সক্রিয় হয়ে যাবে
- এরপর নির্দিষ্ট বায়োমেট্রিক কিট ইনস্টল করে পরিষেবা শুরু করা যাবে
এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ফ্রি—সরকার বা UIDAI কোনো ধরনের ফ্রাঞ্চাইজি ফি নেয় না।

⭐ আধার সেন্টার থেকে কীভাবে আয় হয়?
আধার সেন্টারের আয়ের উৎস মূলত গ্রাহকদের পরিষেবা ফি। প্রতিদিন যত বেশি মানুষ পরিষেবা নেবে, তত বেশি আপনার উপার্জন বাড়বে। সাধারণভাবে—
- নতুন আধার কার্ড : ৫০–১০০ টাকা
- আধার তথ্য আপডেট : ৩০–৫০ টাকা
- বায়োমেট্রিক কাজের জন্য অতিরিক্ত ফি পাওয়া যেতে পারে
যদি প্রতিদিন গড়ে ৫০–১০০ গ্রাহক পরিষেবা নেন, তাহলে মাসিক আয় সহজেই ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা হতে পারে। এলাকাভেদে ও কাজের পরিমাণ অনুযায়ী এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
আধার সেন্টার খোলা মানে শুধুই আয় করা নয়—এটি একটি সামাজিক পরিষেবা, যার মাধ্যমে মানুষ তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় নথি সহজেই আপডেট করতে পারে। কম বিনিয়োগে স্থায়ী আয়ের সুযোগ এবং সরকারের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এই ব্যবসাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
তবে মনে রাখবেন—এই পুরো তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা চাকরির প্রতিশ্রুতি আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় না।



