বর্ষশেষের আনন্দে নতুন সাজে সেজে উঠতে চলেছে সৈকত সুন্দরী দীঘা। বড়দিন ও বর্ষবরণের টানা উইকএন্ডকে কেন্দ্র করে সমুদ্র শহরে পর্যটকদের ঢল নামবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রশাসন থেকে শুরু করে হোটেল মালিক—সকলেই এখন প্রস্তুত ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য। তবে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা, আগাম হোটেল বুকিং না করলে পছন্দের হোটেল পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইতিমধ্যেই অর্ধেক হোটেল বুকিং সম্পূর্ণ
দীঘা ও নিউ দীঘার হোটেল সূত্রে খবর, এখনও ডিসেম্বর মাস পুরোপুরি শুরু না হলেও প্রায় ৫০ শতাংশ হোটেল রুম আগেই বুক হয়ে গিয়েছে। হোটেল মালিকদের দাবি, ২৫ ডিসেম্বরের আগেই প্রায় সব খালি রুম বুক হয়ে যাবে। বিশেষ করে বড় হোটেল, সমুদ্রের ধারে থাকা রিসোর্ট এবং পারিবারিক পর্যটকদের পছন্দের হোটেলগুলিতে আর খুব বেশি রুম খালি নেই।
এই কারণে শেষ মুহূর্তে দীঘা পৌঁছে হোটেল খোঁজার চেষ্টা করলে পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
নিউ দীঘায় প্যাকেজ অফারে পর্যটক টানার চেষ্টা
পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নিউ দীঘার বেশ কিছু হোটেল এবার বিশেষ ইয়ার এন্ড প্যাকেজ চালু করেছে। এই প্যাকেজগুলিতে সাধারণত—
- কাপল ও ফ্যামিলির থাকা
- খাবারের ব্যবস্থা
- নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট খরচ
এই সবকিছু মিলিয়ে একটি ফিক্সড চার্জ নেওয়া হচ্ছে। হোটেল মালিকদের বক্তব্য, এই প্যাকেজে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক ক্ষেত্রে মাথাপিছু ভাড়ার তুলনায় কম পড়ছে, ফলে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটকদের মধ্যে এই প্যাকেজগুলির চাহিদা বাড়ছে।
এবার ভিড় আরও বাড়বে, কারণ জগন্নাথ মন্দির
হোটেলিয়ারদের একাংশের মতে, গত বছর বর্ষশেষে যে পরিমাণ ভিড় দীঘায় দেখা গিয়েছিল, এবছর তা ছাড়িয়ে যাবে। এর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে নতুন সংযোজন—দীঘার জগন্নাথ মন্দির।
নতুন এই ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে শুধুমাত্র সমুদ্র উপভোগ নয়, ভক্তদের মধ্যেও দীঘার প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। ফলে পর্যটকের সংখ্যা যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

অগ্রিম বুকিং না করলে বাড়তে পারে খরচ
হোটেল মালিকদের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আগাম বুকিং না করে দীঘায় এলে ছুটির আনন্দ মাটি হয়ে যেতে পারে। ভিড়ের কারণে—
- হোটেল নাও পাওয়া যেতে পারে
- পছন্দের হোটেল মিলবে না
- কম মানের হোটেলে বেশি টাকা দিতে হতে পারে
বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে রুম পাওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হতে পারে, যা পর্যটকদের বাজেটের বাইরে চলে যেতে পারে।
কালোবাজারি রুখতে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ
প্রতিবছর উৎসবের মরসুমে দীঘায় হোটেল ভাড়া বাড়ানো নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এই বছর সেই সমস্যা রুখতেই জেলাপ্রশাসন ও হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হোটেল ভাড়া সংক্রান্ত একটি লিফলেট বুক ছাপানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির হোটেলের নির্দিষ্ট ভাড়ার উল্লেখ রয়েছে। এই ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা
দীঘা-সংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র জানিয়েছেন,
“কোনও হোটেল যদি নির্ধারিত ভাড়ার থেকে বেশি টাকা নেয়, পর্যটকরা অভিযোগ জানালেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর ফলে পর্যটকদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের অনুরোধ করা হয়েছে, রসিদ ছাড়া কোনও লেনদেন না করতে এবং কোনও অনিয়ম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ জানাতে।
পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
বর্ষশেষে দীঘা বেড়াতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—
- সম্ভব হলে অনলাইনে বা সরাসরি আগাম হোটেল বুকিং করুন
- প্যাকেজের শর্ত ভালো করে জেনে নিন
- হোটেল ভাড়ার নির্ধারিত তালিকা দেখে নিন
- অতিরিক্ত টাকা চাইলে অভিযোগ জানাতে দ্বিধা করবেন না
সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বর্ষশেষের ছুটি সত্যিই হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়।



