Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাট১০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করল ইউনুস সরকার

১০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করল ইউনুস সরকার

দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করল বাংলাদেশ। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করল ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকে হাজির হতে বলা হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনাকে ঘিরে নয়াদিল্লিতে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হলেও, কূটনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই তলব মোটেই নিছক প্রশাসনিক নয়, বরং এর পিছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে—আর সেই বার্তা যে পাকিস্তানমুখী, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞদের খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না।


কেন বারবার তলব করা হচ্ছে ভারতীয় হাইকমিশনারকে?

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশন ও ভিসা কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেই প্রণয় ভার্মাকে ডাকা হয়েছে। দিল্লি, কলকাতা-সহ একাধিক জায়গায় বাংলাদেশি কূটনৈতিক দপ্তরের নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকার তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি ভারত সরকার বাংলাদেশে অবস্থিত কয়েকটি ভিসা পরিষেবা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপের পরই ঢাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাষ্ট্রদূত তলব—এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


১০ দিনে দ্বিতীয়বার, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ষষ্ঠবার

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার এবং অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের আমলে মোট ছয়বার ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হলো। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বরও প্রণয় ভার্মাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল।

সেই সময় বাংলাদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়, ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলাকারীরা যাতে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। যদিও নয়াদিল্লি তখনও প্রকাশ্যে কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।


ইউনুস সরকার কি পাকিস্তানের প্রভাবেই চলছে?

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্ত কি আদৌ স্বাধীন, নাকি পরোক্ষভাবে ইসলামাবাদের ইঙ্গিতেই চলছে ঢাকা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক যেভাবে উষ্ণ হয়েছে এবং একইসঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেভাবে টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের স্পষ্ট মত,
“ইউনুস সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের ছায়া স্পষ্ট। ভারতকে বারবার কূটনৈতিক চাপে ফেলতে চাওয়াই এর উদ্দেশ্য।”


ভারতের অবস্থান: নীরব কিন্তু সতর্ক

যদিও এই ঘটনায় ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে কূটনৈতিক মহলে ক্ষোভ যে জমছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রীতি মেনে ভারত আপাতত সংযত অবস্থান বজায় রেখেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের একতরফা তলব ও চাপ সৃষ্টির কৌশল দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারত যে বিষয়টি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে, তা বলাই বাহুল্য।


দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোন পথে?

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই সম্পর্কের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিরাপত্তা, সীমান্ত, ভিসা পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।

বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে যদি বাংলাদেশ ভারতকে চাপে রাখার কৌশল নেয়, তবে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সুখকর হবে না—এমনটাই মত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।


১০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা নিছক কাকতালীয় নয়। এর পিছনে রয়েছে স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা ও শক্তির রাজনীতি। এখন দেখার বিষয়, ভারত এই পরিস্থিতির জবাব দেয় কোন পথে—নীরব কূটনীতি, না কি কৌশলগত কড়াকড়ি।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এই অধ্যায় যে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments