Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকসেভেন সিস্টার্স ভাগের ডাক বাংলাদেশের নতুন নেতাদের ! তার মাঝেই মনিপুরে তৈরি...

সেভেন সিস্টার্স ভাগের ডাক বাংলাদেশের নতুন নেতাদের ! তার মাঝেই মনিপুরে তৈরি হচ্ছে জঙ্গিদের নামে এই রাস্তা !

Manipur Terror Road : উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য—যাকে একসঙ্গে বলা হয় সেভেন সিস্টার্স—নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসছে বাংলাদেশের একাংশ কট্টরপন্থী মহল থেকে। ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থনের হুমকি এবং প্রকাশ্যে “সেভেন সিস্টার্স দখল”-এর ডাক—সব মিলিয়ে দিল্লির কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ঠিক এই আবহেই সামনে এসেছে মণিপুরের একটি অত্যন্ত গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

সংবেদনশীল মণিপুর রাজ্যের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়াই একটি রাস্তা নির্মাণ—এবং সেই রাস্তাগুলির নামকরণ করা হয়েছে জঙ্গিদের কোড নেমে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-র প্রতিবেদনে প্রকাশ, এই ঘটনার জেরে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) অবিলম্বে ওই রাস্তার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

জানা গিয়েছে, বিতর্কিত এই রাস্তা কোনও সরকারি প্রকল্প নয়। এটি মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের সহায়তায় তৈরি সরকার অনুমোদিত রিং রোডের সঙ্গে কোনওভাবেই সম্পর্কিত নয়। বরং বনাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকা কেটে গোপনে তৈরি করা হয়েছে একটি তথাকথিত ‘ফরেস্ট রিং রোড’, যা ছয়টি জেলা জুড়ে বিস্তৃত।

এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রথম সরব হয় মণিপুরের মৈতৈ সম্প্রদায়ের সুশীল সমাজ সংগঠন কোকোমি (KOKOMI)। তাদের করা পিটিশনের ভিত্তিতেই NGT জানায়, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা কিংবা বন দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই এই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

কিন্তু এখানেই শেষ নয় চাঞ্চল্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই রাস্তার একাধিক অংশের নাম রাখা হয়েছে ‘জার্মান রোড’ এবং ‘টাইগার রোড’। উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘জার্মান’ ও ‘টাইগার’ নাম দুটি কুকি জঙ্গি গোষ্ঠীর পরিচিত কোড নেম হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,

“রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া এভাবে জঙ্গলের মধ্যে জঙ্গিদের নামে রাস্তা তৈরি হওয়া শুধুমাত্র মণিপুরেই সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে।”

NGT-এর পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, এই রাস্তা চুড়াচাঁদপুর, কাংপোকপি, ননি ও উখরুল জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, রাস্তা নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা ছিল কুকি সম্প্রদায়ের কিছু গোষ্ঠীর। এমনকি অভিযোগ, এই রাস্তা উদ্বোধন করেছিলেন সাইকুলের এক বিধায়ক, যা রাজনৈতিক মহলেও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ হল—এই রাস্তাটি গোপন করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই পথ ব্যবহার করেই অবৈধ মাদক পাচার, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের লেনদেন এবং অবৈধ অভিবাসীদের যাতায়াত চলছিল। অর্থাৎ, মণিপুরের বুকে কার্যত তৈরি করা হচ্ছিল একটি ছায়া-নেটওয়ার্ক।

এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী নেতারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে তারা ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলিকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। একই সময়ে খালিস্তানি জঙ্গি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন উত্তর-পূর্ব ভারতে তথাকথিত ‘ট্রাম্পল্যান্ড’ নামে একটি আলাদা খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের দাবি তুলে বিকৃত মানচিত্র পোস্ট করেন।

এই সমস্ত ঘটনা একসঙ্গে দেখলে প্রশ্ন উঠছে—
👉 মণিপুর কি শুধুই জাতিগত সংঘাতের শিকার একটি রাজ্য, নাকি এর আড়ালে চলছে বড় কোনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র?
👉 বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মদত, আর পেছনে চীনের কৌশলগত সমর্থন—সব মিলিয়ে কি উত্তর-পূর্ব ভারতকে অস্থির করার ছক কষা হচ্ছে?

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে মণিপুরে মৈতৈ ও কুকি জনজাতির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। সংরক্ষণ, ভূমি অধিকার এবং প্রশাসনিক সার্ভে ঘিরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এখনও পর্যন্ত কয়েকশো সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। বাফার জোন তৈরি করে দুই জনজাতিকে আলাদা এলাকায় রাখা হলেও পুরোপুরি শান্তি ফেরেনি।

এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে জঙ্গিদের নামে রাস্তা নির্মাণের ঘটনা নিঃসন্দেহে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর সতর্কবার্তা। প্রশ্ন এখন একটাই—
👉 এই আগ্রাসন ঠেকাতে কী আরও কড়া পদক্ষেপ নেবে মোদী সরকার?
👉 মণিপুর কি হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতির নতুন কেন্দ্র?

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments