Muhammad Yunus Controversy : বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নাম নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে যেমন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চর্চা চলছে, তেমনই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিবাহ এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন।
এক সময় যাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের মুখ হিসেবে দেখা হত, সেই ইউনূস আজ বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে। কিন্তু ক্ষমতার কাছাকাছি এলেই যেমন হয়, তাঁর অতীত ও ব্যক্তিগত জীবনও এখন জনআলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রথম বিয়ে: বিদেশে পড়াশোনার সময় প্রেম, তারপর বিচ্ছেদ
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম বিবাহ হয় ১৯৭০ সালে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে গিয়ে তাঁর পরিচয় হয় রুশ নাগরিক ভেরা ফোরেস্টেনকো-র সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, এবং প্রায় তিন বছরের সম্পর্কের পর দু’জনের বিয়ে হয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে ইউনূস ও ভেরা একসঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। শুরুতে তাঁদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক বলেই জানা যায়। ১৯৭৭ সালে তাঁদের কন্যা মোনিকা ইউনূস-এর জন্ম হয়। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপড়েন বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত ভেরা বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে চলে যান—তখন মোনিকার বয়স মাত্র কয়েক মাস। পরে ইউনূস ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। মোনিকার শৈশব কেটেছে বাবার উপস্থিতি ছাড়াই—এমন দাবিও বহু জায়গায় উঠে এসেছে।
দ্বিতীয় বিয়ে: পশ্চিমবঙ্গের যোগ, ‘বাংলার জামাই’ ইউনূস?
ড. ইউনূসের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে যাঁর নাম সামনে আসে, তিনি হলেন আফরোজি বিবি। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জের বাসিন্দা। সেই সূত্রে রাজনৈতিক মহলে ইউনূসকে নিয়ে ‘বাংলার জামাই’ বলেও আলোচনা শোনা যায়।
আফরোজি বিবি ছিলেন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের গবেষক। সেখানেই ইউনূসের সঙ্গে তাঁর আলাপ এবং সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। বিয়ের পর তিনি বাংলাদেশে এসে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত হন।
এই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান রয়েছে—ডিনা আফরোজ ইউনূস। জানা যায়, তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করেন।

একাধিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক? মিডিয়ায় কেন এই আলোচনা
এখানেই শেষ নয়। ড. ইউনূসের নাম জড়িয়ে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুঞ্জন ও অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে উঠে এসেছে। যদিও এগুলির কোনওটিই আদালত বা সরকারি ভাবে প্রমাণিত নয়।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলির মধ্যে রয়েছেন—
🔹 নুরজাহান বেগম
গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নুরজাহান বেগম ১৯৭০-এর দশক থেকেই ইউনূসের ঘনিষ্ঠ মহলে ছিলেন বলে দাবি করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর তাঁকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এই নিয়োগের পরেই দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।
🔹 সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের উপদেষ্টা। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মহলে তাঁকে ইউনূসের ‘বিশ্বাসভাজন’ বলেই দেখা হয়।
🔹 লামিয়া মোরশেদ
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান লামিয়া মোরশেদ। এই নিয়োগ নিয়েও নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন উঠেছে, যদিও সরকারিভাবে কোনও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত নয়।
রাজনীতি, ব্যক্তিজীবন ও অস্থির বাংলাদেশ
বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। এক বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর প্রশাসনিক মেয়াদে দেশ একাধিকবার অশান্তির মুখে পড়েছে।
- অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপড়েন
- সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
- ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি
- সামনে জাতীয় নির্বাচন
সব মিলিয়ে ইউনূসের বাংলাদেশ এখন এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে ওঠা বিতর্ক ও গুঞ্জন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। যদিও সমর্থকদের দাবি—ব্যক্তিগত জীবন নয়, ইউনূসের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত মূল বিচার্য।



