Operation Sindoor : পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া যে পাকিস্তানকে কতটা চাপে ফেলেছিল, তা নিয়ে এতদিন নানা মহলে তর্ক চলছিল। কেউ বলছিল ভারতের আঘাত তেমন কার্যকর ছিল না, আবার কেউ দাবি করছিল পাকিস্তানই নাকি ভারতকে বড় ক্ষতি করেছে। কিন্তু বছরের শেষে এসে সেই বিতর্কে কার্যত ইতি টানলেন খোদ পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যেই স্পষ্ট—অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের জন্য ছিল ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্ন।
পাকিস্তানের বছরের শেষের ভাষণে ইশাক দার ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, তাতে ইসলামাবাদের দুর্দশার ছবি কার্যত নিজেই এঁকে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
অপারেশন সিঁদুর: পাকিস্তানের স্বীকারোক্তি
ইশাক দারের দাবি অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনা প্রায় ৮০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তান সেই হামলার “বেশিরভাগ প্রতিহত” করতে পেরেছে—এমন দাবি করলেও, তাঁর বক্তব্যের বাকি অংশেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে পরিস্থিতি আদৌ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
ইশাক দার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, ভারতের হামলার তীব্রতা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ থামাতে দুটি বিদেশি শক্তিকে সরাসরি দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানাতে হয়েছিল ইসলামাবাদকে।
কেন ছুটে এসেছিল বিদেশি শক্তি?
পাক উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও এবং সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান—দু’জনেই ভারত-পাক সংঘাত থামাতে উদ্যোগী হন।
ইশাক দারের দাবি,
- ১০ মে সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কো রুবিও
- এরপর সৌদি বিদেশমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানও যোগাযোগ করে ভারতের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চান
দু’জনেই নাকি ইশাক দারকে জানান, ভারত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি।
তবে এখানেই ভারতের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। নয়াদিল্লি জানিয়ে দেয়—কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করা হয়নি। ভারত আরও জানায়, অপারেশন শেষও হয়নি, বরং তা এখনও কৌশলগত ভাবে চলমান।

পহেলগাঁও কাণ্ডের পর কী ঘটেছিল?
২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ধর্ম জিজ্ঞেস করে ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় বাসিন্দাকে খুন করে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরই ভারত কৌশলগতভাবে বড় সিদ্ধান্ত নেয়।
৬ মে গভীর রাতে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনা যৌথভাবে
- বাহাওয়ালপুর
- মুরিদকে
- সহ পাকিস্তানের মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়
ভারতের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গি নিহত হয়।
এর পাল্টা হিসেবে পাকিস্তান সীমান্তে শেলিং শুরু করে। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে ভারতের কমপক্ষে ১৬ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান।
সংঘাত চরমে, তারপর ভারতীয় পাল্টা আঘাত
সংঘাত যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়, তখন ১০ মে ভোররাতে ভারতীয় বায়ুসেনা বড়সড় পাল্টা আঘাত হানে।
এই হামলায় পাকিস্তানের
- ১১টি সামরিক ঘাঁটি
- রাডার সিস্টেম
- কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার
- রানওয়ে ও হ্যাঙ্গার
ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাকিস্তানের একটি সি-১৩০ শ্রেণির পরিবহণ বিমান ধ্বংস হওয়ার কথাও উঠে আসে বিভিন্ন রিপোর্টে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় বায়ুসেনা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে একটি AEW&C অথবা SIGINT বিমান ধ্বংস করেছিল, যা পাকিস্তানের নজরদারি ক্ষমতাকে বড় ধাক্কা দেয়।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিতর্ক
এই সংঘাত থামানো নিয়ে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, তিনিই নাকি ভারত-পাক যুদ্ধ থামিয়েছেন। কিন্তু ভারত সেই দাবি একেবারেই মানেনি।
নয়াদিল্লির বক্তব্য স্পষ্ট—
দু’দেশের সামরিক স্তরের দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান বরাবরের মতোই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার কথা তুলে ধরেছে। ইশাক দারের বক্তব্যে পরিষ্কার, ইসলামাবাদ তখন পরিস্থিতি সামলাতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের দ্বারস্থ হয়েছিল।
অপারেশন সিঁদুর ২.০ হলে কী হবে?
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—
যদি অপারেশন সিঁদুর ২.০ শুরু হয়, তাহলে পাকিস্তানের অবস্থা কী হবে?
ভারত বারবার প্রমাণ করেছে, সে প্রতিটি উস্কানির সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয় না। কিন্তু যখন দেয়, তখন তা হয় হিসেবি, কৌশলগত এবং বিধ্বংসী। সম্ভবত সেই কারণেই প্রতিবেশী দেশগুলির উস্কানিমূলক মন্তব্যে ভারত অনেক সময় নীরব থাকে।
ইশাক দারের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে প্রতিষ্ঠা করল।



