X handle income : নতুন বছরের শুরুতেই সোশাল মিডিয়া দুনিয়ায় বড় চমক দিলেন ইলন মাস্ক। তাঁর ইঙ্গিত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইউটিউবের থেকেও বেশি উপার্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে ‘এক্স’ (প্রাক্তন টুইটার) প্ল্যাটফর্মে। এই ঘোষণার পর থেকেই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। যাঁরা এখনও ‘X’-এ নিজের অ্যাকাউন্ট খোলেননি, তাঁদের জন্য এটাই হতে পারে সেরা সময়। কারণ ঠিক পরিকল্পনা ও মানসম্পন্ন কনটেন্ট থাকলে, একটিমাত্র এক্স হ্যান্ডেল থেকেই খুলে যেতে পারে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের দরজা।
কিন্তু সত্যিই কি ইউটিউবের বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে এক্স? কীভাবে হবে এই আয়? কারা সুযোগ পাবেন? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
সোশাল মিডিয়া এখন শুধুই বিনোদন নয়, আয়ের বড় মাধ্যম
বর্তমান যুগে সোশাল মিডিয়া মানেই শুধু সময় কাটানো নয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব—এই প্ল্যাটফর্মগুলো ইতিমধ্যেই বহু মানুষের পূর্ণকালীন আয়ের উৎস। লক্ষ লক্ষ মানুষ নিয়মিত ভিডিও, রিল, শর্টস বা পোস্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। এতদিন পর্যন্ত আয়ের দৌড়ে ইউটিউব ছিল সবার থেকে এগিয়ে। বিজ্ঞাপন, সুপারচ্যাট, মেম্বারশিপ—সব মিলিয়ে ইউটিউব ক্রিয়েটরদের জন্য ছিল সবচেয়ে লাভজনক প্ল্যাটফর্ম।
অন্যদিকে এক্স (X) এতদিন মূলত খবর, মতামত ও টেক্সটভিত্তিক কনটেন্টের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই পরিচিত ছিল। এখানে আয়ের সুযোগ থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। সাধারণভাবে এক্স-এ মনিটাইজেশনের জন্য প্রয়োজন হতো—
- কমপক্ষে ৫০০ ফলোয়ার
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রায় ৫ মিলিয়ন ইমপ্রেশন
- এক্স প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন
- আরও কিছু নীতিমালা পূরণ
এই কারণেই অনেক ক্রিয়েটর এক্স-কে মূল আয়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভাবতেন না।
ইলন মাস্কের ইঙ্গিতেই বদলে গেল সমীকরণ
সম্প্রতি এক ইউজারের মন্তব্যের উত্তরে ইলন মাস্ক ইঙ্গিত দেন যে, এক্স-এর পেমেন্ট ও মনিটাইজেশন সিস্টেম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে ক্রিয়েটররা ইউটিউবের থেকেও বেশি আয় করতে পারেন। শুধু তাই নয়, তিনি এক্স-এর প্রোডাক্ট হেড নিকিতা বিয়েরকে এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
এই মন্তব্যের পর থেকেই সোশাল মিডিয়া দুনিয়ায় আলোড়ন পড়ে যায়। বহু ক্রিয়েটর নতুন করে এক্স-এ কনটেন্ট তৈরি শুরু করেছেন। কারণ মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের মনিটাইজেশন মডেল আরও ক্রিয়েটর-ফ্রেন্ডলি ও স্বচ্ছ হতে চলেছে।
কীভাবে কাজ করবে এক্স-এর নতুন আয় ব্যবস্থা?
ইলন মাস্ক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন সিস্টেমে ভুয়ো এনগেজমেন্ট, বট, ফেক ভিউ বা কেনা ফলোয়ার কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অর্থাৎ—
- আসল ভিউ
- বাস্তব ফলোয়ার
- কনটেন্টের গুণমান
- অর্গানিক এনগেজমেন্ট
এই সব কিছুর উপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে ক্রিয়েটরদের আয়। এর ফলে প্রকৃত কনটেন্ট নির্মাতারা বেশি লাভবান হবেন এবং কৃত্রিমভাবে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এক্স-এ আয়ের উৎস হতে পারে—
- বিজ্ঞাপন রেভিনিউ শেয়ার
- সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক কনটেন্ট
- সরাসরি পেমেন্ট বা টিপস
- দীর্ঘ ভিডিও ও লাইভ কনটেন্টের মনিটাইজেশন
যদি এই সব পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে এক্স ধীরে ধীরে ইউটিউবের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।
নতুন ক্রিয়েটরদের জন্য কেন এটি বড় সুযোগ?
যাঁরা এখন নতুন করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হতে চান, তাঁদের জন্য ইউটিউবে প্রবেশ করা আগের তুলনায় অনেক কঠিন। প্রতিযোগিতা বেশি, নিয়ম কঠোর। সেই তুলনায় এক্স এখনও তুলনামূলকভাবে নতুন মাঠ। এখানে ভালো আইডিয়া ও ধারাবাহিক কনটেন্ট থাকলে অল্প সময়েই বড় অডিয়েন্স তৈরি করা সম্ভব।
বিশেষ করে—
- নিউজ ও বিশ্লেষণ
- টেক ও ফাইন্যান্স
- মতামতভিত্তিক কনটেন্ট
- শর্ট ভিডিও ও থ্রেড
এই ধরনের কনটেন্ট এক্স-এ দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
সত্যিই কি ইউটিউবকে ছাপিয়ে যাবে এক্স?
এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই—ইলন মাস্কের এই ইঙ্গিত বাস্তবে কতটা রূপ পায়? কারণ ঘোষণা আর বাস্তবায়নের মধ্যে অনেক সময় ফারাক থাকে। তবে এটুকু নিশ্চিত, এক্স যে ক্রিয়েটরদের জন্য বড় কিছু পরিকল্পনা করছে, তা আর অস্বীকার করার জায়গা নেই।
যদি প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এক্স কেবল একটি সোশাল মিডিয়া নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আয়ের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
শেষ কথা
আপনি যদি এখনও এক্স-এ অ্যাকাউন্ট না খুলে থাকেন, তাহলে এখনই শুরু করার এটাই সঠিক সময়। নিয়মিত মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করলে ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই বড় অঙ্কের আয় সম্ভব হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, ভিউ কেনা বা ফেক এনগেজমেন্ট নয়—আসল কনটেন্টই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি।



