Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথাদেশের রাস্তায় অনিরাপদ ও বিমাহীন গাড়ির দাপট কমাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে...

দেশের রাস্তায় অনিরাপদ ও বিমাহীন গাড়ির দাপট কমাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার !

Motor Vehicle Act Amendment : দেশের রাস্তায় অনিরাপদ ও বিমাহীন গাড়ির দাপট কমাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং লাগাতার ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা রুখতেই মোটর ভেহিক্যাল আইনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে। সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই নতুন ‘মোটর ভেহিক্যাল সংশোধনী বিল’ পেশ ও পাশ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে খবর।

এই প্রস্তাবিত সংশোধনীতে একদিকে যেমন সাধারণ চালকদের জন্য কিছু স্বস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তেমনই বারবার আইন ভাঙা চালকদের জন্য থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। বিশেষ করে যাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স গত তিন বছরের মধ্যে একবারও বাতিল হয়েছে, তাঁদের জন্য আসছে সবচেয়ে কড়া নিয়ম।

সংসদে আসছে নতুন মোটর ভেহিক্যাল সংশোধনী বিল

আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাজেট অধিবেশনেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি উত্থাপিত হতে পারে। পরিবহণ মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য তিনটি—

  1. সড়ক দুর্ঘটনা কমানো
  2. অনিরাপদ ড্রাইভিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া
  3. বিমাহীন গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো

বর্তমানে দেশে লক্ষ লক্ষ গাড়ি, বিশেষ করে দুই চাকার যানবাহন, বৈধ বিমা ছাড়াই রাস্তায় চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনের কড়াকড়ি বাড়ানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই বলেই মনে করছে কেন্দ্র।

লাইসেন্স রিনিউয়ালে বড় স্বস্তি ৬০ বছরের নিচে চালকদের জন্য

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি বয়স হলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে বা রিনিউ করতে গেলে মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন সংশোধনীতে সেই বয়সসীমা ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ—

  • ৬০ বছরের নিচে কোনও চালককে আর লাইসেন্স নবীকরণের সময় আলাদা করে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিতে হবে না
  • বারবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে টাকা খরচ করার ঝামেলা কমবে
  • সাধারণ চালকদের সময় ও অর্থ—দুটোই সাশ্রয় হবে

রাজ্য পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের মতে, এই মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ব্যবস্থায় সরকারের কোনও আর্থিক লাভ হত না। বরং সাধারণ মানুষকেই বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হত। নতুন নিয়মে সেই হয়রানি অনেকটাই কমবে।

বিমা প্রিমিয়ামে যুক্ত হবে চালানের ইতিহাস

এই সংশোধনীতে মোটর ভেহিক্যাল আইনের ১৪৭ নম্বর ধারা সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা IRDAI-কে বেস প্রিমিয়াম ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে।

নতুন ব্যবস্থায়—

  • গাড়ির বয়স
  • চালকের চালান ও ট্রাফিক আইন ভাঙার ইতিহাস

এই দুই বিষয় বিবেচনা করে বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হতে পারে। অর্থাৎ, যাঁরা বারবার ট্রাফিক আইন ভাঙেন, তাঁদের বিমার খরচও বাড়তে পারে।

পরিবহণ মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ড্রাইভারের আচরণের সঙ্গে বিমা প্রিমিয়াম যুক্ত করাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য। চালানের ইতিহাস থেকেই বোঝা যায়, একটি গাড়ি কতটা নিরাপদ ভাবে চালানো হচ্ছে।”

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে নতুন কড়া নিয়ম

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে মোটর ভেহিক্যাল আইনের ৯ নম্বর ধারায়, যা ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবীকরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • যাঁদের চালানের ইতিহাসে অনিরাপদ ড্রাইভিংয়ের প্রমাণ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং টেস্ট এড়ানোর সুযোগ থাকবে না
  • বর্তমানে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে রিনিউ করলে ড্রাইভিং টেস্ট প্রয়োজন হয় না, সেই ছাড় বাতিল হতে পারে

এর ফলে লাইসেন্স পাওয়া বা নবীকরণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর হবে।

তিন বছরে লাইসেন্স বাতিল হলে ফের লাইসেন্স নয়

সবচেয়ে কড়া নিয়মটি এখানেই। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী—

  • গত তিন বছরের মধ্যে যদি কোনও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স একবারও বাতিল হয়ে থাকে
  • তাহলে ভবিষ্যতে সেই চালককে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে

অর্থাৎ, একবার লাইসেন্স বাতিল হলে তা আর সহজে ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

জরিমানা না মেটালে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাতিল

নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে—

  • ট্রাফিক আইন ভেঙে ধার্য জরিমানা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না মেটালে
  • সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে

জরিমানা না দেওয়া পর্যন্ত সেই গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না। এই বিধান কার্যকর হলে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা যে বহুগুণ বাড়বে, তা নিয়ে আশাবাদী পরিবহণ দফতর।

শেষ কথা

শিথিলতা ও কড়াকড়ির সঠিক সমন্বয়েই নতুন মোটর ভেহিক্যাল সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে। সাধারণ চালকদের অযথা হয়রানি কমানো যেমন লক্ষ্য, তেমনই লাগাতার আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াও কেন্দ্রের অগ্রাধিকার। এই সংশোধনী কার্যকর হলে দেশের রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে—এমনটাই আশা সরকারের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments