Saraswati Puja Vastu : মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় সরস্বতী পুজো। এই তিথিতেই শাস্ত্র মতে ব্রহ্মার মুখ থেকে আবির্ভূতা হন বিদ্যা, জ্ঞান ও বুদ্ধির দেবী মা সরস্বতী। বাগদেবীর আরাধনায় জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি, বাক্পটুতা, সৃজনশীলতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিল্পী, শিক্ষক, গবেষক—সকলের কাছেই এই পুজোর গুরুত্ব অপরিসীম।
কিন্তু অনেকেই অজান্তেই সরস্বতী পুজোর সময় এমন কিছু ভুল করে বসেন, যার ফলে পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে মা সরস্বতীকে কোন দিকে বসিয়ে পুজো করা উচিত আর কোন দিকে একেবারেই নয়, তা না জানলে বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী রুষ্ট হতে পারেন। বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষ মতে, দেবী প্রতিষ্ঠার দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🕉️ মা সরস্বতী কোন দিকে বসালে সবচেয়ে শুভ?
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব (ঈশান) দিক সরস্বতী পুজোর জন্য সবচেয়ে শুভ বলে বিবেচিত। এই দিকগুলিকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ইতিবাচক শক্তির উৎস বলা হয়। উত্তর দিক কুবেরের দিক এবং উত্তর-পূর্ব দিক ঈশ্বরীয় শক্তির প্রবাহের কেন্দ্র বলে ধরা হয়।
👉 বিশ্বাস করা হয়, এই দিকে মা সরস্বতীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করলে—
- সন্তানের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ে
- স্মৃতিশক্তি ও বোঝার ক্ষমতা উন্নত হয়
- পরীক্ষায় সাফল্যের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়
- শিল্প ও সৃষ্টিশীল কাজে উন্নতি ঘটে
বিশেষ করে যেসব বাড়িতে ছাত্রছাত্রী রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🚫 কোন দিকে বসিয়ে সরস্বতী পুজো করা উচিত নয়?
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে মুখ করে মা সরস্বতীকে বসানো বা সেই দিকে বসিয়ে পুজো করা শুভ নয় বলে মনে করা হয়। দক্ষিণ দিক যমের দিক এবং পশ্চিম দিক স্থবির শক্তির প্রতীক। এই দিকগুলিতে দেবী স্থাপন করলে—
- পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে
- অস্থিরতা ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে
- বিদ্যাচর্চায় বাধা আসতে পারে
এই কারণেই বলা হয়, ভুল দিকেই বসালে অজান্তেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
🪷 মূর্তি বা ছবির ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো জরুরি?
বাস্তুশাস্ত্র বলছে, পদ্মফুলের উপর বসে থাকা মা সরস্বতীর মূর্তি বা ছবি সবচেয়ে শুভ। দেবীর মুখাবয়ব যেন শান্ত, স্নিগ্ধ ও প্রসন্ন হয়—সেদিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে।
❌ ভাঙা, ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি বা ছবি কখনও বাড়িতে রাখা উচিত নয়।
বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে ঘরে নেতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে এবং বিদ্যাক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়।
📚 পুজোর সময় বই-খাতা রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মা সরস্বতীর সামনে বই, খাতা, কলম, ডায়েরি, বাদ্যযন্ত্র বা সঙ্গীতের উপকরণ রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এর মাধ্যমে দেবীর কাছে নিজের শিক্ষা ও সৃজনশীলতার উন্নতির প্রার্থনা জানানো হয়।
তবে মনে রাখতে হবে—
✔️ পুজোর স্থান অবশ্যই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হতে হবে
❌ অপরিষ্কার বা অগোছালো জায়গায় পুজো করলে পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না বলে বিশ্বাস
🧘♀️ সরস্বতী পুজোর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
- পুজোর দিন হালকা রঙের পোশাক, বিশেষ করে সাদা বা হলুদ রঙ পরা শুভ
- পুজোর সময় মন শান্ত রাখা ও নেতিবাচক চিন্তা এড়িয়ে চলা উচিত
- পুজোর দিন পড়াশোনা না করলেও বই-খাতা স্পর্শ করে প্রণাম করা শুভ
- ছোটদের দিয়ে দেবীর সামনে হাতেখড়ি দেওয়ার প্রথা প্রচলিত
⚠️ শেষ কথা
মা সরস্বতীর পুজো শুধুই আচার নয়, এটি জ্ঞান ও চেতনার আরাধনা। বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষ অনুযায়ী সঠিক নিয়ম মেনে পুজো করলে তার সুফল বহু গুণে বৃদ্ধি পায়। তবে মনে রাখতে হবে, এই সমস্ত বিষয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় মতের উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। কাউকে এগুলি মানতে বাধ্য করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
বিশ্বাস, ভক্তি ও সচেতনতার সঙ্গে পুজো করলেই মা সরস্বতীর কৃপা লাভ করা সম্ভব।



