Republic Day Security : প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে দেশজুড়ে জারি হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে একাধিক বড় শহর, ধর্মীয় স্থান, পর্যটন কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাকে ঘিরে আঁটসাঁট নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা দেশ। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, জঙ্গি সংগঠনগুলি উৎসব ও জাতীয় দিবসকে লক্ষ্য করে নাশকতার ছক কষতে পারে—এই আশঙ্কাকে মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে বড় শহরের গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও ধর্মীয় স্থানগুলিকে সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা মহলে আলোচনা চলছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও হুমকির তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবুও আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবেই বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
🤖 নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংযোজন হল AI-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা, ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অপরাধীকে চিহ্নিত করা এবং আগাম সম্ভাব্য বিপদের ইঙ্গিত পাওয়ার মতো কাজ করা সম্ভব হবে।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, AI সিস্টেমগুলি—
- ভিড়ের মধ্যে মুখ চিনে ফেলতে পারবে
- ওয়াচলিস্টে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে
- সন্দেহজনক আচরণ বা গতিবিধি চিহ্নিত করতে পারবে
- রিয়েল টাইমে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠাবে
এর ফলে কোথায় বসে দুষ্কৃতীরা কী পরিকল্পনা করছে বা কোন এলাকাকে টার্গেট করা হতে পারে—সে বিষয়ে আগাম ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
🛕 কোন কোন স্থান ঘিরে বাড়তি সতর্কতা?
গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, অযোধ্যার রাম মন্দির ও জম্মুর রঘুনাথ মন্দিরের মতো উচ্চ-নিরাপত্তা ধর্মীয় স্থানগুলিতে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ও পরে এই সমস্ত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু-সহ একাধিক মেট্রো শহরে—
- গুরুত্বপূর্ণ মন্দির
- রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর
- মেট্রো স্টেশন
- সরকারি ভবন ও কূটনৈতিক এলাকা
এই সব জায়গায় নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।
🕵️♂️ গোয়েন্দা সংস্থার নজরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মও
শুধু মাঠে নয়, ডিজিটাল দুনিয়াতেও কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে উগ্রপন্থী প্রচার, ভুয়ো খবর ছড়ানো বা উসকানিমূলক পোস্টের উপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রে অভিযোগ, কিছু নিষিদ্ধ সংগঠন ও ছায়া গোষ্ঠী অনলাইনে হুমকি বার্তা ছড়িয়ে যুবকদের উগ্রপন্থার দিকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের কনটেন্ট দ্রুত চিহ্নিত করে সরানো এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
👓 দিল্লিতে AI স্মার্ট চশমার ব্যবহার
দিল্লি পুলিশ এবার প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ব্যবহার করছে AI-এনাবেল স্মার্ট চশমা। এই বিশেষ চশমাগুলিতে রয়েছে ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম, যা সরাসরি পুলিশের ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত।
পুলিশ আধিকারিকদের মতে—
- ভিড়ের মধ্যেই মুখ স্ক্যান করা যাবে
- কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরিচয় মিলবে
- পলাতক বা সন্দেহভাজনদের দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে
এই প্রযুক্তি ব্যবহারে মানবিক ভুল কমবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে দাবি পুলিশের।
🚧 সীমান্ত ও জাতীয় সড়কে কড়া তল্লাশি
প্রজাতন্ত্র দিবস নির্বিঘ্নে পালন নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায়, জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সীমানায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে—
- যানবাহন তল্লাশি
- পরিচয়পত্র যাচাই
- ড্রোন ও সিসিটিভি নজরদারি
নিরাপত্তা বাহিনীর একটাই লক্ষ্য—যে কোনও ধরনের নাশকতার ছক আগেভাগেই নস্যাৎ করা।
🇮🇳 শেষ কথা
প্রজাতন্ত্র দিবস শুধুমাত্র একটি জাতীয় উৎসব নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। সেই দিন যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। আধুনিক AI প্রযুক্তি, মানব গোয়েন্দা তথ্য এবং কড়া মাঠ পর্যায়ের নজরদারির মাধ্যমে শত্রুদের সমস্ত পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়াই এখন লক্ষ্য।



