Rinku Singh : টি-২০ ক্রিকেটে শেষ কয়েকটি ওভারই ঠিক করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। তখন এক একটি বল যেন চাপের পাহাড়, এক একটি শট হয়ে ওঠে জয়ের চাবিকাঠি। ঠিক এমনই এক সন্ধ্যায়, ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন— ডেথ ওভারে রিঙ্কু সিং মানেই ভরসা। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে প্রতিপক্ষকে কার্যত ম্যাচের বাইরে ছুড়ে ফেলে দিলেন টিম ইন্ডিয়ার এই নির্ভীক ফিনিশার।
নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৮ রানের দাপুটে জয় পেল ভারত। এই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান যাঁর, তিনি রিঙ্কু সিং। শুরুটা যখন একেবারেই মসৃণ ছিল না, তখন শেষদিকে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি।
কঠিন পরিস্থিতিতে রিঙ্কুর আগমন
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ইনিংস মাঝপথেই ধাক্কা খায়। দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় রান তোলার গতি মন্থর হয়ে যায়। ঠিক সেই সময় ক্রিজে আসেন রিঙ্কু সিং। তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল দ্বিমুখী— একদিকে উইকেট বাঁচিয়ে রাখা, অন্যদিকে শেষ ওভারগুলিতে ঝড় তোলা।
আর এখানেই নিজেকে আলাদা করে দিলেন তিনি। শুরুতে পরিস্থিতি বুঝে খেললেও, ডেথ ওভার শুরু হতেই যেন রিঙ্কুর ব্যাটে আগুন লেগে যায়। শেষ ২০ বলে অপরাজিত থেকে ৪৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। এই ইনিংসে ছিল একের পর এক দৃষ্টিনন্দন চার ও বিশাল ছক্কা, যা দর্শকদের আসন ছাড়তে বাধ্য করে।
ডেথ ওভারে চার-ছক্কার বন্যা
নিউজিল্যান্ডের বোলাররা শেষ দিকে কোনও রকম রণকৌশলই কাজে লাগাতে পারেননি। জ্যাকব ডাফি, কাইল জেমিসন, মিচেল স্যান্টনারদের মতো অভিজ্ঞ বোলাররাও রিঙ্কুর সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। শেষ কয়েক ওভারে যেভাবে তিনি লাইন-লেন্থ ভেঙে দেন, তাতে ভারতের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ২৩৮ রানে— যা কার্যত ম্যাচ জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে জ্যাকব ডাফি ও কাইল জেমিসন দু’টি করে উইকেট নিলেও, শেষের ধাক্কা সামলানোর মতো কোনও উত্তর তাদের কাছে ছিল না। একটি করে উইকেট পান ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধি।
সংখ্যায় রিঙ্কু সিংয়ের ডেথ ওভার আধিপত্য
শুধু এই ম্যাচ নয়, পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কেন রিঙ্কু সিংকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম ভয়ংকর ফিনিশার বলা হয়। এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৯ ও ২০ নম্বর ওভার মিলিয়ে তিনি খেলেছেন মোট ৭৪টি বল। এই বলগুলো থেকে এসেছে ২১৩ রান— যা কার্যত অবিশ্বাস্য।
আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রিঙ্কু সিং তাঁর মোট রানের প্রায় ৩৫.৮ শতাংশই করেছেন ডেথ ওভারে। অর্থাৎ, যখন চাপ সবচেয়ে বেশি, ঠিক তখনই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়ে ওঠেন তিনি।
সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৬টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৫৯৪ রান। এর মধ্যে শুধু শেষ দুই ওভারেই এসেছে ২১৩ রান। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে দেয়— ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রিঙ্কুই টিম ইন্ডিয়ার আসল ‘গেম চেঞ্জার’।
কেন রিঙ্কুই টিম ইন্ডিয়ার ভবিষ্যৎ ফিনিশার?
রিঙ্কু সিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। বড় নামের বোলার, কঠিন পরিস্থিতি বা ম্যাচের চাপ— কোনও কিছুকেই তিনি ভয় পান না। তাঁর শট নির্বাচনে যেমন রয়েছে পরিণত বুদ্ধি, তেমনই রয়েছে ঝুঁকি নেওয়ার সাহস।
এই ম্যাচে আবারও বোঝা গেল, কেন তাঁকে নিয়মিতভাবে ডেথ ওভারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বা গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে রিঙ্কুর মতো একজন নির্ভরযোগ্য ফিনিশার টিম ইন্ডিয়ার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
উপসংহার
ডেথ ওভারে যখন ম্যাচের ফলাফল ঝুলে থাকে সূক্ষ্ম সুতোয়, তখন রিঙ্কু সিং নামটাই যথেষ্ট। নাগপুরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ইনিংস আরও একবার প্রমাণ করে দিল— শেষের লড়াই মানেই রিঙ্কুর রাজত্ব। আগামী দিনেও এমন ঝড়ো ফিনিশের অপেক্ষায় থাকবে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।



