Bangladesh World Cup Failure : বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ঘিরে আশার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় বিতর্কও। মাঠের পারফরম্যান্স যতটা না আলোচনায় আসে, তার থেকেও বেশি চর্চায় থাকে মাঠের বাইরের নাটক। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অবস্থান, হুঁশিয়ারি এবং শেষ পর্যন্ত আইসিসিকে চিঠি— সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ক্রিকেটীয় সাফল্যের বদলে কি বিতর্কই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠছে?
🏏 বিশ্বকাপে খেলার অনীহা, তারপর চিঠি
সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল, তারা ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যেতে রাজি নয়। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে একাধিক শর্ত সামনে রেখে তারা কার্যত হুমকির সুরেই কথা বলেছিল। এই ঘোষণার পরই ক্রিকেট মহলে ধারণা তৈরি হয়— ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রায় অনিশ্চিত।
কিন্তু নাটক এখানেই শেষ নয়। পরে বিসিবির তরফ থেকে ফের আইসিসিকে চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়, বিষয়টি যেন আইসিসির নিরপেক্ষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। তবে ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই আবেদন আদৌ গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
⚖️ আইসিসির সিদ্ধান্ত আগেই চূড়ান্ত
কারণ, এই বিষয়ে আইসিসি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। জানা গেছে, আইসিসির ১৬টি পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে ভোটাভুটি হয়। সেই ভোটের ফলাফল ছিল একেবারেই বাংলাদেশের বিপক্ষে— ১৪-২।
এই দুই ভোটের একটি যে বাংলাদেশের নিজের, তা প্রায় নিশ্চিত। অন্যটি পাকিস্তানের হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ, বাংলাদেশের দাবির পক্ষে কার্যত কোনও দেশই দাঁড়ায়নি। এই ফলাফলের পর পরিষ্কার হয়ে যায়, নিরপেক্ষ কমিটির কাছেও বাংলাদেশের আবদার মানা হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
📉 বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স: এক নজরে ইতিহাস
এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— মাঠে সাফল্য না থাকলেও এত শর্ত আর দাবি করার নৈতিক জোর বাংলাদেশ কোথা থেকে পায়? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেখলে এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন বছর কোন পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে টাইগার বাহিনীকে—
- ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: সুপার ৮ পর্ব থেকে বিদায় (চ্যাম্পিয়ন ভারত)
- ২০০৯: গ্রুপ পর্বেই বিদায়
- ২০১০: গ্রুপ পর্বেই বিদায়
- ২০১২: গ্রুপ পর্বেই বিদায়
- ২০১৪: গ্রুপ পর্বেই বিদায়
- ২০১৬: গ্রুপ পর্বেই বিদায়
- ২০২১: গ্রুপ পর্বেই বিদায়
- ২০২২: গ্রুপ পর্বেই বিদায়
- ২০২৪: সুপার ৮ থেকে বিদায় (চ্যাম্পিয়ন ভারত)
এই তালিকা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতাই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের মূল গল্প।
💰 আর্থিক ক্ষতির মুখে বিসিবি
এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু সম্মানহানি নয়, বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে চলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলে যে পরিমাণ অর্থ আইসিসির রাজস্ব ভাগ থেকে তারা পেত, সেটি এবার আর পাওয়া যাবে না।
শুধু তাই নয়—
➡️ আইসিসির ব্রডকাস্টিং চুক্তি
➡️ লজিস্টিকস
➡️ স্পনসর সংক্রান্ত ক্ষতি
এই সমস্ত আর্থিক লোকসানের ক্ষতিপূরণ হিসেবেও বিসিবিকে অর্থ দিতে হতে পারে বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ, সিদ্ধান্তের খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনকেই।
🤔 বিনোদন নাকি বোকামি?
ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন মাঠে বিনোদন দিতে না পারলেও মাঠের বাইরে নাটক তৈরি করতে ওস্তাদ। “বাংলাদেশ মানেই বিনোদন”— এই কথাটি যেন আবারও সত্যি প্রমাণিত হলো।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—
👉 মাঠে ফল না থাকলে কি বারবার শর্ত চাপানো যুক্তিযুক্ত?
👉 ক্রিকেট উন্নয়নের বদলে প্রশাসনিক সংঘাত কি আদৌ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাবে?
🔚 উপসংহার
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতার ইতিহাস যেমন প্রশ্ন তোলে, তেমনই বিসিবির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও আইসিসিকে চিঠি পাঠানোর ঘটনা নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই ‘আবদার’ ফের খারিজ হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখন দেখার, নাটক থামে এখানেই— না কি আরও নতুন পর্ব অপেক্ষা করছে টাইগারদের ক্রিকেটে।



