Saraswati Puja News : বিদ্যার দেবী সরস্বতী—যাঁর আরাধনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রছাত্রীদের আনন্দ ও বাঙালি সংস্কৃতির বহু পুরনো ঐতিহ্য। প্রতি বছর সরস্বতী পুজো মানেই স্কুল-কলেজে পড়ুয়াদের উৎসব, খাতা-কলম আর নিষ্পাপ উচ্ছ্বাস। কিন্তু চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গের একটি স্কুলকে ঘিরে উঠে এল এক বিতর্কিত ও উদ্বেগজনক অভিযোগ, যা রাজ্যের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত এলাকার একটি স্কুলে সরস্বতী পুজো স্কুল প্রাঙ্গণে করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত স্কুল চত্বরে নয়, বরং স্কুলের বাইরে রাস্তায় বসে পুজো করতে বাধ্য হন ছাত্রছাত্রীরা।
🎓 পড়ুয়াদের মানসিক ধাক্কা
স্কুলজীবন মানেই শুধু পড়াশোনা নয়—সংস্কৃতি, উৎসব ও সামাজিক মূল্যবোধ শেখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সরস্বতী পুজোর মতো একটি শিক্ষাসংক্রান্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে আবেগের বিষয়।
অভিভাবকদের একাংশের দাবি, প্রথমে পড়ুয়ারা স্কুলের ভিতরেই নিয়ম মেনে পুজোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে, যখন পুজো ঘিরে আপত্তির কথা সামনে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ উপস্থিত হলেও, শেষ পর্যন্ত সমস্যা এড়াতে স্কুল চত্বরের বাইরে পুজো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘটনায় অনেক পড়ুয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
⚖️ ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—
👉 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত?
👉 স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক চাপের ফল কি না?
ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। তবে সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও প্রশাসনের। এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতেই গিয়ে কি কোনও পক্ষ বঞ্চিত হচ্ছে— সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
🚓 প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। কেন আগেভাগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেল না? কেন ছাত্রছাত্রীদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হল?
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও লিখিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত বা আলোচনার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
👨👩👧👦 অভিভাবক সমাজের উদ্বেগ
এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি স্কুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এমনটাই মনে করছেন অনেক অভিভাবক। তাঁদের বক্তব্য, আজ যদি স্কুলে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য উৎসব বা সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও কি একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হবে?
এই প্রশ্ন থেকেই সমাজে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই চাইছেন, প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তর স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করুক—যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর না তৈরি হয়।
🌱 বাংলার সংস্কৃতি ও সহাবস্থান
বাংলার ইতিহাস বহু সংস্কৃতি, ধর্ম ও মতের সহাবস্থানের সাক্ষী। দুর্গাপুজো, ঈদ, বড়দিন—সব উৎসবই এখানে একসঙ্গে পালিত হয়ে এসেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সমাজের একাংশ মনে করছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখা আজ আগের চেয়েও বেশি জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত এমন একটি জায়গা, যেখানে বিভেদ নয়—বরং বোঝাপড়া শেখানো হবে।
🔚 শেষ কথা
বারাসাতের এই স্কুলকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক একাধিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—ধর্মীয় স্বাধীনতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সামাজিক সহাবস্থান নিয়ে।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটে, তবেই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।



