Pakistan Cricket Board : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ যত এগিয়ে আসছে, ততই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উত্তেজনা বাড়ছে। বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এবার সরাসরি বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। এই ঘটনায় ক্রিকেট দুনিয়ায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক—আদৌ কি পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে? নাকি এই হুমকির আড়ালে রয়েছে কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল?
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোই কি এখন পাকিস্তানের লক্ষ্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক ও আর্থিক সমীকরণ—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটমহলে।
⚠️ কীভাবে শুরু হলো বিতর্ক?
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারিতেই। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) জানিয়ে দেয়, তারা ভারতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী নয়। পরিবর্তে তারা ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।
এরপরই কড়া সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি—বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্কটল্যান্ডকে। এই সিদ্ধান্তে শুধু বাংলাদেশ নয়, ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও।
🇵🇰 প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও একই সঙ্গে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘অন্যায্য আচরণ’-এর অভিযোগ তোলেন।
তাঁর বক্তব্য, “নিরাপত্তা ইস্যুতে একটি দেশ উদ্বেগ জানালে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। বাংলাদেশকে সুযোগ না দিয়ে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।”
এই বক্তব্যের পরই শুরু হয় জল্পনা—তাহলে কি পাকিস্তানও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে?
🔥 প্রাক্তন পাক ক্রিকেটারদের বয়কট ডাক
এই বিতর্কে ঘি ঢালেন প্রাক্তন পাকিস্তান ক্রিকেটার রশিদ লতিফ। প্রকাশ্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়। আর্থিক ক্ষতির ভয় থাকলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দরকার।”
রশিদ লতিফের এই মন্তব্য পাকিস্তানে নতুন করে বয়কটের দাবি জোরালো করে তোলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সমর্থকই প্রশ্ন তুলছেন—যদি বাংলাদেশকে এভাবে বাদ দেওয়া যায়, ভবিষ্যতে কি পাকিস্তানের সঙ্গেও একই আচরণ করা হবে না?
💬 “পাকিস্তান সরে গেলে বিশ্বকাপ থমকে যাবে?” — বিতর্কিত দাবি
এই আবহে আরও এক বিতর্কিত মন্তব্য সামনে আসে। কয়েকজন প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার দাবি করেন, পাকিস্তান যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ মারাত্মকভাবে কমে যাবে, এমনকি বিশ্বকাপ “থমকে যেতে পারে”।
তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের বড় অংশ এই দাবিকে অতিরঞ্জিত বলেই মনে করছেন। তাঁদের মতে, পাকিস্তান বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দল ঠিকই, কিন্তু তাদের অনুপস্থিতিতে আইসিসি ইভেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটা বাস্তবসম্মত নয়।
💸 বিশ্বকাপ বয়কট করলে কতটা ক্ষতির মুখে পড়বে PCB?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান যদি সত্যিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক ভিতেই।
সম্ভাব্য ক্ষতিগুলির মধ্যে রয়েছে—
- আইসিসি থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক রাজস্বের বড় অংশ কাটা যাবে
- বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয় বন্ধ
- স্পনসর ও বিজ্ঞাপন চুক্তির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে
- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রভাব হ্রাস পাবে
আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই পিসিবি তাদের মোট আয়ের বড় অংশ পায়। সেই জায়গায় হাত কেটে নেওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা।
🧠 বিকল্প পরিকল্পনার দাবি PCB-র
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি দাবি করেছেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে বোর্ডের কাছে “প্ল্যান A থেকে প্ল্যান D” পর্যন্ত প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ক্রিকেট মহলের মতে, এই বক্তব্য আসলে আইসিসির উপর চাপ তৈরির কৌশল। বাস্তবে পাকিস্তানের সামনে খুব বেশি বিকল্প খোলা নেই।
🔚 উপসংহার
সব মিলিয়ে বলা যায়, আবেগের বশে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি যতই জোরালো হোক না কেন, বাস্তবের মাটিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। আইসিসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যদি পাকিস্তান সত্যিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হবে তাদের নিজেদেরই।
আর্থিক সংকট, আন্তর্জাতিক প্রভাব কমে যাওয়া, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং দেশের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ—সব মিলিয়ে সেই বোঝা সামলানো পিসিবির পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।



