Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবাংলাদেশে ফের হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ! সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নে...

বাংলাদেশে ফের হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ! সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নে ইউনূস প্রশাসন !

Bangladesh News : বাংলাদেশে ফের এক মর্মান্তিক ঘটনা নতুন করে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। নরসিংদীতে এক হিন্দু যুবককে পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, সেই স্মৃতিই যেন আবার ফিরে এল। একের পর এক একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে প্রশ্ন উঠছে—কেন প্রশাসন আগের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না? কেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না?

নিহত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩)। তিনি পেশায় একজন গ্যারেজ কর্মী। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে গ্যারেজের ভিতরেই ঘুমিয়েছিলেন চঞ্চল। গভীর রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী গ্যারেজের শাটারের ফাঁক দিয়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যারেজের ভিতরেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ওই যুবকের।

ঘটনার পর গ্যারেজের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় চঞ্চলের ঝলসানো দেহ। ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, এই ধরনের ভিডিও শুধু নৃশংসতার প্রমাণই নয়, বরং রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তুলছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে। ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। বিরোধী মহল ও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ধারাবাহিক সংখ্যালঘু হিংসার ঘটনায় দৃঢ় ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট। তাঁদের দাবি, তদন্তের ঘোষণা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না—দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই ধরনের অপরাধ থামবে না।

আরও একটি গুরুতর প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই কি এই ধরনের অস্থিরতা বেড়ে চলেছে? অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র। কেউ কেউ আবার বলছেন, দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল হিসেবেও অশান্তি বাড়তে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু একই ধরনের নৃশংসতা বারবার ঘটতে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি দাবি করছে, সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ধর্ম বা পরিচয়ের কারণে কেউ যাতে লক্ষ্যবস্তু না হন, তার জন্য শক্ত বার্তা দেওয়া জরুরি।

চঞ্চলের পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। তাঁদের বক্তব্য, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁরা চান দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হোক। স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের কাছে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, নরসিংদীর এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। প্রশাসনের নীরবতা, ধারাবাহিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং জবাবদিহির অভাব—সব মিলিয়ে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা আজ বড় প্রশ্নের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেশের ভিতরে ও বাইরে সবার নজরে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments