Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবয়কটের পরেও বিশ্বকাপে থাকবে বাংলাদেশ ! কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনর্বিবেচনার আশ্বাস আইসিসির...

বয়কটের পরেও বিশ্বকাপে থাকবে বাংলাদেশ ! কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনর্বিবেচনার আশ্বাস আইসিসির !

T20 World Cup 2026 Bangladesh : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে নাটকীয় মোড় নিল বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিতর্ক। বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর মনে করা হচ্ছিল, আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি এতটা সরল নয়। সরাসরি মাঠে না নামলেও, বিশ্বকাপের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যুক্ত থাকছে বাংলাদেশ—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর সাম্প্রতিক অবস্থান। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বয়কটের সিদ্ধান্ত কি আদৌ চূড়ান্ত? নাকি ক্ষতিপূরণের আশঙ্কা ও কূটনৈতিক চাপেই ফের নমনীয় হচ্ছে পরিস্থিতি?

সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত মিলেছে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভার করার বিষয়ে আইসিসির অবস্থান বদলে। প্রথমে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আইসিসি জানিয়ে দেয়, সে দেশের সাংবাদিকদের ভারতে এসে ম্যাচ কাভার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। বিসিবি অভিযোগ করেছিল, প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশনের আবেদন একযোগে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি যাঁদের আগেই অনুমোদন মিলেছিল, তাঁদের কার্ডও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বাংলাদেশে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়। কারণ বাংলাদেশ প্রায় তিন দশক ধরে নিয়মিতভাবে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে এবং সেই সঙ্গে সে দেশের সাংবাদিকরাও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট কাভার করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। হঠাৎ করে সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়া তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।

তবে এই অবস্থানেই এবার বদলের ইঙ্গিত। আইসিসির তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশনের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে। শর্তসাপেক্ষে সীমিত সংখ্যক সাংবাদিককে ভারতে এসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ কাভার করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। আইসিসির এক কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, “প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোটা থাকে। সাধারণত এক দেশের ক্ষেত্রে ৪০ জনের বেশি সাংবাদিককে অ্যাক্রিডিটেশন দেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ থেকে তার চেয়ে অনেক বেশি আবেদন এসেছিল। সকলকে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়, তবে যোগ্য আবেদনগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই সিদ্ধান্ত থেকেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি সত্যিই বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে? নাকি বয়কটের সিদ্ধান্ত আংশিক, প্রতীকী এবং চাপ তৈরির কৌশলমাত্র?

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবির তরফে আগে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ভারতে নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলতে আসা সম্ভব নয়। সেই যুক্তিতেই তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আইসিসি কখনও প্রকাশ্যে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি বা কোনও ঝুঁকির কথা স্বীকার করেনি। ফলে একই যুক্তিতে যদি বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ভিসা ও অ্যাক্রিডিটেশন দেওয়া হয়, তাহলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুক্তির ভিতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এখানেই আসল সমীকরণ। বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আইসিসির কাছে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। সম্প্রচার স্বত্ব, বাণিজ্যিক চুক্তি ও রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বিসিবি। সেই কারণেই হয়তো পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে না গিয়ে ধাপে ধাপে সমঝোতার রাস্তা খোলা রাখছে দুই পক্ষ।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টে একটি পূর্ণ সদস্য দেশকে সম্পূর্ণভাবে বাইরে রাখা আইসিসির পক্ষেও সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এতে টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি, সম্প্রচার মূল্য এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশ মাঠে না থাকলেও, তাদের উপস্থিতিকে পুরোপুরি অস্বীকার না করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে হলেও সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছে আইসিসি।

সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা, অসংগতি এবং নাটক তৈরি হয়েছে বাংলাদেশকে ঘিরেই। বয়কটের সিদ্ধান্ত কতটা স্থায়ী, ক্ষতিপূরণের ভয় কতটা প্রভাব ফেলছে, এবং শেষ মুহূর্তে কোনও বড় সমঝোতা হয় কি না—এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। তবে এটুকু স্পষ্ট, বিশ্বকাপের গল্প থেকে বাংলাদেশকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া যাচ্ছে না, অন্তত এই মুহূর্তে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments