Gautam Gambhir : টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দল যতই ভালো খেলুক, ভারতের কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ কি সত্যিই নিরাপদ? সাম্প্রতিক সময়ের একের পর এক ব্যর্থতা ফের নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল টিম ইন্ডিয়ার কোচিং সেট-আপ নিয়ে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে একদিনের সিরিজ হারতেই জোরালো হয়েছে সেই জল্পনা—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরেই কি চাকরি হারাতে চলেছেন কোচ গম্ভীর?
বিশেষ করে টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে ভারতের হতাশাজনক পারফরম্যান্স এই বিতর্কে নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে। সোশাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ক্রিকেট মহলের অন্দরমহল—সব জায়গাতেই এখন একটাই প্রশ্ন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে না পারলে কি গম্ভীর অধ্যায়ের ইতি টানবে বিসিসিআই?
ব্যর্থতার পাহাড়ে চাপা গম্ভীর জমানা
গৌতম গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের ফলাফল রীতিমতো উদ্বেগজনক। ইতিহাসে প্রথমবার দেশের মাটিতে এত বড় ব্যবধানে হার, একাধিক টেস্টে লজ্জার পরাজয়—সব মিলিয়ে গম্ভীর জমানা ভারতের টেস্ট ইতিহাসে এক কঠিন অধ্যায় হয়ে উঠছে।
পরিসংখ্যান বলছে,
- ৬৬ বছর পর ঘরের মাঠে সাতটি টেস্টের মধ্যে পাঁচটিতে হার
- ২৫ বছর পর টানা দুই মরশুমে পাঁচটি টেস্টে পরাজয়
- দেশের মাটিতে দু’বার কার্যত “চুনকাম” পরিস্থিতি
এই ব্যর্থতাগুলি শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দলের মানসিকতা ও প্রস্তুতি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
একদিনের ক্রিকেটেও হতাশা
টেস্টের পাশাপাশি একদিনের ক্রিকেটেও গম্ভীরের কোচিংয়ে সাফল্যের হার খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ হার, আর সাম্প্রতিক কালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে একদিনের সিরিজ হার—যা ভারতের ক্ষেত্রে একেবারেই বিরল ঘটনা।
এই সিরিজ হারই ফের নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কারণ, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ হার এই প্রথম। ফলে সমালোচকদের প্রশ্ন—যদি ঘরের মাঠেই দল ধারাবাহিকতা দেখাতে না পারে, তা হলে বিদেশের বড় টুর্নামেন্টে কীভাবে ভরসা রাখা যাবে?
প্রাক্তন ক্রিকেটারদের কড়া বার্তা
এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের কণ্ঠও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। মনোজ তিওয়ারির মতো ক্রিকেটার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন, ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না জিতলে গৌতম গম্ভীরকে কোচ হিসেবে সরিয়ে দেওয়া উচিত। সোশাল মিডিয়াতেও একই দাবি ঘুরপাক খাচ্ছে।
অনেকেরই মত, টি-টোয়েন্টিতে দল ভালো খেললেও শুধুমাত্র সেই ফরম্যাটের উপর ভিত্তি করে কোচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা উচিত নয়। টেস্ট ও ওয়ানডে—এই দুই ফরম্যাটে ভারতের পারফরম্যান্সই আসল মাপকাঠি হওয়া দরকার।
বিসিসিআই কী বলছে?
এই জল্পনার মাঝেই মুখ খুলেছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানান, গম্ভীরের চাকরি যাওয়ার বিষয়ে বোর্ড এখনই কোনও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না।
তিনি বলেন,
“আমাদের কাছে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত একটি ক্রিকেট কমিটি রয়েছে। দল নির্বাচন ও কোচিং সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত সেই কমিটিই আলোচনা করে নেয়। পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটিও রয়েছে। তাঁরা সবাই যোগ্যতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মুহূর্তে তাড়াহুড়োর কোনও প্রয়োজন নেই।”
তবে তাঁর কথায় এমনও ইঙ্গিত মিলেছে, বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
গণতন্ত্রে মতামত থাকবেই, সিদ্ধান্ত বোর্ডের
সমালোচনার প্রসঙ্গে বিসিসিআই সচিব বলেন,
“ভারত ১৪০ কোটির দেশ। এখানে প্রত্যেকের মতামত আছে। সবাই বিশেষজ্ঞ। প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও তাঁদের মত প্রকাশ করছেন। গণতান্ত্রিক দেশে তা স্বাভাবিক। তবে শেষ সিদ্ধান্ত বোর্ডের অন্দরে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।”
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বোর্ড আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফলাফলই যে গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
সবকিছুর ফয়সালা বিশ্বকাপের পর?
সব মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই হতে চলেছে গৌতম গম্ভীরের কোচিং কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিশ্বকাপে সাফল্য এলে সমালোচনা আপাতত থামতে পারে। কিন্তু ব্যর্থতা এলে বোর্ড যে বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটবে, তার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে।
এখন দেখার, মাঠের ফলাফল শেষ পর্যন্ত গম্ভীরকে রক্ষা করে, নাকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরেই ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন কোচিং অধ্যায় শুরু হয়।



