Arijit Singh : হঠাৎ করেই গানের জগতে এক অদ্ভুত শূন্যতা। যে কণ্ঠস্বর ছাড়া আজকের বলিউড বা বাংলা সিনেমার আবহ কল্পনাই করা যায় না, সেই অরিজিৎ সিং নাকি প্লেব্যাক গানের দুনিয়া থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নিচ্ছেন। এই খবরে যখন ভক্তদের মন ভারী, ঠিক সেই সময়েই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আর এক জল্পনায়—রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দিতে চলেছেন অরিজিৎ সিং!
শুধু তাই নয়, শোনা যাচ্ছে, তিনি নাকি ভবিষ্যতে নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করে ভোটের ময়দানেও নামতে পারেন। সুরের জাদুকরের এমন সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি থেকে বিনোদন মহল—দু’দিকই।
কোথা থেকে শুরু হল এই জল্পনা?
সম্প্রতি এনডিটিভির একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অরিজিৎ সিং রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি প্রথমে তৃণমূল স্তর থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে চান। কোনও বড় পদ বা তাৎক্ষণিক ক্ষমতার রাজনীতিতে না ঢুকে, ধাপে ধাপে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তিনি।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, অরিজিৎ ভবিষ্যতে নিজের রাজনৈতিক দল গঠনের কথাও ভাবছেন। তবে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সরাসরি প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন না বলেই আপাতত জানা যাচ্ছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই সমস্ত খবর নিয়ে এখনও পর্যন্ত অরিজিৎ সিং নিজে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। ফলে পুরো বিষয়টি এখনও জল্পনার স্তরেই রয়েছে।
গান ছাড়ার সিদ্ধান্তে ভক্তদের মন ভাঙছে
অরিজিৎ সিং মানেই আবেগ, প্রেম, বিচ্ছেদ আর আত্মঅনুসন্ধানের সুর। তাঁর গান শুধু শোনা হয় না, অনুভব করা হয়। তাই হঠাৎ করে প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর অনেক ভক্তই এখনও মানতে পারছেন না।
যদিও ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, অরিজিৎ গান ছেড়ে দিচ্ছেন না। বরং সিনেমার নিয়মিত প্লেব্যাকের বদলে স্বাধীন সঙ্গীত, লাইভ পারফরম্যান্স এবং নিজের পছন্দের কাজেই বেশি সময় দিতে চান তিনি। অর্থাৎ গানের জগৎ থেকে বিদায় নয়, বরং পথ বদল।
অনুরাগ বসুর মন্তব্যে জল্পনায় নতুন মোড়
এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন খ্যাতনামা পরিচালক অনুরাগ বসু। দীর্ঘদিন ধরে অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি গায়কের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।
বিবিসি হিন্দিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুরাগ বসু বলেন,
“পুরো পৃথিবী ওর সিদ্ধান্ত শুনে চমকে গেছে, কিন্তু আমি মোটেও অবাক হইনি। আমি অরিজিতকে অনেকদিন ধরে চিনি। ও ভীষণ প্রতিভাবান, কিন্তু গানই ওর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়।”
তিনি আরও জানান, অরিজিতের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে শিশুদের জন্য একটি স্কুল খোলার এবং সমাজের জন্য কিছু করার। শুধু তাই নয়, সিনেমা তৈরির প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। ‘বরফি’ ছবির সময় নাকি অরিজিৎ নিজেই অনুরাগ বসুকে অনুরোধ করেছিলেন সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।
রাজনীতি কি তবে জীবনের নতুন অধ্যায়?
এই সব তথ্য একত্রে রাখলে এটা স্পষ্ট যে অরিজিৎ সিংয়ের ভাবনায় সমাজ ও মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ বহুদিনের। রাজনীতি সেই কাজের একটি মাধ্যম হতে পারে—এই ভাবনাই হয়তো ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ নিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রিয়তা থাকলেই রাজনীতিতে সাফল্য আসে না। সংগঠন, ধৈর্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। অরিজিৎ যদি সত্যিই রাজনীতিতে আসেন, তবে সেটি হবে একেবারে আলাদা ধরনের সফর—যেখানে সুরের বদলে নীতি আর বক্তব্যই হবে তাঁর হাতিয়ার।
আপাতত কী জানা যাচ্ছে?
✔ অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক গান পুরোপুরি ছাড়ছেন না
✔ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা জোরালো
✔ নিজের দল গঠনের ভাবনা থাকলেও তাৎক্ষণিক নয়
✔ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম
✔ এখনও পর্যন্ত অরিজিতের কোনও সরকারি বিবৃতি নেই
সব মিলিয়ে বলা যায়, অরিজিৎ সিংয়ের জীবনে হয়তো নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে নামবেন কি না, নামলে কী রূপে নামবেন—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একমাত্র সময়ই দেবে। ততদিন পর্যন্ত জল্পনা চলতেই থাকবে, ঠিক তাঁর গানের রেশের মতোই।



