BJP Allegation : নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের নতুন করে উত্তেজনা। SIR (Special Intensive Revision) ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল বিজেপি। অভিযোগ, শুনানির ডাক পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে এবং এর পেছনে রয়েছে রাজ্য সরকারের পরিকল্পিত চক্রান্ত। এই দাবিকে সামনে এনে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।
বিজেপির দাবি, SIR প্রক্রিয়ার আড়ালে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, অথচ সেই দায় চাপানো হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের উপর। এই অভিযোগ ঘিরে তৃণমূল সরকার ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
SIR ইস্যুতে ‘হেনস্থা’ বিতর্ক নতুন নয়
SIR নিয়ে ‘হয়রানি’ সংক্রান্ত অভিযোগ বিজেপির অন্দরেও আগে উঠে এসেছে। সম্প্রতি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মন্তব্য করেছিলেন, “হয়রানি ছাড়া কোনও কাজই সম্ভব নয়।” যদিও সেই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষের যে কোনও ধরনের হয়রানি বা হেনস্থার দায় সরাসরি রাজ্য সরকারের এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
দুর্গাপুরে বিজেপি কর্মী সম্মেলনে নিতিন নবীনের তোপ
দুর্গাপুরে বিজেপির এক কর্মী সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে নিতিন নবীন মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন,
“মমতাদিদি নিজেই খেলা দেখাচ্ছেন। রাজ্যের মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে, আর তার জন্য দায় চাপানো হচ্ছে অন্যদের উপর।”
নিতিন নবীনের বক্তব্যে উঠে আসে, SIR প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন। তিনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে এবং অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন বনাম রাজ্য সরকার—কার দায়?
নিতিন নবীনের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য সরকার নিজেরাই পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচন কমিশনের উপর দোষ চাপাচ্ছে। তিনি বলেন,
“ডিএম, এসপি, এসডিও—এরা কারা? এরা তো রাজ্য সরকারেরই আধিকারিক। অথচ এখন বলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন মানুষকে হেনস্তা করছে!”
বিজেপি সভাপতির দাবি, যুবক, পেশাজীবী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে প্রশাসনিক দপ্তরে ডেকে পাঠিয়ে জেরা করা হচ্ছে। এরপর রাজ্য সরকার অভিযোগ করছে, এই কাজ নাকি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে হচ্ছে।
দিল্লি সফর ও রাজনৈতিক বার্তা
SIR সংক্রান্ত প্রতিবাদ জানাতে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। যদিও পরে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সেই সফর বাতিল হয়। তবে দুর্গাপুরের সভায় নিতিন নবীন এই প্রসঙ্গ টেনে বলেন,
“তিনি দিল্লি গিয়ে বলছেন নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করছে না। কিন্তু আসল সত্য হল—রাজ্য সরকারই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ
বিজেপির দাবি, SIR ইস্যুকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে। উদ্দেশ্য একদিকে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, অন্যদিকে রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায় করা।
বিজেপির একাংশের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনও নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া যায়।
ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
সব মিলিয়ে, SIR ইস্যু এখন শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এক বড় রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে হয়রানি ও চক্রান্তের অভিযোগ যেমন জোরদার হচ্ছে, তেমনই পাল্টা জবাবের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক আরও বড় আকার নেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শেষ পর্যন্ত এই টানাপোড়েন ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।



