Indian Cricket News : ক্রিকেটের ইতিহাসে রেকর্ড তৈরি হয় ভাঙার জন্যই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় নাম, বদলে যায় পরিসংখ্যান। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ভারতীয় ক্রিকেটের এক বড় অধ্যায়। ভেঙে গেল রোহিত শর্মার একটি বিশ্বরেকর্ড। আর এই রেকর্ড ভাঙলেন এমন এক দেশের ক্রিকেটার, যাদের ক্রিকেট পরাশক্তি হিসেবে খুব কমই দেখা হয়।
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও তারকা নন—বরং আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক পল স্টার্লিংই ভেঙে দিলেন রোহিত শর্মার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড।
কোন রেকর্ড ভাঙল, কীভাবে পিছিয়ে পড়লেন রোহিত?
এতদিন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার দখলে। ভারতীয় অধিনায়ক খেলেছেন ১৫৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতেই সেই রেকর্ড ভেঙে দেন পল স্টার্লিং।
স্টার্লিং এখন খেলেছেন ১৬০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, যার ফলে তিনি এককভাবে এই তালিকার শীর্ষে উঠে এলেন। ফলে রোহিত শর্মা পিছিয়ে পড়লেন এক ধাপ।
কোথায় তৈরি হলো এই নতুন ইতিহাস?
বৃহস্পতিবার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আয়ারল্যান্ড বনাম সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। দুই ম্যাচের এই সিরিজে আয়ারল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পল স্টার্লিং। আর এই ম্যাচেই তিনি ছুঁয়ে ফেলেন ঐতিহাসিক মাইলফলক।
এই সিরিজটি আয়ারল্যান্ড দলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটিই তাদের শেষ প্রস্তুতি সিরিজ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
দীর্ঘ ক্যারিয়ার, অবিচল ধারাবাহিকতা
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় পল স্টার্লিংয়ের। তারপর প্রায় দেড় দশক ধরে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। এই ১৬০টি ম্যাচের মধ্যে ৪৫টি ম্যাচে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্টার্লিং।
আয়ারল্যান্ডের মতো তুলনামূলক দুর্বল ক্রিকেট পরিকাঠামোর দেশ থেকে উঠে এসে এই দীর্ঘ পথচলা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং নেতৃত্বগুণ—সব মিলিয়ে তিনি আজ আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের মুখ।
বিশ্বকাপে স্টার্লিংয়ের অনন্য কীর্তি
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে চলেছে স্টার্লিংয়ের নবম বিশ্বকাপ। এর আগে তিনি খেলেছেন
২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে।
২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি খেলেননি। চলতি বিশ্বকাপে খেলতে পারলে তিনি রোহিত শর্মা এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ন’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার নজির গড়বেন।
রান করার নিরিখেও স্টার্লিং এলিট ক্লাবে
শুধু ম্যাচ সংখ্যাই নয়, ব্যাট হাতেও স্টার্লিং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে নিজের জায়গা শক্ত করে নিয়েছেন।
১৬০ ম্যাচে তিনি করেছেন ৩৮৭৪ রান, গড় ২৬.৫৩।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি এখন চতুর্থ স্থানে। তাঁর উপরে রয়েছেন কেবল তিনজন—
বাবর আজ়ম, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি।
এই তালিকায় আয়ারল্যান্ডের একজন ক্রিকেটারের থাকা নিজেই বড় সাফল্য।
রোহিত শর্মার রেকর্ড ভাঙলেও গর্ব অটুট
রেকর্ড ভাঙা মানেই কোনও ক্রিকেটারের গুরুত্ব কমে যাওয়া নয়। রোহিত শর্মা আজও ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আইকন। একাধিক আইসিসি ট্রফি, শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব, অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস—সব মিলিয়ে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অমর।
অন্যদিকে, পল স্টার্লিংয়ের এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে দেয় যে ক্রিকেট শুধু বড় দেশের একচেটিয়া খেলা নয়। পরিশ্রম, ধারাবাহিকতা আর মানসিক দৃঢ়তা থাকলে যে কোনও দেশ থেকেই তৈরি হতে পারে ইতিহাস।
ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই
আজ রোহিতের রেকর্ড ভাঙলেন স্টার্লিং, কাল হয়তো আবার কেউ ভাঙবেন স্টার্লিংয়ের রেকর্ড। এই ভাবেই এগিয়ে চলে ক্রিকেট বিশ্ব। নতুন রেকর্ড, নতুন নায়ক আর নতুন গল্প—এই নিয়েই ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্তেজনা কখনও ফুরোয় না।



