Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যপ্রতারকের সঙ্গে চালাকি করতে গিয়ে ধরা খেলেন পুলিশ অফিসার !মোটা টাকা ঘুষ...

প্রতারকের সঙ্গে চালাকি করতে গিয়ে ধরা খেলেন পুলিশ অফিসার !মোটা টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন পুলিশ ইন্সপেক্টর

Crime News : দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর পর্দাফাঁস করে চলেছে কর্ণাটক লোকায়ুক্ত পুলিশ। এবার তাদের জালে ধরা পড়লেন খোদ এক পুলিশ ইন্সপেক্টর। প্রতারকের সঙ্গে চালাকি করে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই ধরা পড়লেন অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই কর্ণাটক জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ ইন্সপেক্টরের নাম গোবিন্দ রাজু। তিনি বেঙ্গালুরুর কেপি আগ্রাহারা থানায় পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, একটি প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্তের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ঘুষ নিতে গিয়েই কর্ণাটক লোকায়ুক্ত পুলিশের ফাঁদে পড়ে হাতেনাতে গ্রেফতার হলেন গোবিন্দ রাজু।

ঘুষের ফাঁদে ধরা পড়ল ইন্সপেক্টর

লোকায়ুক্ত পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময়ই অভিযুক্ত ইন্সপেক্টরকে হাতেনাতে ধরা হয়। ঘটনাস্থলেই লোকায়ুক্ত পুলিশের তদন্তকারী দল তাঁকে আটক করে। ধরা পড়ার মুহূর্তে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার নাকি তারস্বরে চিৎকার শুরু করেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাতে কোনও লাভ হয়নি। লোকায়ুক্ত পুলিশের কাছে সমস্ত প্রমাণ আগেই প্রস্তুত ছিল।

কী ছিল অভিযোগ?

এই ঘটনার সূত্রপাত একটি গুরুতর প্রতারণা ও চিট ফান্ড সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে। অভিযোগকারী মোহাম্মদ আকবর, পেশায় এক জন নির্মাতা। তিনি জানান, একটি ফৌজদারি মামলায় তাঁকে “সাহায্য” করার আশ্বাস দিয়ে ইন্সপেক্টর গোবিন্দ রাজু তাঁর কাছ থেকে মোট ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন

অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি সিরসি সার্কেল এলাকায় অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর আগাম ১ লক্ষ টাকা নেন। বাকি ৪ লক্ষ টাকা পরে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত দিনেই লোকায়ুক্ত পুলিশের সহায়তায় ফাঁদ পাতা হয় এবং টাকা দেওয়ার সময়ই ধরা পড়ে যান অভিযুক্ত।

অডিও প্রমাণ লোকায়ুক্ত পুলিশের হাতে

শুধু মৌখিক অভিযোগেই থেমে থাকেননি অভিযোগকারী। নিজের দাবির সপক্ষে ঘুষ চাওয়ার অডিও রেকর্ডিং লোকায়ুক্ত পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। একটি পেন ড্রাইভে সংরক্ষিত সেই রেকর্ডিং খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এরপরই পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়।

লোকায়ুক্ত পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখি। অডিও প্রমাণ, কথোপকথনের সময়সূচি এবং লেনদেনের পরিকল্পনা—সবকিছু যাচাই করেই অভিযান চালানো হয়।”

আগেও ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ!

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, অভিযুক্ত ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে এটি প্রথম অভিযোগ নয়। অভিযোগকারী জানান, ২০২২ সালের শেষের দিকে তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে জড়িত একটি পৃথক বিবাদের সময়েও গোবিন্দ রাজু প্রায় ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। যদিও সে সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি।

এই ধারাবাহিক অভিযোগ সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক কীভাবে বারবার এই ধরনের বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ছেন, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত

লোকায়ুক্ত পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। পাশাপাশি তাঁর সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং পূর্ববর্তী মামলার নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, এই ঘটনার জেরে কেপি আগ্রাহারা থানায় কর্মরত অন্যান্য আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হতে পারে। প্রশাসনের উচ্চ মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধুমাত্র বাইরে নয়, প্রশাসনের ভিতরেও সমানভাবে প্রয়োজন। যাঁদের দায়িত্ব আইন রক্ষা করা, তাঁরাই যখন আইনের অপব্যবহার করেন, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা ভেঙে পড়ে।

কর্ণাটক লোকায়ুক্ত পুলিশের এই অভিযান নিঃসন্দেহে দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় বার্তা দিল—পদ যত বড়ই হোক, অপরাধ করলে রেহাই নেই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments