Sheikh Hasina India : বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— শেখ হাসিনা এখন ঠিক কোথায়? গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালে। তাঁর অবস্থান, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঘিরে চলছে জল্পনার ঝড়। এবার সেই রহস্যের পর্দা কিছুটা হলেও সরাল একাধিক নতুন তথ্য।
সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেই রয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এমন একটি এলাকায় অবস্থান করছেন, যা দেশের অন্যতম অতি সুরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। শোনা যাচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের খুব কাছাকাছি এলাকাতেই তাঁকে রাখা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে গোপন সাক্ষাৎ, সামনে এল তথ্য
সম্প্রতি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের ব্রিটেন শাখার পাঁচজন শীর্ষ নেতা লন্ডন থেকে দিল্লিতে এসে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২১ জানুয়ারি তাঁরা দিল্লিতে পৌঁছান এবং ২৬ জানুয়ারি ফের লন্ডনে ফিরে যান। এই সাক্ষাতের পরেই হাসিনার অবস্থান ও জীবনযাপন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নেতাদের দাবি—শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অত্যন্ত কড়া ও বহুস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। তিনি যে বাসভবনে রয়েছেন, সেটি আকারে বিশাল এবং কার্যত একটি প্রাসাদের মতো। চারদিক ঘিরে রয়েছে নিরাপত্তার একাধিক স্তর, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ তো দূরের কথা, বিশেষ অনুমতি ছাড়া কারও যাওয়ার সুযোগ নেই।
কীভাবে রাখা হয়েছে শেখ হাসিনাকে?
ওই আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগে তাঁদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ভারত সরকারের অনুমোদন ও নিরাপত্তাজনিত ছাড়পত্র পাওয়ার পর বিশেষ সুরক্ষিত গাড়িতে করে তাঁদের সেই বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
এক নেতা জানান,
“আমরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে ছিলাম। শেখ হাসিনা পুরো সময়টাই আমাদের দিয়েছেন। তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কোনও বড় শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ চোখে পড়েনি, যদিও আগের তুলনায় কিছুটা ওজন কমেছে বলে মনে হয়েছে।”
তাঁদের দাবি অনুযায়ী, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে সম্মানের সঙ্গে এবং অত্যন্ত আরামদায়ক পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বাসভবনে তাঁকে সহায়তা করার জন্য পর্যাপ্ত কর্মী রয়েছেন এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে প্রশিক্ষিত বাহিনী। নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি এতটাই কঠোর যে সেখানে প্রবেশাধিকার রয়েছে হাতে গোনা কয়েকজনেরই।
পরিবার ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ
সূত্রের আরও দাবি, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি প্রায়শই লন্ডন থেকে দিল্লিতে এসে দিদির সঙ্গে দেখা করেন। তবে এর বাইরে খুব সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিকেই হাসিনার কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গোপনীয়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিষয়টি কেবল মানবিক আশ্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বড় কূটনৈতিক সমীকরণ।
বাংলাদেশে কি আর ফিরবেন শেখ হাসিনা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই— শেখ হাসিনা কি আদৌ আর বাংলাদেশে ফিরবেন?
গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে দেশে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
একাংশের মতে, শেখ হাসিনা আপাতত ভারতের মাটিতেই থাকতে পারেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনও ঝুঁকি নেবেন না। আবার অনেকে মনে করছেন, তিনি সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং সুযোগ পেলেই রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করবেন।
ভারতের ভূমিকা ও কূটনৈতিক বার্তা
শেখ হাসিনাকে দিল্লির অতি সুরক্ষিত এলাকায় রাখার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। হাসিনার উপস্থিতি সেই সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল অধ্যায় হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি ফিরবেন নাকি দীর্ঘদিন ভারতের মাটিতেই থাকবেন—এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে আপাতত এটুকু নিশ্চিত, দিল্লির অতি সুরক্ষিত বলয়ের মধ্যেই অত্যন্ত সতর্ক ও সংরক্ষিত জীবন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।



