Arijit Singh Politics : বলিউড ও বাংলা সংগীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নাম অরিজিৎ সিং। তাঁর কণ্ঠে প্রেম, বিরহ, আবেগ ও অনুভূতির মেলবন্ধন দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই গানের জগৎ থেকে নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে নেওয়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে জোরালো জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে—এই বিরতির নেপথ্যে কি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি রাজনীতির ময়দানে নামার প্রস্তুতি?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে একাধিক দাবি। কোথাও বলা হচ্ছে, বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন অরিজিৎ সিং। আবার কোথাও দাবি আরও এক ধাপ এগিয়ে—বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়াই করতে পারেন এই জনপ্রিয় গায়ক। যদিও এই মুহূর্তে অরিজিৎ সিং নিজে বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও তাঁর সাম্প্রতিক কার্যকলাপ এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
হঠাৎ কেন গানের জগৎ থেকে দূরে?
অরিজিৎ সিং বরাবরই প্রচারের আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। কনসার্ট, রেকর্ডিং আর নিজের কাজ—এই নিয়েই সীমাবদ্ধ থেকেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি তাঁর নতুন গানের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং কিছু প্রজেক্ট থেকে সরে আসার খবর সামনে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, হয়তো তিনি জীবনের নতুন অধ্যায়ের দিকে পা বাড়াচ্ছেন।
অনুরাগীদের একাংশের দাবি, দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বহু সেলিব্রেটিই সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছেন। সেই প্রেক্ষিতেই অরিজিৎ সিংয়ের নাম উঠে আসছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সমাজ ও দেশের নানা বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করেন, যা ভবিষ্যতে তাঁকে অন্য কোনও দায়িত্বের পথে নিয়ে যেতে পারে।
বিজেপির সেলিব্রেটি মুখ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজ্যে জনপ্রিয় মুখ বা সেলিব্রেটিদের সামনে এনে ভোটের ময়দানে নামিয়েছে। বাংলাতেও অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে গেরুয়া শিবির। সেই জায়গায় অরিজিৎ সিং যদি সত্যিই রাজনীতিতে আসেন, তবে তিনি হতে পারেন বাংলায় বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী সেলিব্রেটি মুখ।
কারণ অরিজিৎ শুধুমাত্র একজন গায়ক নন, তিনি আবেগের প্রতীক। তাঁর গান শুনে মানুষ কাঁদে, হাসে, ভালোবাসে। এই আবেগ যদি রাজনীতির ময়দানে প্রভাব ফেলতে পারে, তাহলে তা যে ভোটের অঙ্কে বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে, তা মানছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিজেপির অন্দরমহলে আলোচনা?
সূত্রের দাবি, বিজেপির অন্দরমহলেও নাকি অরিজিৎ সিংয়ের নাম ঘুরছে। যদিও দলীয় স্তরে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য নেই, তবে “সম্ভাব্য মুখ” হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। বাংলায় সংগীতপ্রেমী ও যুবসমাজের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বিজেপির কাছে বাড়তি ফ্যাক্টর হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
তবে এটাও সত্যি, অরিজিৎ সিং নিজে কখনও প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝোঁক দেখাননি। তিনি সবসময়ই নিজেকে শিল্পী হিসেবেই পরিচয় দিতে চেয়েছেন। তাই এই জল্পনা আদৌ বাস্তব রূপ নেবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া—দ্বিধায় অনুরাগীরা
অরিজিতের ভক্তদের মধ্যেও এই খবর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল অনুরাগী মনে করছেন, যদি তিনি রাজনীতিতে আসেন, তবে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করার সুযোগ পাবেন। আবার অন্য একটি বড় অংশের আশঙ্কা—রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে হয়তো গানের জগৎ থেকে তাঁকে আরও দূরে সরে যেতে হবে, যা সংগীতপ্রেমীদের জন্য বড় ক্ষতি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ লিখছেন, “অরিজিৎ রাজনীতিতে না গিয়ে গানেই থাকুন।” আবার কেউ বলছেন, “দেশের জন্য যদি কিছু করতে চান, তাহলে সেটা সম্মানের।”
জল্পনা না বাস্তবতা—উত্তর দেবে সময়
সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে অরিজিৎ সিংয়ের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণই জল্পনার পর্যায়ে। কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রমাণ না থাকায় নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তাঁর হঠাৎ গানের দুনিয়া থেকে খানিকটা সরে যাওয়া এবং রাজনৈতিক মহলে তাঁর নাম ঘুরতে থাকা—এই দুই মিলেই চর্চা আরও তীব্র হয়েছে।
তাহলে কি সত্যিই বিজেপির হয়ে ভোটে লড়বেন সংগীতের জাদুকর অরিজিৎ সিং? নাকি এই সবই সোশ্যাল মিডিয়ার তৈরি করা গুঞ্জন? উত্তর দেবে সময়ই।



