Narendra Modi Controversy : বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। সেই বিতর্কের আঁচ এবার ভারতেও। সদ্য প্রকাশিত কিছু নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উল্লেখ থাকার অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে এই ধরনের খবর স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি ও প্রশ্নের জন্ম দেয়—তবে একই সঙ্গে প্রয়োজন সংযম, তথ্য যাচাই এবং প্রেক্ষাপট বোঝার।
আমেরিকার বিচার বিভাগ ‘Epstein Files Transparency Act’-এর আওতায় লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশ করছে। এই বিপুল তথ্যভাণ্ডারের মধ্যেই উঠে এসেছে ২০১৭ সালের একটি ইমেলের উল্লেখ, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সংশ্লিষ্ট ইমেলটি জেফ্রি এপস্টিন পাঠিয়েছিলেন ‘জেবর ওয়াই’ নামে এক ব্যক্তিকে, যাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। ইমেলে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নাকি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “পরামর্শ” মেনে ইজরায়েলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন—এই ভাষ্য ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই দাবি কোনও আদালতের রায় বা সরকারি তদন্তের উপসংহার নয়। এটি একজন দণ্ডিত অপরাধীর ব্যক্তিগত ইমেলের বক্তব্য—যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তবু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া কী বলছে?
এই বিতর্ক সামনে আসতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফর ছিল সম্পূর্ণ সরকারি ও কূটনৈতিক। এটি ছিল প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফর, যার লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধীর ব্যক্তিগত ইমেলকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যাচাইহীন অভিযোগকে ভিত্তি করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনুচিত।
টাইমলাইন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিতর্ক বোঝার জন্য সময়রেখা গুরুত্বপূর্ণ।
– ২০১৭ সালের জুন মাসে নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে যান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
– একই বছরের জুলাই মাসে তিনি ইজরায়েল সফর করেন।
এই দুই সফরই ছিল পূর্বঘোষিত, সরকারি এবং কূটনৈতিক কর্মসূচির অংশ—যার নথিভুক্ত বিবরণ সরকারি ও আন্তর্জাতিক আর্কাইভে রয়েছে।
এপস্টিন ফাইলস: কী আছে, কী নেই?
জেফ্রি এপস্টিন মানব পাচার ও নাবালক নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে জেল হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে প্রকাশিত নথিগুলিতে বহু সাক্ষীর জবানবন্দি, ইমেল ও তদন্ত-সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন—
নথিতে কারও নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কিছু নথিতে উঠে আসা ভয়াবহ অভিযোগ—যেমন শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত বর্ণনা—এগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত নয়। এসব বক্তব্য এসেছে সাক্ষীদের জবানবন্দি থেকে, যেগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
এই নথিগুলিতে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বা আইনি পদক্ষেপের কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের নথি প্রকাশ স্বচ্ছতার জন্য জরুরি হলেও, যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বিপজ্জনক।
শেষ কথা
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল—আবেগ নয়, তথ্যের ভিত্তিতে বিচার। অভিযোগ সামনে এসেছে, সরকার তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে। সত্য উদঘাটিত হবে কেবলমাত্র স্বাধীন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। একজন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন করা আমাদের অধিকার, কিন্তু একই সঙ্গে দায়িত্বও আছে—গুজব ও যাচাইহীন দাবি থেকে দূরে থাকার।
এই বিতর্ক কোথায় গড়াবে, আন্তর্জাতিক তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে—সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।



