Dr Muhammad Yunus : বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের অশান্তির মেঘ ঘনাচ্ছে। রাজপথে নামছে সাধারণ মানুষ, বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে একাধিক জেলা। কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই প্রশ্ন—শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হবে তো? এই দাবিকে সামনে রেখেই নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন। এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, একসময় যেভাবে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভবিষ্যৎও কি সেই দিকেই এগোচ্ছে?
🔥 হাদি হত্যার বিচার না হলে আন্দোলন আরও তীব্র—স্পষ্ট হুঁশিয়ারি
হাদি হত্যার বিচার প্রশ্নে সবচেয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা যদি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না করে, তাহলে দেশের রাজপথ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠবে।
৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর বক্তব্যে কোনও রাখঢাক ছিল না। তিনি বলেন,
“আমরা আমাদের ভাই হাদিকে হারিয়েছি। ভবিষ্যতে আরও ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত। নির্বাচন পিছোবে না, ১২ তারিখে নির্বাচন হবেই। কিন্তু নির্বাচনের পর যে দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যার বিচারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তাদের জীবন জাহান্নামে পরিণত হবে।”
এই বক্তব্যের পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়।
🕊️ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, তারা কোনও একতরফা বা অভ্যন্তরীণ তদন্তে সন্তুষ্ট নয়। তাদের একমাত্র দাবি—
👉 জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত।
আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে হাদি হত্যার তদন্ত চেয়ে আগামী ৮ তারিখের মধ্যে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে। তবে সেই চিঠির ভাষা ও বিষয়বস্তু আগে দেখতে চায় ইনকিলাব মঞ্চ। সেই কারণেই সংগঠনের নেতাকর্মীদের ৮ তারিখ পর্যন্ত সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
🚨 পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
শুধু বিচার দাবিই নয়, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা’ বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন,
“ফ্যাসিবাদী আমলের পুলিশ ব্যবস্থা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আমাদের ওপর হামলার সময় বহু পুলিশ সদস্য নেমপ্লেট খুলে ফেলেছিল। আজ ইনকিলাব মঞ্চের এমন কোনও কর্মী নেই, যিনি আহত হননি।”
এই অভিযোগ নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
🗳️ নির্বাচনের মুখে চাপে ইউনূস প্রশাসন
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। তার আগেই রাজপথে এই ধরনের আন্দোলন নতুন সরকারের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে,
- বিচার না হলে আন্দোলন আরও ছড়াবে
- সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে
- আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে
এই পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
❓ হাসিনার পুনরাবৃত্তি?
একসময় গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের মুখেই শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল—এই স্মৃতি এখনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাজা। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠছে, ড. ইউনূস কি একই পথে এগোচ্ছেন? যদিও এখনও পর্যন্ত দেশ ছাড়ার কোনও সরকারি ইঙ্গিত নেই, তবুও রাজপথের উত্তাপ ও মানুষের ক্ষোভ উপেক্ষা করার জায়গা নেই বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
⚠️ অস্থিরতার চক্রে বাংলাদেশ
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বাংলাদেশে বারবার অশান্তি মাথাচাড়া দিয়েছে। এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে দেশটি ক্রমশ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।
নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে—স্থিতিশীলতা, না কি আরও বড়সড় ঝড়—সেটাই এখন দেখার।



