India vs Pakistan T20 World Cup : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। একদিকে বয়কটের হুমকি, অন্যদিকে আইসিসি-র চাপ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পড়ে শেষ পর্যন্ত সুর নরম করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান, তবে তিনটি শর্ত সামনে রেখেছে তারা। আর এই শর্তগুলিই নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে ক্রিকেট দুনিয়ায়।
বিশেষ করে প্রশ্ন উঠছে—পাকিস্তানের এই শর্ত কি আদৌ মানবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা টিম ইন্ডিয়া? নাকি আবারও শেষ মুহূর্তে নতুন কোনও নাটক দেখা যাবে?
🔹 বয়কটের হুমকি থেকে সরে এল পাকিস্তান
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারত-পাক ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে আইসিসি-র কড়া অবস্থান এবং প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার লভ্যাংশ হারানোর আশঙ্কা পিসিবি-কে চাপে ফেলে। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একঘরে হয়ে যাওয়ার ভয়ও বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান কিছুটা নরম করতে বাধ্য হন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। সূত্রের খবর, বয়কটের পথে গেলে পাকিস্তানের ক্রিকেট ভবিষ্যৎই প্রশ্নের মুখে পড়ে যেতে পারত।
🔹 লাহোরে ম্যারাথন বৈঠক, উপস্থিত ছিলেন আইসিসি প্রতিনিধিরা
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লাহোরে পিসিবি দফতরে এই ইস্যুতে একটি দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আইসিসি-র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমরান খোয়াজা ও মোবাশির উসমানি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইমরান খোয়াজা হলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
পিসিবি-র তরফে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন মহসিন নকভি নিজেই। তাঁর পাশে থাকার জন্য লাহোরে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এছাড়াও আইসিসি-র সিইও সংযোগ গুপ্তা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন।
এই বৈঠকের পরই পরিষ্কার হয়—ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে পুরোপুরি না বলছে না পাকিস্তান, তবে শর্তসাপেক্ষ সম্মতি দিয়েছে।
🔹 ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে পাকিস্তানের তিন শর্ত
এনডিটিভি সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার জন্য তিনটি নির্দিষ্ট শর্ত সামনে রেখেছে। এই শর্তগুলি কোনওভাবেই ‘বাংলাদেশ বা অন্য দেশের স্বার্থে নয়’, বরং পুরোপুরি পাকিস্তানের নিজস্ব লাভ-ক্ষতির হিসেব করেই তোলা হয়েছে।
পিসিবি-র তিন শর্ত হল—
১️⃣ আইসিসি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ অবিলম্বে বৃদ্ধি করতে হবে।
বর্তমানে আইসিসি যে আর্থিক ভাগ পিসিবি-কে দেয়, তা বাড়ানোর দাবি তুলেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে ভারতের মতো বড় দলের সঙ্গে ম্যাচ মানেই বিপুল সম্প্রচার আয়—সেই আয়ের বড় অংশ নিজেদের ঝুলিতে তুলতেই এই দাবি।
২️⃣ ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালু করতে হবে।
২০০৮ সালের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়নি। পিসিবি চায়, এই অচলাবস্থা ভেঙে আবার সিরিজ আয়োজন করা হোক।
৩️⃣ ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন বাধ্যতামূলক করতে হবে।
ম্যাচের আগে ও পরে করমর্দন নিয়ে অতীতে বিতর্ক হয়েছে। এবার সেই বিষয়টিকে লিখিত শর্তের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে পিসিবি।
🔹 আইসিসি কোন শর্ত মানতে পারে, কোনটা নয়?
এই তিন শর্তের মধ্যে প্রথম শর্ত—লভ্যাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আইসিসি আলোচনায় বসতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহলের একাংশ। কারণ এটি সরাসরি আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।
কিন্তু বাকি দুই শর্ত নিয়ে বড় সমস্যা রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং করমর্দনের মতো বিষয় ভারত সরকারের অনুমতি ও নীতির সঙ্গে জড়িত। এই ক্ষেত্রে আইসিসি বা কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার হস্তক্ষেপ করার এক্তিয়ার নেই। ফলে এই দুই শর্ত মানা ভারতের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।
🔹 ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা
সব মিলিয়ে বলা যায়, বৈঠক হলেও ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পাকিস্তান নিজেদের অবস্থান নরম করলেও শর্তের বেড়াজালে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে।
ক্রিকেট মহলের প্রশ্ন—নিজেদের পায়ে কুড়ুল না মেরে শেষ পর্যন্ত কি বয়কট নাটক ভুলে পাকিস্তান মাঠে নামবে? নাকি আবারও শেষ মুহূর্তে নতুন কোনও শর্ত তুলে ধরবে তারা?
🔹 কবে আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত?
পিসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে কি না, তা নিয়েই এখন ক্রিকেট দুনিয়ার নজর।
একদিকে আর্থিক চাপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক বাস্তবতা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান কোন পথ বেছে নেয়, সেটাই এখন দেখার।



