Vaibhav Suryavanshi & Abhigyan Kundu : যাঁর ব্যাটে কাঁপে প্রতিপক্ষ শিবির, যিনি সদ্য ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে গোটা দেশের নজর কেড়েছেন—সেই বৈভব সূর্যবংশীর জীবনেই এবার নেমে এল এক অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। ক্রিকেট মাঠে সাফল্যের শিখরে থাকলেও, পড়াশোনার ক্ষেত্রে বড় মূল্য দিতে হল এই তরুণ ক্রিকেটারকে। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষাতেই বসতে পারলেন না বৈভব সূর্যবংশী।
শুধু বৈভবই নন, একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপজয়ী উইকেটরক্ষক অভিজ্ঞান কুন্ডুও। তিনিও নিজের নির্ধারিত বোর্ড পরীক্ষার বেশিরভাগ অংশে অংশ নিতে পারছেন না। প্রশ্ন উঠছে—কেন এমন পরিস্থিতি? আন্তর্জাতিক সাফল্যের পরেও কেন পড়াশোনায় এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে এই দুই তরুণ ক্রিকেটারকে?
বৈভব সূর্যবংশী কেন দশম শ্রেণির পরীক্ষা দিতে পারলেন না?
মাত্র ১৪ বছর বয়সে বৈভব সূর্যবংশী ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত নাম। বিহারের তাজপুরের বাসিন্দা বৈভব পড়াশোনা করেন মডেস্টি স্কুল, তাজপুর-এ। চলতি বছর তাঁর **CBSE দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসার কথা ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত।
স্কুলের তরফে পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করা হয়েছিল, অ্যাডমিট কার্ডও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল পোদ্দার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরীক্ষায় না বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর মূল কারণ—ক্রিকেটীয় ব্যস্ততা। গত প্রায় এক বছর ধরে জাতীয় দলের ক্যাম্প, অনুশীলন, বিদেশ সফর এবং একের পর এক টুর্নামেন্টে ব্যস্ত ছিলেন বৈভব। এর ফলে নিয়মিত পড়াশোনা করা কিংবা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগই পাননি তিনি।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈভবের বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশীর সঙ্গে আলোচনার পরই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্কুলের ডিরেক্টর আদর্শ কুমার পিন্টু জানিয়েছেন, “ওর পরীক্ষার সব প্রস্তুতি থাকলেও বাস্তবে পড়াশোনার প্রস্তুতি ছিল না। তাই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই ঠিক করা হয়, এ বছর পরীক্ষা না দেওয়াই ভালো।”
অভিজ্ঞান কুন্ডুর ক্ষেত্রেও একই ছবি
একইরকম সমস্যায় পড়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের উইকেটরক্ষক অভিজ্ঞান কুন্ডু। ১৭ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। বিশ্বকাপ শেষ করে গত রবিবারই দেশে ফেরেন তিনি।
মঙ্গলবার তাঁর পরীক্ষা শুরু হয়েছিল এবং প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশও নিয়েছিলেন অভিজ্ঞান। কিন্তু তারপরই আসে নতুন নির্দেশ। কর্নেল সিকে নাইডু ট্রফিতে মুম্বই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেলতে তাঁকে দলের সঙ্গে হোটেলে রিপোর্ট করতে বলা হয়।
অভিজ্ঞান কুন্ডুর বাবা অভিষেক কুন্ডু জানিয়েছেন, “একটা পরীক্ষা দেওয়ার পরেই মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানানো হয়, ওকে সিকে নাইডু প্রতিযোগিতার জন্য দলের সঙ্গে থাকতে হবে। ফলে বাকি পরীক্ষাগুলো আর দেওয়া সম্ভব হল না।”
সাফল্যের মাশুল? উঠছে বড় প্রশ্ন
এই দুই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই উঠছে বড় প্রশ্ন—তরুণ ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে পড়াশোনা ও খেলাধুলোর ভারসাম্য কোথায়? আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে কি শিক্ষাজীবন পিছিয়ে পড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ক্রিকেট কাঠামোতে এখন খুব কম বয়সেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা জাতীয় স্তরে উঠে আসছেন। কিন্তু তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে অনেক সময় পড়াশোনায় বড় ছাড় দিতে হচ্ছে।
মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
বিশ্বকাপে বৈভব সূর্যবংশীর পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো। সাত ম্যাচে তিনি করেছেন ৪৩৯ রান, গড় ৬২.৭১, স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৪৯। একটি সেঞ্চুরি (সর্বোচ্চ ১৭৫) এবং তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি সহ তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
অভিজ্ঞান কুন্ডুও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। সাত ম্যাচে ২৩৯ রান, গড় ৫৯.৭৫। উইকেটের পিছনেও ছিলেন নির্ভরযোগ্য।
শেষ কথা
বিশ্বকাপ জয় এনে দেওয়ার পরও বোর্ড পরীক্ষায় বসতে না পারার ঘটনা নিঃসন্দেহে বৈভব সূর্যবংশী ও অভিজ্ঞান কুন্ডুর জীবনে বড় ধাক্কা। তবে ভবিষ্যতে তাঁরা কোন পথে এগোবেন, পড়াশোনা কীভাবে চালিয়ে যাবেন—সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।



