India Cricket Team : বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি—ঠিক যেন অশ্বমেধ ঘোড়া, যার গতিকে থামানোর সাধ্য কারও নেই। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও সেই আধিপত্য বজায় রাখল টিম ইন্ডিয়া। বুধবার অহমেদাবাদের ঐতিহাসিক নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম-এ নেমে নেদারল্যান্ডস-কে ১৭ রানে হারিয়ে অপরাজেয় রেকর্ড বজায় রেখেই সুপার এইটে পৌঁছে গেল ভারত।
এই ম্যাচ ছিল নেদারল্যান্ডসের কাছে সম্মানরক্ষার লড়াই। ডাচ বাহিনী শেষ পর্যন্ত হারলেও তাদের লড়াই, মানসিক দৃঢ়তা এবং সাহসী ক্রিকেট মন জয় করেছে সমর্থকদের।
প্রথমে ব্যাট করে ভারতের শক্ত ভিত
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুটা খুব মসৃণ না হলেও মাঝের ওভারে ছন্দে ফেরে ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান তোলে ভারত। বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা।
এই ম্যাচে আবারও নজর কাড়েন শিবম দুবে। দলে হার্দিক পান্ডিয়া-র মতো অলরাউন্ডার থাকা সত্ত্বেও এই বিশ্বকাপে প্রতিদিন আলাদা করে আলো কাড়ছেন দুবে। চাপের মুখেও তাঁর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং ভারতের ইনিংসে গতি এনে দেয়।
ডাচদের লড়াকু জবাব, কিন্তু শেষ হাসি ভারতেরই
১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে। শুরুতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও ভারতের বোলাররা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
বিশেষ করে স্পিন বিভাগে কার্যকরী হয়ে ওঠেন বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর রহস্যময় ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হয় ডাচ ব্যাটিং লাইনআপ। বরুণ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
দুটি উইকেট নেন শিবম দুবে, একটি করে উইকেট পান জসপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়া। এই সম্মিলিত বোলিং পারফরম্যান্সের ফলেই নেদারল্যান্ডস ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রানেই থেমে যায়।
স্কোরলাইনের বাইরেও বার্তা দিল এই ম্যাচ
স্কোরকার্ডে ভারতের জয় ১৭ রানে হলেও ম্যাচটি ছিল যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নেদারল্যান্ডস প্রমাণ করে দিল, তারা শুধু অংশগ্রহণকারী দল নয়—সুযোগ পেলে বড় দলকেও চাপে ফেলতে পারে।
ভারতের দিক থেকে যদিও জয় এসেছে, তবু একটি বিষয় চিন্তায় রাখতেই পারে টিম ম্যানেজমেন্ট—ফিল্ডিং। বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচ মিস এবং রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় বড় ম্যাচের আগে সতর্ক হওয়ার বার্তা মিলছে।
অধিনায়ক সূর্যকুমারের ব্রিগেডে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে
এই ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। তাঁর নেতৃত্বে দল যে আত্মবিশ্বাসী এবং ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে, তা গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই স্পষ্ট। অপরাজেয় থেকে সুপার এইটে ওঠা মানে শুধু পয়েন্ট টেবিলের সাফল্য নয়, মানসিক দিক থেকেও বড় সুবিধা।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আর সেই অস্ত্রই এখন ভারতের হাতে।
সুপার এইটের আগে কী বার্তা পেল টিম ইন্ডিয়া?
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ থেকে ভারত তিনটি বড় শিক্ষা পেল—
- মাঝের ওভারে স্পিন আক্রমণ এখনও দলের অন্যতম শক্তি
- শিবম দুবের মতো অলরাউন্ডাররা দলের ব্যালান্স বাড়াচ্ছেন
- ফিল্ডিংয়ে আরও শান না দিলে নকআউট পর্বে বিপদ হতে পারে
তবে সব মিলিয়ে বলা যায়, এই মুহূর্তে ভারতই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।
উপসংহার
গ্রুপ পর্ব শেষ, সামনে আরও কঠিন লড়াই। কিন্তু আত্মবিশ্বাস, ফর্ম এবং দলগত ভারসাম্যের নিরিখে টিম ইন্ডিয়া যে সুপার এইটে প্রবেশ করছে ‘অপরাজেয়’ তকমা নিয়েই—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে জয় শুধু আরেকটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরও এক দৃঢ় পদক্ষেপ।



