AI CCTV : শহরের রাস্তাঘাটে সিসিটিভি ক্যামেরা এখন আর নতুন কোনও বিষয় নয়। কিন্তু এবার সেই ক্যামেরাই শুধু দেখবে না—চিনে নেবে অপরাধীকে। সন্দেহভাজন কেউ ক্যামেরার সামনে এলেই সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠবে সতর্কবার্তার লাল আলো। মুহূর্তের মধ্যে সেই তথ্য পৌঁছে যাবে পুলিশের কন্ট্রোল রুমে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ফেশিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তি যুক্ত করে আধুনিক নজরদারির পথে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে প্রশাসন।
পরীক্ষামূলক ভাবে এই অত্যাধুনিক সিসিটিভি ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে Delhi Police। লক্ষ্য একটাই—অপরাধ ঘটার পর তদন্ত নয়, বরং অপরাধ ঘটার আগেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া।
কীভাবে কাজ করবে এই এআই সিসিটিভি?
এই নতুন প্রজন্মের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিতে বসানো থাকবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লেন্স ও এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার। কোনও ব্যক্তি ক্যামেরার সামনে এলে তার মুখের গঠন, চোখ-নাক-চোয়ালের অনুপাত বিশ্লেষণ করে তা ডেটাবেসে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
যদি সেই মুখ কোনও পরিচিত অপরাধী, সন্দেহভাজন বা নজরদারির তালিকায় থাকা ব্যক্তির সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে—
- কন্ট্রোল রুমে স্ক্রিনে লাল আলো জ্বলে উঠবে
- সঙ্গে সঙ্গে একটি সাউন্ড অ্যালার্ট বাজবে
- সংশ্লিষ্ট থানায় সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে
ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হতে পারবে।
বিপদে পড়লে ক্যামেরার দিকেই হাত নাড়লেই সতর্কতা!
এই প্রকল্পের অন্যতম চমকপ্রদ দিক হল—কোনও ব্যক্তি বিপদে পড়লে ক্যামেরার দিকে হাত নাড়লেই সেটিকে “ডিস্ট্রেস সিগন্যাল” হিসেবে চিহ্নিত করবে সিস্টেম। তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সতর্কতা পৌঁছাবে।
বিশেষ করে রাতের বেলা বা ফাঁকা এলাকায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ফিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
‘নিরাপদ শহর’ প্রকল্পে বড় সংযোজন
এই এআই সিসিটিভি ব্যবস্থা Delhi পুলিশের ‘নিরাপদ শহর’ প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণ সিসিটিভির তুলনায় এই ক্যামেরাগুলির রেজোলিউশন অনেক বেশি, ফলে—
- দূর থেকেও মুখ স্পষ্ট ধরা পড়বে
- রাতের অন্ধকার বা কম আলোতেও ছবি পরিষ্কার থাকবে
- ভিড়ের মধ্যেও আলাদা করে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে
এই ক্যামেরাগুলির ফুটেজ সরাসরি সম্প্রচারিত হবে থানা, পুলিশের সদর দফতর এবং ডিসিপি অফিসে।
প্যানিক বাটন কেন বাদ দেওয়া হল?
প্রথমে এই সিসিটিভির সঙ্গে আলাদা করে একটি ‘প্যানিক বাটন’ বসানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়। পুলিশের আশঙ্কা ছিল—
- অনেকেই অকারণে বোতাম চাপতে পারেন
- এতে ভুয়ো সতর্কতা বাড়বে
- জরুরি পরিস্থিতিতে প্রকৃত সংকেত গুরুত্ব হারাতে পারে
এই সব দিক বিবেচনা করেই বোতামের বদলে হাত নাড়ার ভিজ্যুয়াল সিগন্যাল ব্যবস্থাই চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কোথায় বসানো হবে এই ক্যামেরা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে—
- যেখানে অপরাধের হার বেশি
- বাজার, স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড
- আবাসিক এলাকা ও সংযোগকারী রাস্তা
- স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন অঞ্চল
এই সব জায়গা চিহ্নিত করেই ধাপে ধাপে এআই-যুক্ত সিসিটিভি বসানো হবে। ভবিষ্যতে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এই নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পুরনো ছবি থেকেও ধরা পড়বে অপরাধী?
এই প্রকল্পের আরেকটি বড় দিক হল নতুন সফটওয়্যার সিস্টেম। পুলিশের কাছে থাকা—
- পুরনো ছবি
- ঝাপসা ফুটেজ
- মুখঢাকা বা বিকৃত ছবি
এসব থেকেও মুখের গঠন বিশ্লেষণ করে অপরাধী শনাক্ত করতে পারবে এই এআই প্রযুক্তি। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজের স্ক্রিনশট থেকেও তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে?
যদিও এই প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই, তবে নাগরিকদের একাংশ গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, আইন মেনেই তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে এবং নির্দিষ্ট প্রোটোকল ছাড়া কোনও ডেটা অপব্যবহার করা হবে না।
শেষ কথা
এআই-চালিত ফেশিয়াল রেকগনিশন সিসিটিভি ব্যবস্থা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। অপরাধী ধরতে আর শুধু তদন্তের উপর নির্ভর নয়—এবার প্রযুক্তিই হবে পুলিশের বড় হাতিয়ার। সফল হলে এই মডেল দেশের অন্য শহরেও চালু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



