Telecom News India : আপনার কি এখনও ভোডাফোন-আইডিয়া (Vi)-র সিম রয়েছে? তাহলে এই প্রশ্নটা এখন অনেকের মনেই ঘুরছে—এই পরিষেবা কি খুব শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে? সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান নতুন করে সেই আশঙ্কাই উসকে দিয়েছে। ভারতের টেলিকম বাজারে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা—গ্রাহকের দখলদারি লড়াইয়ে কার্যত এগিয়ে রয়েছে মাত্র দু’টি বেসরকারি সংস্থা।
বাণিজ্য দুনিয়ায় যেমন বিমান পরিষেবায় ইন্ডিগো বনাম এয়ার ইন্ডিয়া, কিংবা ঠান্ডা পানীয়তে কোকা-কোলা বনাম পেপসির ‘কোলা ওয়ার’, ঠিক তেমনই ভারতের টেলিকম সেক্টরও ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এক ধরনের ‘টু-প্লেয়ার মার্কেট’-এ। আর এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সদ্য প্রকাশিত তথ্যে।
ট্রাই-এর রিপোর্ট কী বলছে?
সম্প্রতি টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI) ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের গ্রাহকসংখ্যার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, এক মাসেই প্রায় ৫৫ লক্ষ নতুন গ্রাহক যুক্ত করেছে এয়ারটেল। অন্যদিকে, রিলায়্যান্স জিও-র গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ২৯ লক্ষ।
অর্থাৎ, বাজারে নতুন গ্রাহকদের প্রায় পুরো অংশটাই চলে যাচ্ছে এই দুই সংস্থার ঝুলিতে। কিন্তু প্রশ্ন হল—বাকি সংস্থাগুলির অবস্থা কী?
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির ছবিটা কেমন?
ট্রাই-এর তথ্য বলছে, ডিসেম্বর মাসে প্রায় দু’লাখ গ্রাহক হারিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL)। অন্যদিকে, শহরকেন্দ্রিক পরিষেবা দেওয়া মহানগর টেলিফোন নিগম লিমিটেড (MTNL) থেকে সরে গিয়েছেন প্রায় ২,৫০০ গ্রাহক।
যদিও এই সংখ্যাগুলি উদ্বেগজনক, তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ভোডাফোন-আইডিয়া।
ভোডাফোন-আইডিয়ার অবস্থা কতটা খারাপ?
ডিসেম্বর মাসে একাই ৯৪ লক্ষ গ্রাহক হারিয়েছে ভোডাফোন-আইডিয়া। টেলিকম বাজারে এত বড় গ্রাহক ক্ষয় কার্যত বিপদের সাইরেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গ্রাহকের বড় অংশই পরিষেবা ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এয়ারটেল বা জিও-তে পোর্ট করে গিয়েছেন।
গত কয়েক বছর ধরেই আর্থিক সংকটে ভুগছে ভি। এক সময় যেখানে তাদের গ্রাহকসংখ্যা ছিল ৩০ কোটির কাছাকাছি, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে ২০ কোটিরও নীচে। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, 5G রোলআউট বা গ্রাহক পরিষেবার মান—সব ক্ষেত্রেই তারা প্রতিযোগীদের থেকে পিছিয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তাও কি যথেষ্ট নয়?
ভোডাফোন-আইডিয়ার এই সংকটের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে স্পেকট্রাম ও লাইসেন্স ফি বাবদ সংস্থাটির কাছে সরকারের পাওনা প্রায় ৮৭,৭০০ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া আপাতত পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করেছে মোদী মন্ত্রিসভা।
শুধু তাই নয়, ঋণকে ইকুইটিতে রূপান্তরের মাধ্যমে ভোডাফোন-আইডিয়ার প্রায় ৪৯ শতাংশ অংশীদারি হাতে নিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ সরকার এখন কার্যত এই সংস্থার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই সহায়তায় কি গ্রাহকের আস্থা ফিরবে?
মালিকানায় কারা?
বর্তমানে ভোডাফোন-আইডিয়ার বাকি অংশের পরিচালন দায়িত্ব রয়েছে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী-র হাতে। একদিকে সরকার, অন্যদিকে বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী—এই যুগলবন্দিতে সংস্থাটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তাহলে কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভোডাফোন?
এই মুহূর্তে ভোডাফোন-আইডিয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনও সরকারি ঘোষণা নেই। পরিষেবা এখনও চালু রয়েছে এবং সিম কার্ডও বৈধ। তবে গ্রাহক হারানোর যে গতি দেখা যাচ্ছে, তা যদি থামানো না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিষেবার মান আরও খারাপ হতে পারে—এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
টেলিকম বাজারের ভবিষ্যৎ কী?
সব মিলিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট—ভারতের টেলিকম বাজার ক্রমশ দু’টি শক্তিশালী বেসরকারি সংস্থার দখলে চলে যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং ভোডাফোন-আইডিয়া যদি দ্রুত নিজেদের কৌশল বদলাতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। আর প্রতিযোগিতা কমলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ গ্রাহকের পকেটেই।



