Netanyahu Target : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার সংঘাত এখন শুধু সীমান্তে আটকে নেই—এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক সমীকরণে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-কে নিশানা করে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক পরিকাঠামোর উপর ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’ চালানো হয়েছে। এই দাবি সামনে আসতেই গোটা বিশ্বে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
নেতানিয়াহুর দপ্তরে হামলার দাবি
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে। যদিও ইজরায়েলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন দাবি নিজেই পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
ইরান এই হামলাকে ‘অপ্রত্যাশিত জবাব’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ অভিযানের পর এটি ছিল প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।
সৌদি আরবে তেলের উপর হামলা, বিশ্ব অর্থনীতিতে আতঙ্ক
যুদ্ধের আঁচ শুধু ইজরায়েলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ সৌদি আরবও এবার সরাসরি ইরানের নিশানায়। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা Saudi Aramco-র একটি তেল পরিশোধনাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তেল পরিশোধনাগার এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া আকাশে উঠছে। যদিও সৌদি সরকার জানিয়েছে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও নিরাপত্তার খাতিরে ওই পরিশোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই খবরে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ব্যাখ্যা
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার ইরান থেকে ছোড়া দু’টি ড্রোন সৌদির পূর্বাঞ্চলের রাস টানুরা শহরে অবস্থিত আরামকোর পরিকাঠামোকে নিশানা করে। সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ড্রোন দু’টিকে গুলি করে নামিয়ে দেয়।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—যদি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, তা হলে ওই এলাকায় আগুন ও কালো ধোঁয়ার উৎস কী? সৌদি প্রশাসনের দাবি, ভেঙে পড়া ড্রোনে আগুন ধরে যাওয়ার ফলেই ওই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।
উপসাগরীয় দেশগুলিতেও আতঙ্ক
শনিবার ইরানে হামলার পর থেকেই ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা শুরু করেছে তেহরান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এলাকা এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ অট্টালিকা বুর্জ খলিফা-র কাছেও বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শনিবারই বুর্জ খলিফা খালি করে দেওয়া হয়। রবিবার আবারও আবুধাবিতে একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। যদিও হতাহতের খবর নেই, তবে আগুন লাগার ঘটনা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কড়া বার্তা দিয়েছে ইরানকে। তাদের বক্তব্য, “এই যুদ্ধ পুরোপুরি আপনার। প্রতিবেশী দেশগুলিকে টেনে আনার চেষ্টা করলে তার ফল ভয়াবহ হবে।”
ভারতের উদ্বেগ ও মোদীর বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“ভারত সব সময় আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পক্ষে। সংঘাত নয়, শান্তিই শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী।”
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে উদ্ধার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছে ভারত সরকার।
বিশ্ব সংকটের দোরগোড়ায়?
ইজরায়েল, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের উপর একের পর এক হামলার ঘটনায় স্পষ্ট, এই যুদ্ধ শুধু আঞ্চলিক নয়—এর প্রভাব পড়তে চলেছে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। তেলের দাম, শেয়ার বাজার, কূটনৈতিক সম্পর্ক—সবই এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ না হয়, তবে এই সংঘাত তৃতীয় কোনও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংকটের রূপ নিতে পারে।



