ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুই গোল করে শুধু দলকে জয়ই উপহার দেননি, গড়েছেন নতুন ইতিহাসও।
ডালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘J’-এর গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডার। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বললেও পরে VAR পরীক্ষার পর পেনাল্টি দেওয়া হয়।
পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পান মেসি। কিন্তু অবাক করে দিয়ে তিনি বল পোস্টের বাইরে মারেন। ফলে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। তবে তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি তারা। বরং আরও বেশি আক্রমণ শানাতে থাকে।
১৮ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি হয় মেসির সামনে। কিন্তু অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বাঁচান। এরপরও চাপ বজায় রাখে আর্জেন্টিনা। অবশেষে ৩৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলে। দলের এক দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন মেসি। সেই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতেই। যদিও অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরার জন্য একাধিক আক্রমণ চালায়, তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিল যথেষ্ট সংগঠিত।
ম্যাচের শেষদিকে অস্ট্রিয়া যখন গোল শোধের আশায় প্রায় পুরো দলকে আক্রমণে তুলে দেয়, তখন সেই সুযোগ কাজে লাগায় আর্জেন্টিনা। ইনজুরি টাইমে একক প্রচেষ্টায় অসাধারণ গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন মেসি। সেই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নির্ধারিত হয়ে যায়।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘J’ থেকে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে এবার নকআউট পর্ব আরও বড় হয়েছে। আগের তুলনায় একটি অতিরিক্ত রাউন্ড যুক্ত হওয়ায় শিরোপা জিততে হলে দলগুলোকে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে হবে। ফলে আর্জেন্টিনার সামনে পথ এখনও দীর্ঘ এবং কঠিন।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা তাদের গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে। যদি তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ করে, তাহলে শেষ ৩২-এ তাদের মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘H’-এর দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দল।
এই মুহূর্তে গ্রুপ ‘H’-এর পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে। তবে তাদের সামনে রয়েছে শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ফলে গ্রুপের সমীকরণ এখনও পুরোপুরি নির্ধারিত নয়।
শুধু উরুগুয়েই নয়, কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরবও শেষ ৩২-এ ওঠার লড়াইয়ে রয়েছে। শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থান দখল করবে। তাই আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে এই তিনটি দলের নামই এখন আলোচনায় রয়েছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, উরুগুয়ে প্রতিপক্ষ হলে ম্যাচটি হতে পারে দক্ষিণ আমেরিকার দুই শক্তিশালী দলের হাই-ভোল্টেজ লড়াই। অন্যদিকে কেপ ভার্দে বা সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে সহজ প্রতিপক্ষ মনে হলেও নকআউট ফুটবলে কোনও দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
একদিকে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেসি, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর আর্জেন্টিনা দল—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যাত্রা যে আরও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে, তা বলাই যায়। এখন শুধু অপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত গ্রুপ ‘H’ থেকে কোন দল উঠে এসে মেসিদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
আপনার মতে, আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ কে হতে পারে? মতামত জানাতে ভুলবেন না।



