ইংল্যান্ড সফরের আগে ভারতীয় ক্রিকেট শিবিরে এল বড় সুখবর। দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরতে চলেছেন বিরাট কোহলি। বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে (NCA) কঠোর ফিটনেস পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁর ইংল্যান্ড সফরে যোগ দেওয়া কার্যত নিশ্চিত হয়েছে। ফলে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের আগে ভারতীয় দলের ব্যাটিং বিভাগ আরও শক্তিশালী হতে চলেছে।
তবে কোহলির প্রত্যাবর্তনের আনন্দের মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আরেক অভিজ্ঞ তারকা রোহিত শর্মা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যাটে বড় ইনিংসের দেখা না মিললেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এখনও তাঁর ওপর আস্থা হারায়নি। বরং দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রোহিতকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কোহলির ফেরা ভারতের ব্যাটিংয়ে নতুন আত্মবিশ্বাস
আইপিএলের ফাইনালে চোট পাওয়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, বিরাট কোহলি হয়তো ইংল্যান্ড সফরেও খেলতে পারবেন না। কিন্তু পুনর্বাসনের পুরো প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করে তিনি আবারও ম্যাচ ফিট হয়ে উঠেছেন।
জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে তাঁর ফিটনেস মূল্যায়নের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর টিম ম্যানেজমেন্ট সবুজ সংকেত দিয়েছে। ফলে ইংল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে ভারতের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের একজনকে পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সুবিধা।
সুইং এবং সিম মুভমেন্টে ভরা ইংল্যান্ডের উইকেটে বিরাট কোহলির অভিজ্ঞতা ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে অনেকটাই স্থিতিশীলতা দেবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
অফফর্মে থেকেও কেন রোহিত শর্মার উপর ভরসা?
গত কয়েকটি আন্তর্জাতিক সিরিজে রোহিত শর্মা নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবুও নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না।
এর প্রধান কারণ তাঁর বিশাল আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বড় টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার ইতিহাস। বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেটে নতুন বল সামলানো, দ্রুত রান তোলা এবং বড় ম্যাচে ইনিংস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রোহিত এখনও ভারতের অন্যতম সেরা অস্ত্র।
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই
আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই দেশের পিচ সাধারণত অতিরিক্ত বাউন্স ও গতির জন্য পরিচিত।
এ ধরনের উইকেটে ওপেনিং ব্যাটারদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকে শর্ট বল এবং দ্রুতগতির পেস আক্রমণ সামলানো।
শুভমান গিল, ঈশান কিষাণ কিংবা অন্য তরুণ ব্যাটারদের প্রতিভা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না থাকলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।
অন্যদিকে রোহিত শর্মা বহু বছর ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাফল্যের সঙ্গে ওপেনিং করেছেন। শর্ট বলের বিরুদ্ধে তাঁর পুল ও হুক শট এখনও বিশ্বের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই কারণেই বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় তাঁকে এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে দেখছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
‘রোকো’ জুটির উপরই বড় ভরসা
ভারতের ব্যাটিং শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে এখনও বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকেই ভাবা হচ্ছে।
একজন ইনিংস গড়ে তোলায় দক্ষ, অন্যজন শুরু থেকেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বড় টুর্নামেন্টে তাঁদের অভিজ্ঞতা ভারতের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশ্বকাপের মতো চাপের প্রতিযোগিতায় শুধুমাত্র প্রতিভা নয়, অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে কোহলি ও রোহিত এখনও ভারতের অন্যতম বড় সম্পদ।
ইংল্যান্ড সিরিজ হবে বিশ্বকাপের মহড়া
আগামী ইংল্যান্ড সিরিজকে শুধুমাত্র একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হিসেবে দেখছে না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংল্যান্ডের আবহাওয়া ও উইকেটের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার কিছুটা মিল রয়েছে। ফলে এই সিরিজ বিশ্বকাপের আগে আদর্শ প্রস্তুতির সুযোগ এনে দেবে।
এই সফরে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে থাকবেন শুভমান গিল। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন শ্রেয়স আইয়ার। পাশাপাশি দীর্ঘ বিরতির পর একদিনের দলে ফিরছেন জসপ্রীত বুমরাহ, যা বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে।
চোটের কারণে হার্দিক পাণ্ডিয়া এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি দলে না থাকলেও, কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন।
সামনে বড় পরীক্ষা
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সিরিজে বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন যেমন ভারতীয় সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তেমনই রোহিত শর্মার ফর্মও নজরে থাকবে সবার।
যদি এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আবারও নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেন, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল হবে।
এখন দেখার বিষয়, ইংল্যান্ডের মাটিতে ‘রোকো’ জুটি আবারও নিজেদের পুরনো ছন্দে ফিরতে পারেন কি না। কারণ ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের বিশ্বাস, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার কোনও বিকল্প নেই, আর সেই অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় প্রতীক এখনও বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাই।



