অযোধ্যার রামমন্দিরে দান করা একটি বিশেষ ‘রামচরিতমানস’কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোনা, রুপো ও তামার সমন্বয়ে নির্মিত এই বিরল ধর্মীয় গ্রন্থটি কিছু মাস ভক্তদের দর্শনের জন্য রাখা হলেও পরে তা আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকেই দাতা পরিবার মন্দির ট্রাস্টের কাছে গ্রন্থটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি বা ট্রাস্টের তরফে এখনও পর্যন্ত গ্রন্থটি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে দাতা পরিবারের দাবি এবং বিষয়টি ঘিরে ওঠা প্রশ্ন ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
কী এই বিশেষ ‘রামচরিতমানস’?
প্রায় ১৪৭ কেজি ওজনের এই বিশেষ সংস্করণের ‘রামচরিতমানস’ বহু মূল্যবান ধাতু দিয়ে নির্মিত। দাতা পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, এতে ৫২২টি সোনার প্রলেপযুক্ত পৃষ্ঠা রয়েছে এবং তুলসীদাস রচিত ১০ হাজারেরও বেশি শ্লোক সংকলিত হয়েছে। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
এই গ্রন্থটি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে অযোধ্যার রামমন্দির ট্রাস্টের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
কেন উঠছে প্রশ্ন?
দাতা পরিবারের অভিযোগ, প্রথমদিকে এই বিশেষ গ্রন্থটি দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হলেও কয়েক মাস পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বহুবার জানতে চাইলেও গ্রন্থটি বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের দাবি।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দাতা পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত ও মৌখিক—উভয়ভাবেই ট্রাস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
দাতা পরিবারের বক্তব্য
এই গ্রন্থের অন্যতম দাতা দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব এস. লক্ষ্মীনারায়ণন। তাঁর পরিবারের দাবি, এটি শুধুমাত্র একটি মূল্যবান ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বহু বছরের ভক্তি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রতীক।
তাঁদের বক্তব্য, দান করা সামগ্রীর যথাযথ সংরক্ষণ ও অবস্থান সম্পর্কে ট্রাস্টের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। কারণ এটি কোটি কোটি ভক্তের আবেগের সঙ্গে জড়িত।
ট্রাস্ট কী বলেছে?
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রামমন্দির ট্রাস্টের তরফে গ্রন্থটি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি।
ফলে বর্তমানে নিশ্চিতভাবে শুধু এটুকুই বলা যায় যে, গ্রন্থটির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং দাতা পরিবার ব্যাখ্যা চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাস্টের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কেন আলোচনা?
অযোধ্যার রামমন্দির দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে আসেন। সেই কারণে মন্দিরে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এত মূল্যবান একটি ধর্মীয় উপহার প্রকাশ্যে না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও কোনও তদন্তকারী সংস্থা এখনও চুরির ঘটনা নিশ্চিত করেনি।
ধর্মীয় দান সংরক্ষণে স্বচ্ছতা কেন জরুরি?
বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান দান যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত তালিকা প্রকাশ, ডিজিটাল ইনভেন্টরি এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
এতে দাতাদের আস্থাও বজায় থাকে এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে স্বচ্ছতার বার্তা যায়।
সামনে কী হতে পারে?
দাতা পরিবারের প্রশ্নের জবাবে রামমন্দির ট্রাস্ট যদি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থটির বর্তমান অবস্থান ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে, তাহলে বিতর্কের অনেকটাই অবসান হতে পারে।
অন্যদিকে, যদি বিষয়টি নিয়ে আরও অভিযোগ বা আইনি পদক্ষেপ হয়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে। বর্তমানে সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে চুরির ঘটনা নিশ্চিত করা হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।



