Sunday, August 2, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথাE20 পেট্রোল নীতি ঘিরে বাড়ছে অসন্তোষ, সংসদ অভিযানের ডাক পরিবহণ সংগঠনের; কী...

E20 পেট্রোল নীতি ঘিরে বাড়ছে অসন্তোষ, সংসদ অভিযানের ডাক পরিবহণ সংগঠনের; কী কী দাবি উঠছে?

দেশে ইথানল-মিশ্রিত E20 পেট্রোল চালুর পর তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে এক পরিবহণ সংগঠন E20 জ্বালানি নীতির বিরোধিতা করে সংসদ অভিযানের ঘোষণা করেছে। সংগঠনের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বহু পুরনো গাড়ির মাইলেজ কমছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে নতুন করে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই পরিবহণ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, জ্বালানি নীতি নিয়ে এবার কি আরও বড় বিতর্কের মুখে পড়তে চলেছে কেন্দ্র?


কেন সংসদ অভিযানের ডাক?

দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্টার্স অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন আগামী ৪ আগস্ট সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, E20 পেট্রোল নীতি, বাণিজ্যিক যানবাহনের গতি সীমা এবং পুরনো গাড়ি সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তারা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রতিনিধিরা হাতে আখ নিয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের বক্তব্য, আখ থেকে উৎপাদিত ইথানল পেট্রোলে মেশানোর নীতির বিরুদ্ধেই এই প্রতীকী প্রতিবাদ।


E20 পেট্রোল নিয়ে কী অভিযোগ?

সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় সম্রাটের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চালকদের কাছ থেকে অভিযোগ আসছে যে E20 পেট্রোল ব্যবহারের পরে কিছু গাড়িতে আগের তুলনায় জ্বালানির দক্ষতা কমে যাচ্ছে।

তাঁদের আরও দাবি, বিশেষ করে ২০১৫ সালের আগে তৈরি বহু যানবাহন E20 জ্বালানির জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে এসব গাড়ির ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

তবে এই দাবিগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা গাড়ি প্রস্তুতকারকদের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে কোনও সর্বজনীন নিশ্চিতকরণ প্রকাশিত হয়নি। বাস্তবে কোনও গাড়ি E20-সমর্থিত কি না, তা সংশ্লিষ্ট নির্মাতার নির্দেশিকার উপর নির্ভর করে।


শুধু E20 নয়, আরও কোন বিষয় তুলে ধরছে সংগঠন?

সংগঠনের পক্ষ থেকে অল ইন্ডিয়া টুরিস্ট পারমিটধারী বাণিজ্যিক গাড়ির গতিসীমা নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।

তাঁদের বক্তব্য, আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে ও জাতীয় সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির তুলনায় বাণিজ্যিক ট্যাক্সি ও বাসের জন্য ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করায় পরিবহণ পরিষেবা প্রভাবিত হচ্ছে।

এছাড়াও পুরনো যানবাহন বাতিল সংক্রান্ত নীতির পুনর্বিবেচনার দাবিও জানানো হয়েছে।


E20 পেট্রোল কী?

E20 হল এমন এক ধরনের পেট্রোল, যেখানে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল মিশ্রিত থাকে।

কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানো, জ্বালানি আমদানি হ্রাস করা এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। সেই উদ্দেশ্যেই দেশে E20 জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিভিন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে E20 ব্যবহারের সক্ষমতা এক নয়। তাই বিশেষজ্ঞরা সবসময় নির্মাতা সংস্থার নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।


কেন্দ্রের অবস্থান কী?

কেন্দ্র সরকারের মতে, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হলে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমবে এবং কৃষি-ভিত্তিক ইথানল উৎপাদনও উৎসাহিত হবে।

তবে পরিবহণ সংগঠনগুলির একাংশের অভিযোগ, এই নীতি বাস্তবায়নের আগে পুরনো যানবাহনের ব্যবহারকারীদের জন্য আরও স্পষ্ট রূপরেখা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন।


সামনে কী হতে পারে?

ঘোষণা অনুযায়ী, ৪ আগস্টের সংসদ অভিযান ঘিরে পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে। আন্দোলনে কতটা সমর্থন মেলে এবং কেন্দ্র সরকার সংগঠনগুলির দাবির বিষয়ে কোনও নতুন সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

জ্বালানি নীতি, পরিবহণ খরচ এবং সাধারণ গাড়িচালকদের স্বার্থ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে E20 বিতর্ক আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments