উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অ্যাপ-বাইক চালক অমিত দাসের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সামনে এসেছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় স্ত্রী রেশমি দাস স্বামীকে মারধর করেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন অমিত। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল?
উত্তর কলকাতার পাইকপাড়া এলাকায় অমিত দাস ও তাঁর স্ত্রী রেশমি দাসের মধ্যে রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। অভিযোগ, মেলায় না যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার সময় মোমো না আনা নিয়ে বচসা চরমে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, ঝগড়ার এক পর্যায়ে রেশমি দাস স্বামীকে ঘুষি ও লাথি মারেন। এরপর অমিত অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই সময় তাঁদের সাত বছরের সন্তানও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ।
হাসপাতালে মৃত্যু
প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে অমিতকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত স্ত্রী রেশমি দাসকে গ্রেপ্তার করে।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের পরিবারের দাবি, আর্থিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংসারে অশান্তি চলছিল। অমিতের বোন অভিযোগ করেছেন, সামান্য আয় নিয়ে প্রায়ই স্বামীর সঙ্গে বিবাদ হতো এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সরকারি বা বিচারিকভাবে এখনও নিশ্চিতকরণ হয়নি।
তদন্তে কী দেখছে পুলিশ?
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বর্তমানে তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।
কী জানা জরুরি?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন দাবি ছড়ালেও, এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে শুধুমাত্র একটি লাথির আঘাতেই অমিত দাসের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং পুলিশি তদন্ত।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নয়। তাই ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সরকারি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।



