ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে CJP প্রধান অভিজিৎ দীপকের নাম। একজন RTI কর্মীর করা একাধিক অভিযোগ ও বিভিন্ন সরকারি দফতরে পাঠানো আবেদনের জেরে তাঁর পারিবারিক আর্থিক পটভূমি, সংগঠনের কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা আদালতের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে আসেনি।
সূত্রের দাবি, সুরাতের RTI কর্মী অমিত তিওয়ারি নির্বাচন কমিশন, GST কর্তৃপক্ষ এবং মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে পৃথকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই আবেদনে অভিজিৎ দীপকের পারিবারিক সম্পত্তির উৎস, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় এবং CJP-র সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।
কী অভিযোগ উঠেছে?
RTI আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিজিৎ দীপকের বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র সরকারের একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আবেদনকারীর প্রশ্ন, ওই চাকরির আয়ের ভিত্তিতে কীভাবে অভিজিৎ দীপকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়েছিল।
তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও সরকারি তদন্তের রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
CJP-র রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন
RTI আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, CJP যদি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল না হয়, তাহলে তারা কীভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
এই প্রসঙ্গে আবেদনকারী জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর 29A ধারার উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন এই আবেদনের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি।
‘লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড’ নিয়েও নতুন বিতর্ক
স্ক্রিপ্টে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, NEET আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ১ কোটি টাকার একটি “লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড” ঘোষণা করেন।
RTI আবেদনকারীর দাবি, এই অর্থের উপর GST প্রযোজ্য কি না, তা কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বোর্ড (CBIC)-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত।
তবে এই দাবির বিষয়ে CBIC-এর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে কী বলছেন অভিজিৎ দীপকে?
এদিকে অভিজিৎ দীপকে নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব হয়েছেন।
স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় মহিলা ও নাবালিকা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি আচরণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
এছাড়াও আন্দোলনের জেরে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের দাবিও তিনি তুলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারি অবস্থান কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে RTI আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলির কোনওটিরই স্বাধীন সরকারি বা বিচারিক নিশ্চিতকরণ এখনও সামনে আসেনি।
নির্বাচন কমিশন, GST বিভাগ, মহারাষ্ট্র সরকার কিংবা CBIC—কোনও সংস্থাই অভিযোগগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফল প্রকাশ করেনি। একইভাবে অভিজিৎ দীপকের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কেন এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতে রাজনৈতিক সংগঠন, অর্থের উৎস এবং স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমহলে আলোচনা রয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়াই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ।
তবে অভিযোগ ওঠা মানেই তা প্রমাণিত—এমন নয়। কোনও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার।
এখন নজর কোথায়?
এখন দেখার বিষয়, RTI আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলি কোনও তদন্ত শুরু করে কি না এবং করলে তার ফলাফল কী হয়।
একই সঙ্গে অভিজিৎ দীপকে বা CJP-র পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। সরকারি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।



