২০২৬ সালের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার, খরচ এবং তহবিলের হিসাব প্রকাশ্যে আসতেই সামনে এসেছে বড় অঙ্কের পার্থক্য।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৬ মে—এই ৫২ দিনের নির্বাচনী সময়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দফতরের closing balance ₹৬,৭২২.৬ কোটি থেকে বেড়ে ₹৭,৬২৭.২ কোটি হয়েছে। অর্থাৎ বৃদ্ধি প্রায় ₹৯০৪.৬ কোটি।
অন্যদিকে, একই সময়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় দফতর ও পাঁচটি রাজ্য ইউনিট মিলিয়ে available funds প্রায় ₹৬৫.৮৬ কোটি কমেছে।
তবে এই হিসাব সামনে আসার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠছে—বিজেপির এই বিপুল আর্থিক প্রবাহ এল কোথা থেকে এবং পাঁচ রাজ্যের পুরো নির্বাচনী হিসাব প্রকাশিত হলে চূড়ান্ত ছবিটা কতটা বদলাবে?
৫২ দিনে বিজেপির কাছে এল ₹১,৪৭২.৮ কোটি
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া BJP-র expenditure statements অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী সময়ে দলের কেন্দ্রীয় সদর দফতরে ₹১,৪৭২.৮ কোটি receipts রিপোর্ট করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ইউনিট মিলিয়ে reported net receipts ছিল প্রায় ₹২০৭.১৭ কোটি।
অর্থাৎ, এই দুই অঙ্কের সরাসরি তুলনায় বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দফতরের reported receipts কংগ্রেসের সম্মিলিত reported net receipts-এর সাত গুণেরও বেশি।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে—BJP-র ₹১,৪৭২.৮ কোটি হল কেন্দ্রীয় সদর দফতরের receipts, আর কংগ্রেসের ₹২০৭.১৭ কোটি হল কেন্দ্র ও রাজ্য ইউনিট মিলিয়ে net receipts। তাই এগুলিকে একেবারে সমপর্যায়ের হিসাব হিসেবে দেখলে বিভ্রান্তি হতে পারে।
তাহলে ৯০৫ কোটি টাকা বাড়ল কীভাবে?
এখানে ‘সম্পত্তি’ এবং ‘closing balance’-এর পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
১৫ মার্চ নির্বাচনী সময়ের শুরুতে বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দফতরের closing balance ছিল প্রায় ₹৬,৭২২.৬ কোটি।
৬ মে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সময় সেই balance দাঁড়ায় ₹৭,৬২৭.২ কোটি।
অর্থাৎ, হিসাবের ব্যবধান প্রায় ₹৯০৪.৬ কোটি।
তাই এটিকে ‘৫২ দিনে বিজেপির সম্পত্তি ₹৯০০ কোটি বেড়েছে’ না বলে ‘কেন্দ্রীয় দফতরের reported closing balance ₹৯০৪.৬ কোটি বেড়েছে’ বলা বেশি নির্ভুল।
কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ছবিটা উল্টো
নির্বাচনী সময়ের শুরুতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় দফতর এবং পাঁচটি রাজ্য ইউনিট মিলিয়ে cash ও bank balance ছিল প্রায় ₹১৬৯.০৬ কোটি।
নির্বাচনী সময়ের শেষে তা নেমে আসে প্রায় ₹১০৩.২ কোটি-তে।
অর্থাৎ, available funds কমেছে প্রায় ₹৬৫.৮৬ কোটি।
তবে এটিও মনে রাখা দরকার, কংগ্রেসের reported expenditure ছিল প্রায় ₹২৪৮.৫৫ কোটি। অর্থাৎ receipts এবং expenditure—দুই দিকই বিবেচনায় নিলে ছবিটি আরও পরিষ্কার হয়।
অসমে বিজেপির প্রচারে খরচ কত?
যে রাজ্যগুলির BJP expenditure statement এখনও প্রকাশ্যে এসেছে, তার মধ্যে অসমে সবচেয়ে বেশি খরচের হিসাব দেখা যাচ্ছে।
নথি অনুযায়ী, অসমে বিজেপির মোট reported expenditure প্রায় ₹৯৬.২৭ কোটি।
এর মধ্যে প্রায় ₹৭৬.৭৩ কোটি general party propaganda এবং ₹১৯.৫৪ কোটি প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় হয়েছে।
আর প্রচারের খুঁটিনাটি হিসাব আরও চমকপ্রদ।
অসমে বিজ্ঞাপনে খরচ হয়েছে প্রায় ₹৩৭ কোটি, আর star campaigner-দের যাতায়াত বাবদ খরচ প্রায় ₹২৭.৩ কোটি।
অর্থাৎ, শুধু বিজ্ঞাপন এবং তারকা প্রচারকদের যাতায়াতেই প্রায় ₹৬৪ কোটি ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।
তিন রাজ্যে বিজেপির মোট খরচ প্রায় ₹১৬০ কোটি
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত BJP-র নথি অনুযায়ী, অসম, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি মিলিয়ে দলের reported election expenditure প্রায় ₹১৫৯.৭ কোটি।
এর মধ্যে—
- অসম: প্রায় ₹৯৬.২৭ কোটি
- তামিলনাড়ু: প্রায় ₹৫১.৬ কোটি
- পুদুচেরি: প্রায় ₹১১.৯ কোটি
এই তিন জায়গায় মোট খরচের প্রায় ₹১৩০.৪ কোটি general party propaganda এবং বাকি অংশ প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট খাতে গেছে।
বাংলা ও কেরলের হিসাব এখনও বাকি
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে।
কিন্তু সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ ও কেরল নির্বাচনের expenditure statements এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে এখন যে ₹১,৪৭২.৮ কোটি receipts এবং প্রায় ₹১৫৯.৭ কোটি expenditure-এর ছবি দেখা যাচ্ছে, সেটিই পাঁচটি নির্বাচনের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব নয়। পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের নথি প্রকাশিত হলে মোট expenditure ও সংশ্লিষ্ট হিসাব আরও পরিষ্কার হতে পারে।
তাহলে ‘টাকার লড়াই’ কি সত্যিই চলছে?
এই পরিসংখ্যান অবশ্যই দেখাচ্ছে যে নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।
কিন্তু শুধু কোনও দলের কাছে বেশি অর্থ রয়েছে বলেই ভোটাররা জনসমর্থনের বদলে টাকা দেখে ভোট দিয়েছেন—এমন সিদ্ধান্ত এই নথি থেকে টানা যায় না।
একইভাবে, বিজেপির reported receipts বা closing balance বৃদ্ধি পেলেই সেটিকে অবৈধ অর্থ, কর ফাঁকি বা বেআইনি অর্থপ্রবাহের প্রমাণ বলা যাবে না।
এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কোন খাতে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং সব হিসাব যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে আরও সম্পূর্ণ আর্থিক নথি প্রয়োজন।
আসল অঙ্ক এখনও কতটা অজানা?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় তথ্যগত সীমাবদ্ধতা হল—পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের BJP expenditure statements এখনও প্রকাশিত হয়নি।
তাই ‘₹১,৪৭২ কোটি হল বিজেপির পাঁচ রাজ্যের সম্পূর্ণ নির্বাচনী তহবিল’—এমন দাবি করা ঠিক হবে না।
বরং বলা যায়, নির্বাচন কমিশনে প্রকাশিত নথির ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত BJP-র কেন্দ্রীয় সদর দফতরে ₹১,৪৭২.৮ কোটি receipts-এর হিসাব সামনে এসেছে, আর দলের কেন্দ্রীয় closing balance ৫২ দিনে প্রায় ₹৯০৪.৬ কোটি বেড়েছে। বাকি নথি প্রকাশিত হলে পূর্ণ ছবিটা আরও পরিষ্কার হবে।
প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে
বিপুল অঙ্কের রাজনৈতিক অর্থপ্রবাহের এই তথ্য স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনী অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
তবে প্রশ্ন তোলা এবং কোনও আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নথি প্রকাশ্যে আসার ফলে অন্তত রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী receipts, expenditure এবং balance সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সামনে একটি হিসাব তৈরি হচ্ছে।
এখন পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের বাকি নথি প্রকাশিত হলে দেখা যাবে, ২০২৬ সালের পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির প্রকৃত reported financial picture কতটা বড় হয়।
একটি বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট—এই নির্বাচনী পর্বে বিজেপির আর্থিক শক্তি এবং কংগ্রেসের reported fund position-এর মধ্যে বড় ফারাক দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু এই অর্থের উৎস ও ব্যবহারের পূর্ণ ছবি জানতে হলে এখনও বাকি নথিগুলির দিকে তাকাতেই হবে।
আপনার কী মনে হয়—নির্বাচনে বিপুল অর্থের প্রভাব কি সত্যিই ভোটের ফল বদলে দিতে পারে? নাকি শেষ পর্যন্ত জনসমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি?



