Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথাআর কয়েক দিনের মধ্যেই অচল হয়ে পড়তে পারে গোটা রাজ্য ! স্বয়ং...

আর কয়েক দিনের মধ্যেই অচল হয়ে পড়তে পারে গোটা রাজ্য ! স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গদি নড়ে যেতে পারে ?

Political Controversy : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের একবার ঝড়ের পূর্বাভাস। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্য কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে— এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ালেন বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের একাধিক বড় কেলেঙ্কারি খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসতে চলেছে। আর সেই সব তথ্য সামনে এলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বড়সড় চাপে পড়বে।

এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে— ঠিক কী ধরনের কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত দিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? সত্যিই কি রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় আসতে চলেছে? নাকি এটা শুধুই রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল?

রবিবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেত্রী রাজন্যা হালদার এবং শুভঙ্কর হালদারের ডাকা এক সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ। সেই মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, রাজ্যের আরও একটি বড় দুর্নীতির ঘটনা শীঘ্রই সামনে আসবে। আর তা প্রকাশ্যে এলে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে টানা ৭২ ঘণ্টার রাজ্যজোড়া ধর্মঘট ডাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে। কারণ তিনি শুধু বিরোধী দলের নেতা নন, এক সময়ের হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবেও তাঁর মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে। তাঁর কথায়, “কিছু কেলেঙ্কারি খুব শিগগিরই প্রকাশ্যে আসবে। তখন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ আরও জোরালো হবে। সেই সময় রাজ্যবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে।”

এই আন্দোলনের ডাক শুধু রাজনৈতিক দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আলোচ্য সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মাও। তাঁরাও মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে ন্যায়বিচার বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং সরকারের নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এদিন রাজন্যা হালদার ও শুভঙ্কর হালদার একটি বিস্তৃত আন্দোলন কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বকে সামনে রেখে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের একত্রিত করা হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— সর্বত্র আন্দোলনের শিবির গড়ে তোলা হবে। বেকারদের কাছ থেকে মার্কশিটের কপি সংগ্রহ করে তা নবান্নে নিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি চাকরির দাবি জানানো হবে।

এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, রাজনৈতিক দলের বাইরে থাকা সাধারণ মানুষকেও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তাঁর কথায়, “এটা কোনও দলের আন্দোলন নয়, এটা রাজ্যের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।”

তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, যদি এই কেলেঙ্কারিগুলি প্রকাশ্যে আসে এবং সরকার কোনও দায়িত্ব না নেয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি আরও জোরদার হবে। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী যতক্ষণ না রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত।

এখানেই থামেননি বিজেপি সাংসদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “যদি কেলেঙ্কারি সামনে না আসে, তাহলে আদালতেই দেখা হবে।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। অনেকে মনে করছেন, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় হয়তো আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। শাসক শিবির এখনও পর্যন্ত এই দাবির সরাসরি কোনও জবাব না দিলেও, বিরোধীদের মধ্যে নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে আদৌ কোনও বড় কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে কি না, আর তার প্রভাব রাজ্য সরকারের উপর কতটা পড়ে— সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের নজরে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments