Abhishek Sharma : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত ভারত। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে জয় পেলেও ভারতীয় শিবিরে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে একটাই নাম— Abhishek Sharma। টুর্নামেন্টে তাঁর ব্যাট থেকে এখনও পর্যন্ত একটিও রান আসেনি। চার ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচে খেলে শূন্য রানে আউট—এই অস্বস্তিকর পরিসংখ্যানই এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে টিম ইন্ডিয়ার সামনে।
২২ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে সুপার এইট পর্ব। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নামবে ভারত। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অভিষেকের ফর্মহীনতা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে—সুপার এইটে কি আদৌ প্রথম একাদশে থাকবেন তিনি? নাকি বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে BCCI?
শূন্যের হ্যাটট্রিক: মানসিক চাপ না কি টেকনিক্যাল সমস্যা?
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে টানা ব্যর্থতা যে কোনও ক্রিকেটারের উপর মানসিক চাপ তৈরি করে। অভিষেকের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না বলেই মত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। কেউ কেউ বলছেন, সমস্যাটা শুধুই ফর্মের নয়—এখানে রয়েছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। আবার অনেকে মনে করছেন, তাঁর ব্যাটিং টেকনিকে গলদ ধরা পড়ছে, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে শর্ট বল ও ইনসুইং ডেলিভারির বিরুদ্ধে।
তবে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে তাঁর শারীরিক সমস্যা।
অসুস্থতা কি ব্যর্থতার মূল কারণ?
আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের পর আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিষেক শর্মা। পেটের সমস্যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেই সময় তাঁর ওজন কমে যায় এবং ডায়েটেও বড় পরিবর্তন আনতে হয়। পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই তাঁকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামানো হয়। এরপর নেদারল্যান্ডস ম্যাচেও সুযোগ পান তিনি।
এই ধারাবাহিক ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তই কি তাঁর পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে? প্রশ্ন উঠছে সেটাই। অনেকের মতেই, অসুস্থতার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় অভিষেক নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেননি। দুর্বল শরীর নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলা যে কতটা কঠিন, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিকল্প হিসেবে সঞ্জু স্যামসন?
এই পরিস্থিতিতে টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে Sanju Samson-এর নাম। টপ অর্ডারে অভিষেকের জায়গায় তাঁকে খেলানোর সম্ভাবনাই এখন বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়ে ২২ রান করেছিলেন সঞ্জু। যদিও সেটি খুব বড় ইনিংস নয়, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিষেকের তুলনায় তাঁকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন নির্বাচক ও বিশেষজ্ঞরা।
তবে এখানেও একটা সমস্যা রয়েছে। সঞ্জু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে ধারাবাহিক বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না। ফলে সিদ্ধান্তটা সহজ নয়। সুপার এইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্বের আগে একাদশ বাছাই নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিধায় ভারতীয় শিবির।
সূর্যকুমারের সামনে কঠিন সমীকরণ
প্রথম একাদশ কেমন হবে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, টিম কম্বিনেশন নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন অধিনায়ক Suryakumar Yadav। একদিকে রয়েছে অভিষেকের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ গুরুত্ব, অন্যদিকে রয়েছে বর্তমান ফর্ম ও ম্যাচ জেতার চাপ।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই মুহূর্তে অভিষেকের উপর বাড়তি চাপ না দিয়ে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি ভারত সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছায়, তখন ফিট ও ফ্রেশ অভিষেক দলের জন্য বড় অস্ত্র হতে পারেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের পরিসংখ্যান
সুপার এইটে ভারতের প্রথম প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত কিছুটা এগিয়ে। এখনও পর্যন্ত ৩৫টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ২১টি, দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ১৩টি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চেও ভারতের রেকর্ড ভালো। ৫ ম্যাচে জয়ের বিপরীতে হার মাত্র ২টিতে।
সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াই ছিল ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে ভারত ৭ রানে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা।
বড় প্রশ্ন: অভিষেক খেলবেন তো?
সব মিলিয়ে সুপার এইটের আগে ভারতীয় দলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অভিষেক শর্মা কি আদৌ প্রথম একাদশে থাকছেন? নাকি আপাতত তাঁকে বিশ্রাম দিয়ে সঞ্জু স্যামসনের উপর ভরসা রাখবে টিম ম্যানেজমেন্ট?
এই সিদ্ধান্তই অনেকাংশে নির্ধারণ করে দিতে পারে ভারতের বিশ্বকাপ যাত্রার ভবিষ্যৎ।



