AI Job Loss : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়—এটি বাস্তব, এবং প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। কাজের গতি বাড়ানো, খরচ কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি—এই সব সুবিধার পাশাপাশি AI নিয়ে আসছে এক গভীর উদ্বেগও। সেই উদ্বেগের নাম চাকরি ছাঁটাই। বিশ্বের একের পর এক নামী সংস্থা কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার।
বিশেষ করে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের মতো ই-কমার্স জায়ান্টদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে চাকরির বাজারকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছেই— ১০ জনের কাজ যখন একাই করে দিচ্ছে AI, তখন মানুষের জায়গা কোথায়?
🔴 অ্যামাজনে ফের ছাঁটাইয়ের জল্পনা
নতুন বছরের শুরুতেই অ্যামাজনের অন্দরে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই ফের বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করতে পারে এই ই-কমার্স সংস্থা। গুঞ্জন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন।
এর আগেও ২০২৩ সালে অ্যামাজন প্রায় ২৭ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল। সেই সময় সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল— অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো গড়ে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। এবারও পরিস্থিতি খুব একটা আলাদা নয়।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। যদিও অ্যামাজনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
🤖 AI কেন কর্মীদের জায়গা নিচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন এমন স্তরে পৌঁছেছে যেখানে—
- রিপোর্ট তৈরি
- ডেটা বিশ্লেষণ
- কাস্টমার সাপোর্ট
- এইচআর স্ক্রিনিং
- সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট
এই সমস্ত কাজ অনেক দ্রুত, নির্ভুল ও কম খরচে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে যে কাজ আগে ৮–১০ জন কর্মী মিলিয়ে করতেন, তা এখন একটি AI সিস্টেমই একা সামলে নিচ্ছে।
অ্যামাজনের ক্ষেত্রেও ঠিক এই কারণেই বহু পদ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। AI-চালিত টুল ব্যবহার করে সংস্থা খরচ বাঁচাতে চাইছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মীদের উপর।
⚠️ কোন কোন ডিপার্টমেন্ট সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, কিছু নির্দিষ্ট বিভাগ সবচেয়ে বেশি রিস্ক জোনে রয়েছে—
🔹 ১. মানব সম্পদ (HR)
AI এখন CV স্ক্যানিং থেকে শুরু করে ইন্টারভিউয়ের প্রাথমিক ধাপ পর্যন্ত সামলাতে পারছে। ফলে HR টিমে বড় আকারে কর্মী কমানোর পরিকল্পনা চলছে।
🔹 ২. পিপল এক্সপেরিয়েন্স ও টেকনোলজি ডিভিশন
অ্যামাজনের অন্দরের খবর অনুযায়ী, এই বিভাগে ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
🔹 ৩. কাস্টমার সাপোর্ট
চ্যাটবট ও AI ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের কারণে বহু কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভের প্রয়োজন কমে যাচ্ছে।
🔹 ৪. ডেটা এন্ট্রি ও ব্যাক অফিস
রুটিন ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ সবচেয়ে সহজে AI দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে।
🔹 ৫. জুনিয়র লেভেল আইটি সাপোর্ট
কোড অটোমেশন ও AI টুলের ফলে বহু টেকনিক্যাল কাজ এখন সফটওয়্যারই করে দিচ্ছে।
🌍 শুধু অ্যামাজন নয়, গোটা বিশ্বেই একই ছবি
অ্যামাজনের পাশাপাশি ফ্লিপকার্ট, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফটের মতো সংস্থাগুলিও গত কয়েক বছরে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনও সাময়িক সংকট নয়— বরং কাজের ধরণ বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত।
🔍 তাহলে কর্মীদের করণীয় কী?
AI যে আসবে, তা থামানো সম্ভব নয়। কিন্তু এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
- নতুন স্কিল শেখা (AI tools, data analysis, prompt engineering)
- রুটিন কাজের বদলে ক্রিয়েটিভ ও স্ট্র্যাটেজিক কাজে দক্ষ হওয়া
- প্রযুক্তিকে শত্রু না ভেবে সহকারী হিসেবে ব্যবহার শেখা
যাঁরা সময়ের সঙ্গে নিজেদের আপডেট করতে পারবেন, তাঁরাই ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকবেন।
🧩 উপসংহার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে প্রযুক্তির এক বিপ্লব। কিন্তু তার প্রভাব চাকরির বাজারে যে গভীর ছাপ ফেলছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অ্যামাজনের সম্ভাব্য ছাঁটাই সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। এখন দেখার, মানুষ কত দ্রুত এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।



