Wednesday, March 4, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিশ্বকাপ জয়ী হয়েও নিজের রাজ্যে খেলতে পারবেন না আয়ুষ মাত্রে ! নেপথ্যে...

বিশ্বকাপ জয়ী হয়েও নিজের রাজ্যে খেলতে পারবেন না আয়ুষ মাত্রে ! নেপথ্যে বোর্ডের কোন নিয়ম ?

Ayush Mhatre : অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর গোটা দেশের গর্বে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ আয়ুষ মাত্রে। কিন্তু সাফল্যের রোশনাইয়ের মাঝেই এল অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হয়েও এবার নিজের রাজ্যের মাটিতে খেলতে পারবেন না আয়ুষ মাত্রে।

এই ঘটনায় অবাক ক্রিকেটমহল। প্রশ্ন উঠছে—যে ক্রিকেটার সদ্য ভারতকে বিশ্বজয় এনে দিলেন, তিনিই কেন ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ পাচ্ছেন না? এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি কড়া নিয়ম, যা কার্যত বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে এই তরুণ তারকার সামনে।

কোন ম্যাচে খেলতে চেয়েছিলেন আয়ুষ?

বিশ্বকাপ জয়ের পর আয়ুষ মাত্রে চাইছিলেন নিজের রাজ্য মুম্বইয়ের হয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ কর্নেল সিকে নাইডু ট্রফিতে মাঠে নামতে। শুক্রবার থেকে এই প্রতিযোগিতায় মুম্বই দলের ম্যাচ শুরু হচ্ছে ওড়িশার বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে দলে দেখতে মুখিয়ে ছিলেন সমর্থকরা।

কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

বোর্ডের কোন নিয়মে আটকে গেলেন আয়ুষ?

এই পরিস্থিতির মূল কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-এর ঘরোয়া ক্রিকেট সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট নিয়ম। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী—

কোনও ক্রিকেটার যদি কোনও নির্দিষ্ট মরসুমে আগেই অন্তত দু’টি ঘরোয়া ম্যাচ না খেলেন, তাহলে তিনি হঠাৎ করে সেই প্রতিযোগিতায় নামতে পারবেন না।

আয়ুষ মাত্রে এই নিয়মের ফাঁদেই পড়েছেন। কারণ, তিনি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলতে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে মুম্বইয়ের হয়ে ঘরোয়া পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। সেই কারণেই কর্নেল সিকে নাইডু ট্রফিতে তাঁর নামার পথ আপাতত বন্ধ।

সাফল্যের পরেই বাধা—কতটা কঠিন এই পরিস্থিতি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আয়ুষের জন্য মানসিক দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, সাধারণত বিশ্বকাপ জয়ের পর কোনও ক্রিকেটারের কেরিয়ার নতুন গতি পায়। রাজ্য দলে সুযোগ, সিনিয়র পর্যায়ে নজর কাড়ে পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে এই সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু নিয়মের কারণে আপাতত সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। যদিও বোর্ডের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

সতীর্থ সুযোগ পেলেও আয়ুষ কেন নয়?

এখানেই উঠে আসছে আরেকটি কৌতূহলজনক দিক। আয়ুষের বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থ অভিজ্ঞান কুন্ডু কিন্তু এই ম্যাচে মুম্বইয়ের হয়ে খেলবেন। অথচ তিনিও এর আগে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে মুম্বইয়ের হয়ে কোনও ম্যাচ খেলেননি।

তবে বোর্ডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অভিজ্ঞান এই প্রতিযোগিতার জন্য আগেই দলে নথিভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর ক্ষেত্রে নিয়মগত কোনও বাধা নেই। ফলে প্রথমবার হলেও তাঁর নামা সম্ভব হচ্ছে।

বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাসে আয়ুষ

আয়ুষ মাত্রে ভারতের ষষ্ঠ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। জিম্বাবোয়েতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দাপট দেখিয়েছিল দল।

শুরুর দিকে ব্যাট হাতে খুব একটা ছন্দে না থাকলেও, নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন আয়ুষ। অধিনায়ক হিসেবে মাঠে তাঁর সিদ্ধান্ত, বোলারদের ব্যবহার এবং চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষমতা প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের।

ভবিষ্যৎ কী বলছে?

এই মুহূর্তে কর্নেল সিকে নাইডু ট্রফিতে না খেলতে পারলেও আয়ুষের কেরিয়ার থেমে যাচ্ছে না। সামনে আরও ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রয়েছে, যেখানে নিয়ম মেনে তাঁর ফেরার সুযোগ তৈরি হবে। বোর্ডের নজরেও রয়েছেন তিনি।

তবে এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল—সাফল্যের পরেও নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই। ভারতীয় ক্রিকেট ব্যবস্থায় প্রতিভার পাশাপাশি নিয়মানুবর্তিতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শেষ কথা

বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হয়েও নিজের রাজ্যে খেলতে না পারার ঘটনা নিঃসন্দেহে আয়ুষ মাত্রের জন্য হতাশার। কিন্তু একই সঙ্গে এটি ভারতীয় ক্রিকেট কাঠামোর কঠোর বাস্তবতাও তুলে ধরেছে। এখন দেখার—এই বাধা কাটিয়ে কত দ্রুত আবার মাঠে নিজের প্রতিভার ছাপ ফেলতে পারেন এই তরুণ তারকা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments