Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeধর্মকথাবাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী কীভাবে ধর্মগুরু হয়ে উঠলেন ?

বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী কীভাবে ধর্মগুরু হয়ে উঠলেন ?

Bageshwar Baba Dhirendra Krishna Shastri : মাত্র ৩০ বছর বয়সে এমন জনপ্রিয়তা—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আজ এক পরিচিত নাম বাগেশ্বর বাবা, অর্থাৎ ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর ভক্তরা দাবি করেন, তিনি মানুষের মনের কথা পড়ে ফেলতে পারেন এবং আধ্যাত্মিক উপায়ে সমস্যা সমাধান করেন। তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, এসবই বিতর্কিত এবং প্রমাণহীন।
তবে যা-ই হোক, অল্প সময়ে দেশে তাঁর যে বিশাল অনুসারী গড়ে উঠেছে, তা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর।


বাগেশ্বর ধাম ও জনপ্রিয়তার উত্থান

মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে অবস্থিত বাগেশ্বর ধাম সরকার—এক আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, যেখানে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম করেন।
এই ধামেই ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী প্রতিদিন ‘দৈব দরবার’ করেন, যেখানে ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাঁদের সমস্যা শোনেন এবং ‘পর্চা’ বা ‘আর্জি’ লিখে দেন। ভক্তদের বিশ্বাস, তিনি কোনও তথ্য না জেনেও মানুষের অতীত বা বর্তমান সমস্যার কথা বলে ফেলেন।

জনপ্রিয়তার সাথে সাথে তাঁকে ঘিরে বিতর্কও বেড়েছে। কেউ তাঁকে আধুনিক যুগের আধ্যাত্মিক গুরু মনে করেন, আবার কেউ তাঁকে ‘গিমিক-ভিত্তিক’ প্রচারের অংশ বলে সমালোচনা করেন।


ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পরিবার ও শৈশব

১৯৯৬ সালের ৪ জুলাই জন্ম নেওয়া ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর শৈশবের নাম ছিল ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ গর্গ।
তাঁর পরিবার মূলত পুরোহিত পরিবারের ঐতিহ্য বহন করে—

  • বাবা: রামকৃপাল গর্গ (পেশায় পুরোহিত)
  • মা: সরোজ গর্গ
  • দাদু: ভগবানদাস গর্গ (একজন সাধু)

ভগবানদাস গর্গ নির্মোহী আখড়ার আশেপাশের এলাকায় ভক্তদের নিয়ে ধর্মীয় সভা করতেন। ছোটবেলা থেকেই ধীরেন্দ্র তার সঙ্গে যেতেন এবং সেখান থেকেই তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের শুরু।
পরবর্তীতে তিনি সেই আসন থেকেই নিজস্ব ‘দৈব দরবার’ পরিচালনা করতে শুরু করেন। এখান থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে।


‘অলৌকিক ক্ষমতা’—ভক্তদের দাবি ও বিতর্ক

ভক্তরা বিশ্বাস করেন—

  • ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী মানুষের মনের কথা পড়তে পারেন,
  • কোনও পূর্ব তথ্য ছাড়াই ভক্তদের সমস্যার কথা লিখে দেন,
  • আধ্যাত্মিক উপায়ে অশুভ শক্তি দূর করতে সক্ষম

একটি অনুষ্ঠানে একজন ভক্তের দেহ থেকে “অশুভ প্রভাব দূর” করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
অন্যদিকে সমালোচকরা বলেন, এগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এবং অনেকটাই নাটকীয়।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি

প্রথমদিকে তাঁর আধ্যাত্মিক আলোচনা ছিল ভক্তি, ধর্ম এবং হনুমান ভজন কেন্দ্রিক।
কিন্তু গত কয়েক বছরে তাঁর ভাষণ ও বক্তব্যে রাজনৈতিক বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি নিজেকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র যোদ্ধা’ বলেও পরিচয় দেন।
তাঁর বক্তব্যগুলির মধ্যে দেখা যায়—

  • ভারতকে হিন্দু জাতি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি
  • ধর্মান্তরকরণ প্রতিরোধে আহ্বান
  • হিন্দুদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা

তাঁর প্রভাব এখন শুধু মধ্যপ্রদেশে সীমাবদ্ধ নয়;
উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও তাঁর ভক্ত সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।


আধ্যাত্মিকতা না বিতর্ক?

ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে কেউ আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক মনে করেন, আবার কেউ তাঁর ক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
প্রমাণ, যুক্তি, বিশ্বাস—সবকিছু নিয়েই চলছে তর্ক-বিতর্ক।
তবে কোনও সন্দেহ নেই, তিনি ভারতীয় আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে এখন একটি বিশিষ্ট নাম, যার জনপ্রিয়তা ও উপস্থিতি দিনে দিনে আরও বাড়ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments